আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচের পর এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত নাম ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার। মাঠের রেফারিং নিয়ে মিশরীয় শিবিরের ‘পাতানো ম্যাচ’-এর বিস্ফোরক অভিযোগের পর ফুটবল অনুসারীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন- কে এই ফরাসি রেফারি? আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অতীত রেকর্ড কেমন?
ক্যারিয়ারের বড় সাফল্য: ইউরো ২০২৪ ফাইনাল
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে লেটেক্সিয়ারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল জার্মানিতে অনুষ্ঠিত উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে স্পেন বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেই হাই-ভোল্টেজ ফাইনালটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের উয়েফা সুপার কাপে ম্যানচেস্টার সিটি ও সেভিয়ার মধ্যকার ম্যাচ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বহু কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের মতো হাই-প্রোফাইল ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে।
কার্ডের ছড়াছড়ি ও বিতর্কের ইতিহাস
মাঠে শান্ত স্বভাবের হলেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্ড দেখাতে কার্পণ্য করেন না লেটেক্সিয়ার। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ফরাসি লিগে অনেক বড় বড় তারকাকে লাল বা হলুদ কার্ড দেখানোর রেকর্ড রয়েছে তার।
তবে নিখুঁত রেফারিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ফরাসি লিগে পিএসজি কিংবা অলিম্পিক মার্শেইর মতো বড় ক্লাবগুলোর ম্যাচেও তার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অতীতে বিতর্ক হয়েছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপে কেন কাঠগড়ায়?
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পান লেটেক্সিয়ার। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মিশরের একটি গোল বাতিল করা এবং পেনাল্টি বক্সের ভেতর মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করার পরও ভিএআর চেক না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ উগরে দিয়ে রেফারি লেটেক্সিয়ারকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং এই ম্যাচটিকে ‘পাতানো’ বলে আখ্যা দেন।
ইউরো ফাইনালে যে রেফারিকে বলা হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ‘ন্যায়বিচারক’, মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারই এখন ফিফার কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
আজহার/