২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ-১৬ এর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর ব্যবহারের ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। খেলার নিয়মের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও, ভিএআর-এর অসঙ্গতিপূর্ণ প্রয়োগই ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মত দিয়েছেন একাধিক সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক।
ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘হয় দুটিই ফাউল ছিল, না হয় কোনোটিই নয়। কিন্তু আমাদের তো বলা হয়েছিল তারা বারবার রি-রেফারিং করবে না।’ তার মন্তব্যে একই ধরনের দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো রেফারিংকে ‘দিনের আলোতে ডাকাতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখা হলেও মিসরের বেলায় একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
মরিনহো বলেন, ‘এই আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে যখন আপনি ২-০ গোলে এগিয়ে থাকবেন, তখনও তা যথেষ্ট নয়। কারণ মাঠে আপনি শুধু ১১ জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলছেন না। আপনাকে লড়তে হচ্ছে রেফারির বাঁশি, ভিএআর রুম এবং টুর্নামেন্টের পুরো স্ক্রিপ্টের বিরুদ্ধে।’
দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি কাসপারভও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে মিসরের অবিশ্বাস্য গোলটি বাতিল করা হলো, অথচ ঠিক তার কয়েক মিনিট পর একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোলটি বাতিল করা হলো না।’ ফিফাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সংস্থাটি তাদের সবচেয়ে বড় তারকাদের সুবিধা করে দিচ্ছে।
এদিকে, বিবিসির ফুটবল সংবাদদাতা ডেল জনসন বলেন, মিসরের গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি ‘এই টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ তার মতে, পুরো ম্যাচে হালকা শারীরিক সংঘর্ষকে উপেক্ষা করা হলেও একটি সাধারণ জার্সি টানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।
ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইটও মিসরের হতাশার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দলের ক্ষুব্ধ হওয়ার ‘শতভাগ অধিকার রয়েছে’ এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।
তবে ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর ব্যবহারের সমালোচনা নিয়ে ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
পাপ্পু/রিফাত/