ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এনসিপি নেতা নিহত ভোলাহাটে তহসিলদারের ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল বরগুনায় সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎহীন ৬৭ হাজার গ্রাহক রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা বরিশালে মাছের এলাকায় মাছের দাম চড়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে সমর্থকদের উল্লাস সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় নামানোই ছিল সুইজারল্যান্ডের জয়ের মূল চাবিকাঠি চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ

৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

 

ফজর (৯ জুলাই)

.৫২ মিনিট

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাহাবিদের গল্প-০৬ নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ এএম
নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি
ছবি: সংগৃহীত

রাত গভীর। মক্কার একটি ঘর ঘিরে রেখেছে উন্মুক্ত তরবারি হাতে কুরাইশের বাছাই করা যুবকরা। প্রতিটি গোত্র থেকে একজন–যেন হত্যার রক্ত ভাগ হয়ে যায় সবার মধ্যে, আর বনু হাশিম কারও কাছে প্রতিশোধ নিতে না পারে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত, ভোর হলেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করা হবে।
ঘরের ভেতরে বিছানায় শুয়ে আছেন একজন, গায়ে নবিজির সবুজ চাদর। ঘাতকরা ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে নিশ্চিন্ত, শিকার বিছানাতেই আছে।

কিন্তু সেই বিছানায় নবিজি নেই। আছেন এক তরুণ, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। নবিজি তাকে দুটি দায়িত্ব দিয়ে হিজরতের পথে বেরিয়ে গেছেন। তার বিছানায় শুয়ে থাকা, আর মানুষের গচ্ছিত আমানতগুলো ফিরিয়ে দেওয়া।

সিরাতে ইবনে হিশামে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ এসেছে; মুসনাদে আহমাদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার দীর্ঘ বর্ণনায়ও হিজরতের রাতে আলীর নবিজির বিছানায় শয়নের উল্লেখ রয়েছে। (পাঠকের জন্য স্বচ্ছতা: এটি মূলত সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থের বর্ণনা; বিস্তারিত খুঁটিনাটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের আলোচনা আছে, তবে মূল ঘটনাটি সিরাত-গবেষকদের কাছে স্বীকৃত)

ভাবুন তো সেই রাতের কথা। তরবারিগুলো যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে, আর সেগুলোর নিচে শুয়ে আছেন মাত্র বিশের কোঠার এক তরুণ। কীসের জোরে? ভালোবাসার জোরে। আনুগত্যের জোরে। এই বিশ্বাসের জোরে যে, আল্লাহর রাসুল যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাতে কল্যাণ ছাড়া কিছু নেই।

আর লক্ষ করুন দ্বিতীয় দায়িত্বটি, আমানত ফেরত দেওয়া। যারা নবিজিকে হত্যা করতে চাইছে, সেই মক্কাবাসীরাই নিজেদের মূল্যবান সম্পদ গচ্ছিত রাখত তারই কাছে! শত্রুও জানত, ‘আল-আমিন’-এর চেয়ে নিরাপদ হাত আর নেই। মৃত্যুর হুমকির মুখেও ইসলাম শেখায়, আমানতের খেয়ানত নয়।

আজ আমরা সামান্য ঝুঁকিতেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাই, আর সুযোগ পেলেই আমানতে শিথিল হই। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই রাত শেখায়; ভালোবাসার দাবি মুখে নয়, ঝুঁকি নেওয়ায়, আর ঈমানের সৌন্দর্য আমানতদারিতায়। হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে আপনার রাসুলের জন্য সেই ভালোবাসা দিন, যা আমাদের দায়িত্বশীল ও আমানতদার বানায়। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, শীর্ষে কোন বিভাগ?

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, শীর্ষে কোন বিভাগ?
মদিনা মসজিদ, ময়মনসিংহ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি মসজিদ রয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির সমন্বয় বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক দাপ্তরিক তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজি‌দ রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মোট মসজিদের সংখ্যা ৭১ হাজার ৫৯৬টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে মসজিদের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৭০৩টি।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৪৫ হাজার ৮৭৯টি, রংপুর বিভাগে ৪৫ হাজার ৭৯২টি, বরিশাল বিভাগে ৩৫ হাজার ৬৯১টি, খুলনা বিভাগে ৩৪ হাজার ৫৮৬টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ হাজার ২১২টি এবং সিলেট বিভাগে ২২ হাজার ৬টি মসজিদ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আলাদা করে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এ দাপ্তরিক তথ্যে উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তারেরও স্বাক্ষর রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জরিপের বাইরে রয়ে গেছে অনেক মসজিদের তথ্য।

এর আগে ২৫ জুন (২০২৬) জাতীয় সংসদে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মোয়াজ্জিন কর্মরত, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে ২০২০ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫। সেই হিসাবে ইমাম ও মোয়াজ্জিনের সংখ্যা ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ হতে পারে।

এসএন/

৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

 

ফজর (৯ জুলাই)

.৫২ মিনিট

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
নামাজের শেষ মুহূর্তের এক মহামূল্যবান সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে প্রিয় কোনো মানুষের সামনে দাঁড়ালে আমরা কত কথাই না বলতে চাই! মনের ভেতরের জমে থাকা কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া কিংবা গোপন অভিমানগুলো উজাড় করে দিতে মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অথচ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্রাট, আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সামনে আমরা দৈনিক পাঁচবার দাঁড়াই। কিন্তু আফসোস, সালাম ফিরিয়েই আমরা বড্ড তাড়াহুড়ো করে জায়নামাজ ছেড়ে দিই।

আমরা কি জানি, নামাজের ভেতরেই এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ রয়েছে, যখন মহান আল্লাহ বান্দার মনের যেকোনো বৈধ চাওয়া পূরণ করতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? সেটি হলো–নামাজের শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর ঠিক পূর্বমুহূর্ত।

সালাম ফেরানোর আগে নিজের পছন্দমতো দোয়া করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য ও অবহেলিত সুন্নাহ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে নামাজ পড়তাম (তখন তিনি তাশাহহুদের নিয়ম শেখাতেন)। শেষে বললেন, অতঃপর (তাশাহহুদ ও দরুদের পর) প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো দোয়া বেছে নিয়ে দোয়া করবে। (বুখারি, ৮৩৫)

অনেকেই মনে করেন, নামাজের ভেতরে শুধু নির্দিষ্ট আরবি দোয়াই পড়তে হবে। কিন্তু এই হাদিসটি আমাদের শেখায় যে, তাশাহহুদ ও দরুদ পাঠের পর বান্দা তার ইহকাল ও পরকালের যেকোনো কল্যাণকর বিষয় আল্লাহর কাছে চাইতে পারে। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়ার পাশাপাশি নিজের মনের আকুতিগুলো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে পেশ করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

ব্যস্ত এই জীবনে আমাদের চাওয়ার শেষ নেই–কারও প্রয়োজন রিজিকের বরকত, কারও মনের শান্তি, আবার কারও বা মা-বাবার সুস্থতা। এসব চাওয়া পূরণের জন্য নামাজের শেষের এই সময়টুকু এক মোক্ষম সুযোগ। তাই আসুন, নামাজের শেষ বৈঠকে তড়িঘড়ি না করে, অন্তত কয়েকটা মিনিট সময় নিয়ে হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। সুন্নাহর এই সুন্দর আমলটি আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
‘আল্লাহ কোথায় আছেন?’
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভুলের জন্য কি অনুশোচনায় আপনার বুকটা কখনো ভেঙে এসেছে? মনে হয়েছে, ইশ! যদি অতীতটা বদলে দেওয়া যেত! সাহাবি মুয়াবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রা)-এর জীবনেও তেমন একটা মুহূর্ত এসেছিল, যখন তিনি রাগের মাথায় নিজের দাসীকে আঘাত করে বসেন। এই ভুলের কাফফারা হিসেবে তিনি তাকে মুক্ত করতে চাইলেন।

কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) মুক্তির আগে দাসীটির ঈমান পরীক্ষা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কোথায় আছেন? দাসীটি হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলল, আকাশে। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন বললেন, ওকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনা। (আবু দাউদ, ৩২৮২)।

এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সামনে এক অনন্য ও জীবন্ত সুন্নাহর দুয়ার খুলে দেয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখন চারপাশের মানুষের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু এই হাদিস আমাদের শেখায়, আমাদের সমস্ত আকুতি, আশা আর ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঊর্ধ্বমুখী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে বলতেন, অর্থাৎ পবিত্র মহান আমার রব, যিনি সর্বোচ্চ (মুসলিম)। যখনই কোনো মজলুমের চোখ থেকে জল ঝরে, সে কিন্তু আকাশের দিকেই তাকায়। কারণ, মানব ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবই বলে দেয়–সাহায্য ওপর থেকেই আসে।

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেওয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ? (সুরা আল-মুলক, ১৬)।
এই সুন্নাহর বাস্তব আমল হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে, আমার রব আরশের ওপর সমুন্নত থেকে আমাকে দেখছেন (বুখারি, ৭৪৫৩)।

কষ্টের মুহূর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে, হাত দুটো ওপরে তুলে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করাই হলো রাসুলের শেখানো পথ। এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে জীবনের প্রতিটি সংকটে আকাশের মালিকের দিকেই মুখ ফিরাই।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক