ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাককানইবি ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক হাতিরঝিলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা আইএসইউতে ওবিই ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও অ্যাসেসমেন্ট রুব্রিক্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সাজেকে আটকা ৬০০ পর্যটক, আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে ৯মাসের শিশুর মৃত্যু প্রথম এআই-চালিত সাইবার হামলা ইউসিবিডির বার্ষিক সমাবর্তনে স্বীকৃতি পেলেন মোনাশ আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক: কী বলছে ফিফার নিয়ম? পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ১০ আগস্ট থেকে চলবে অভিযাত্রী কমিউটার সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কর্মবিরতি ও একাডেমিক শাটডাউন চাঁদপুরে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল নিয়ে ডুবে গেছে কার্গো পাটগ্রামে পাওনা ১০০ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে কোপালেন যুবদল নেতা কিশোরগঞ্জে  লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি, মোবাইল-টাকা লুট মোনাফিকদের চেনার সুনির্দিষ্ট কিছু আলামত হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থা উত্তরণে কৌশল নির্ধারণ জরুরি চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু সিলেটে ৩০ ঘণ্টায় ১২৮.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড দিনাজপুরে টানা বৃষ্টিতে স্থবির জনজীবন আর্জেন্টিনার জয়ের মানসিকতা ও নেইমারকে পারেদেসের বার্তা যুবদল ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: মোনায়েম মুন্না পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি

বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
বাহুবলে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০
ছবিঃখবরের কাগজ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের বাসচালক নিহত হন। এছাড়া লাকি পরিবহনের বাসচালকসহ উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত চালকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি ,চেষ্টা চলছে।

কাজল সরকার/হীরা

বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পৌর এলাকার আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, ব্রিগেড এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, সুয়ালক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ সাঙ্গু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি জমে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বন্যার পানিতে বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনেও অনেক মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ১৪০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার সাত উপজেলায় অন্তত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বান্দরবান সদর উপজেলাতেই রয়েছে ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার জানান, বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনে নদীতে না নামা, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিজভী রাহাত/এসএন

হাতিরঝিলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
হাতিরঝিলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাতিরঝিল লেক থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. আজিম উদ্দিন (৬৫)। পুলিশের ধারণা, পানিতে ডুবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে হাতিরঝিল রেইনবো ক্রসিং সংলগ্ন ১ নম্বর ব্রিজের পাশে লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আজিম পশ্চিম রামপুরা উলন রোডের ৩০৬ শিমুল বাগ এলাকার মো.কফিল উদ্দিনের ছেলে।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম অভি জানান, বুধবার সকালে ডিউটিরত আনসার সদস্যরা লেকের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ কলেজ (ঢামেক) মর্গে দুপুরে দিকে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, লেকের পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

শেখ জাহাঙ্গীর/এএফ

উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এ একটি মহিলা মাদরাসার ওপর ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের সময় মাদরাসাটিতে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছিল। হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদরাসার ওপর পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়ে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা কমিউনিটির লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

উখিয়া ফায়ার সাভির্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। পাহাড় ধসে আনুমানিক অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী চাপা পড়ে আছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

সোহাগ/নাঈম

বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, জোরপূর্বক দোকানে আটকে রাখা এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেন ভুক্তভোগী।

বুধবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন স-মিল ও ইটভাটার মালিক আহসানুল কবির (৬৩)।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ (৪০), মো. মামুন (৩৮), আজিজুর রহমান (৫৫) এবং মো. মিজান মোল্লার (৪৫) বিরুদ্ধে মারপিট, আটক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।

আহসানুল কবির বলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গত ৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর যাওয়ার সময় মাসুদ ও মামুন তার গাড়ির দরজা খুলে তাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন এবং বাকিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে মাসুদ তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দলিলপত্র নেন।

তিনি জানান, তাকে জোরপূর্বক কাপড়ের দোকানে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী থানায় সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া না পেয়ে, মেয়ের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ তার ফাইলটি উদ্ধার করলেও ভেতরে থাকা নগদ টাকা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

আহসানুল কবির বলেন, এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিলেও চার দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আইনি অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

এনকেবি নয়ন/থিওটোনিয়াস/

সাজেকে আটকা ৬০০ পর্যটক, আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
সাজেকে আটকা ৬০০ পর্যটক, আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিতে থাকা রাঙামাটি পৌর এলাকা, রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণদেব বর্মণ বলেন, ‘বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে পানি নেমে গেলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে। তখন পর্যটকেরা গন্তব্যে যেতে পারবেন।’

এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় আজকের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা স্থগিত, প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টিপাতে স্বস্তির খবর দিয়েছে কাপ্তাইয়ে অবস্থিত দেশের একমাত্র কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বাড়ায় উৎপাদন সংকটে পড়া ২৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এতে উৎপাদিত ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৬০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। তবে রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে হ্রদে পানির উচ্চতা থাকার কথা ৮৫ দশমিক ১২ ফুট এমএসএল। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় উপজেলাগুলোর সঙ্গে নৌ যোগাযোগের সংকট কাটতে শুরু করেছে।

তবে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর, পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল এবং জুরাছড়ি উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, জেলায় ৪৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।

রিফাত/