ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয়: সিডিএ চেয়ারম্যান ছায়া বৃক্ষের নীরব বিদায় কাঁচপুর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা, পঞ্চগড়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা পেনাল্টি মিসের কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ব্রুনো গুইমারায়েস টুয়েলভ ক্লদিংয়ে বিশেষ অফার ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার হবে কবে এইউএসটি ও জার্মানির UNU-FLORES-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার জনজীবন সিলেট সীমান্তে জিরা, চা পাতা ও চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাককানইবি ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক হাতিরঝিলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা আইএসইউতে ওবিই ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও অ্যাসেসমেন্ট রুব্রিক্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড বোয়ালমারীতে ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সাজেকে আটকা ৬০০ পর্যটক, আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৪ জন জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে ৯মাসের শিশুর মৃত্যু প্রথম এআই-চালিত সাইবার হামলা ইউসিবিডির বার্ষিক সমাবর্তনে স্বীকৃতি পেলেন মোনাশ আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক: কী বলছে ফিফার নিয়ম? পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ১০ আগস্ট থেকে চলবে অভিযাত্রী কমিউটার সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কর্মবিরতি ও একাডেমিক শাটডাউন চাঁদপুরে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল নিয়ে ডুবে গেছে কার্গো পাটগ্রামে পাওনা ১০০ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে কোপালেন যুবদল নেতা

উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
উখিয়ায় মাদরাসার উপর পাহাড়ধস, কয়েকজনের মৃত্যুর শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এ একটি মহিলা মাদরাসার ওপর ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদ্রাসার ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের সময় মাদরাসাটিতে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করছিল। হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদরাসার ওপর পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকা পড়ে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা কমিউনিটির লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

উখিয়া ফায়ার সাভির্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। পাহাড় ধসে আনুমানিক অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী চাপা পড়ে আছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

সোহাগ/নাঈম

নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয়: সিডিএ চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয়: সিডিএ চেয়ারম্যান
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করছেন। ছবি: খবরের কাগজ

নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। 

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা আমাদের কাজ নয়। অবকাঠামো উন্নয়ন করাই আমাদের কাজ। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে এ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে না দিয়ে সিডিএকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের কাজ পরিচালনার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নেই। তাই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় সেনাবাহিনীর কাছে। 

ভারী বৃষ্টিপাতের পরও অনেক এলাকায় দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের পরও অনেক এলাকায় দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। বাকি পাঁচটি খালের কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজরা খালের কাজ ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। 

ড্রেনে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ড্রেনে পলিথিন, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিডিএ ও সেনাবাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

এসময় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সিডিএর ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

 

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা, পঞ্চগড়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা, পঞ্চগড়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পোস্টার টানানোর অভিযোগে পঞ্চগড়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিবোর্ড বাজার সংলগ্ন এলাকায় পোস্টার লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড় সদর থানায় গত ৩ জুলাই সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন কুমার রায় বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকলেছার রহমান রেজা (৪০), নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান সাদিক পাটোয়ারী প্লাবন (৩২), পৌর কৃষক লীগের সভাপতি আকতারুন নাহার সাকী (৫৫), সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়র্ডের সাবেক সাইদুর রহমান (৪০), ৫ নম্বর সাবেক কাউন্সিলর ও সভাপতি পৌর যুবলীগ হাসনাত মো হামিদুর রহমান (৩৫), সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম ওরফে মুন্না (৩৭), সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ লায়ন (৪২), জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম (৪২), জেলা যুবলীগ সদস্য আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩৬), পঞ্চগড় সদর ইউপি মৎসজীবী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন (৩৪), সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান (২৬), সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবীব (২০), অমরখানা ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি  মো. নাহিদ হাসান কাজল (২৪), সাধারণ সম্পাদক মোঃ বুললা (২৩), অমরখানা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান ডালু (৩২), সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আতাউর রহমান রঞ্জু (৩৫), পৌর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর (৩০), সদর উপজেলা ধাক্কা মারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য মো. মোজাহার হক মেম্বার (৪০), চাকলাহাট ইউপি যুবলীগ সভাপতি কাওছার ইসলাম কাচু (৩৬), জেলা ছাত্রলীগ সদস্য মো. জনি (৩০), জেলা যুবলীগ সদস্য আনারুল (৪০), আনারুল (৪০) এবং , বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  মোনায়েম প্রধান নিলয় (২৮)। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নের হেলিবোর্ড বাজার সংলগ্ন শিংপাড়া স্কেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নামফলকের মাঝখানে, পরিত্যক্ত স্কেল লোড অফিসের গেটে এবং লোহার তৈরি ত্রিভুজ আকৃতির ট্রাফিক সিগন্যালের মাঝখানে মোট তিনটি রঙিন পোস্টার আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে।

খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্দেশে এসআই মো. আসাদুজ্জামান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোস্টারগুলোর সত্যতা পান। পরে পোস্টারগুলো জব্দ করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পোস্টারগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা-এর ছবি এবং নৌকা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া পোস্টারে "২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী", "জয় বাংলা", "জয় বঙ্গবন্ধু"সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। পুলিশ দাবি করেছে, এসব পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম প্রচার ও সমর্থনের উদ্দেশ্যে লাগানো হয়েছে।

এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পঞ্চগড় সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পোস্টার লাগানোর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: রনি মিয়াজী/এসএন

উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার জনজীবন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার জনজীবন
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিপাত এবং উত্তাল নদ-নদীর প্রভাবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কয়েকদিন ধরে হাতিয়া-মূল ভূখণ্ড নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় আট লাখ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং দিনমজুররা।

হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে বৈরি আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল- চরঘাসিয়া, ঢালচর, জাঙ্গলার চর ও নিঝুমদ্বীপের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া সুখচর ইউনিয়ন ও চরইশ্বর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

যদিও কিছু ট্রলার ও সি-ট্রাক সীমিত আকারে চলাচল করছে, তবে ফেরি বন্ধ থাকায় ভারী যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নলচিরা, চেয়ারম্যানঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে শতাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় কাজে মূল ভূখণ্ডে যেতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল ও অপরিকল্পিত ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। কয়েকদিন ধরে কাজ না থাকায় অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নলচিরা ইউনিয়নের দিনমজুর সৌরাভ হোসেন বলেন, প্রতিদিন কাজ করলে তবেই পরিবারের জন্য খাবার কিনতে পারি। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর ফেরি বন্ধ থাকায় কোনো কাজ নেই। এখন সংসার চালানো খুবই কষ্ট হয়ে গেছে।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের নির্মাণশ্রমিক মো. আমির হোসেন বলেন, মূল ভূখণ্ডে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল। ফেরি বন্ধ থাকায় যেতে পারিনি। কয়েকদিন ধরে ঘরে বসে আছি। হাতে কোনো আয় নেই, অথচ সংসারের খরচ থেমে নেই।

জাহাজমারা ইউনিয়নের দিনমজুর জাকের হোসেন বলেন, “আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের একদিন কাজ না থাকলেই সমস্যা হয়। কয়েকদিন ধরে আয় বন্ধ থাকায় ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে। দ্রুত ফেরি চালু হলে আমরা আবার কাজে ফিরতে পারব।

বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ জেলে ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছেন। ফলে স্থানীয় মৎস্য খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং বাজারে মাছের সরবরাহেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

নলচিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন দ্রুত ফেরি চলাচল চালু করা প্রয়োজন। তা না হলে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন,আবহাওয়া ও নৌপথ নিরাপদ হলেই ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। একই সঙ্গে বৈরি আবহাওয়া চলাকালে অপ্রয়োজনে নৌপথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হানিফ উদ্দিন সাকিব/এসএন

সিলেট সীমান্তে জিরা, চা পাতা ও চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
সিলেট সীমান্তে জিরা, চা পাতা ও চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অভিযানে জব্দ করা ভারতীয় জিরা ও চা-পাতা

সিলেট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে ভারতীয় জিরা, চা-পাতা, চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানের পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত তিনটি পিকআপও জব্দ করা হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ১৯ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীবাজার বিওপির পৃথক বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ২০০ কেজি ভারতীয় জিরা, দুই হাজার কেজি চা পাতা এবং চোরাচালানি কাজে ব্যবহৃত তিনটি বাংলাদেশি ডিআই পিকআপ জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মালামাল ও যানবাহনের মোট সিজারমূল্য এক কোটি চার লাখ টাকা।

এ ছাড়া বুধবার পৃথক আরেক অভিযানে সিলেটের জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জৈন্তাপুর, সুরাইঘাট ও লোভাছড়া বিওপির পৃথক আভিযানিক টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় ৭১৮ কেজি ভারতীয় চিনি, একটি মহিষ, ১০২ কেজি চা পাতা এবং ৮৬ বিরা পান জব্দ করে।

এসব মালামালের মোট সিজারমূল্য তিন লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকা।

দুই দিনে পৃথক অভিযানে মোট এক কোটি সাত লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ করা হয় বলে জানায় বিজিবি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা মালামাল কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অমিয়/

বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পৌর এলাকার আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, ব্রিগেড এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, সুয়ালক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ সাঙ্গু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি জমে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বন্যার পানিতে বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনেও অনেক মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ১৪০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার সাত উপজেলায় অন্তত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বান্দরবান সদর উপজেলাতেই রয়েছে ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার জানান, বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনে নদীতে না নামা, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিজভী রাহাত/এসএন