ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ৬০ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পেল ব্র্যাক ব্যাংক ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম: মেসি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস বেরোবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অর্থ মন্ত্রনালয় ও যমুনা ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল ফটিকছড়িতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতা প্রিমিয়াম সুবিধা নিয়ে চাঙ্গানের সিএস৭৫ প্রো এসইউভি এখন বাংলাদেশে মেসিদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এনসিপি নেতা নিহত ভোলাহাটে তহসিলদারের ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল বরগুনায় সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎহীন ৬৭ হাজার গ্রাহক রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা বরিশালে মাছের এলাকায় মাছের দাম চড়া রুদ্ধশ্বাস জয়ে আর্জেন্টিনা, মৌলভীবাজারে সমর্থকদের উল্লাস সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় নামানোই ছিল সুইজারল্যান্ডের জয়ের মূল চাবিকাঠি চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন ইরানে শক্তিশালী বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ খামেনির শোকের মাঝে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল, অক্টোবরে শুরু ইউপি নির্বাচন: ডা. জাহেদ বড় মূলধনি শেয়ারে পতন, কমেছে সূচক ও লেনদেন

ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ডুবিসায়বর হাট প্রাথমিক বিদ্যালয়: আবর্জনার কারণে কমছে শিক্ষার্থী
আবর্জনার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে নাক-মুখ চেপে স্কুলে যাচ্ছে শরীয়তপুরের ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা/ খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের জাজিরায় আবর্জনার ভাগাড়ের কারণে একটি বিদ্যালয়ের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ নাক চেপে, কেউ মুখে রুমাল ধরে ক্লাস করে। অবস্থা এতই ভয়াবহ যে, শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে পাঠদান করাতে হয়। এতেও নিস্তার মেলে না। আবর্জনা পচা গন্ধে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। কেউ বমি করে, কারও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, একাধিকবার নিষেধ করার পরও পার্শ্ববর্তী বাজারের ময়লা ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না। সাইনবোর্ড টাঙানোর পরও স্থানীয়রা এখানে এসে মূত্রত্যাগ করে। 

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের কাজিরহাট ডুবিসায়বর বন্দর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষক ও ২৩৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর থেকেই আশপাশে ও মাঠসংলগ্ন এলাকায় হাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। পরে চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও বিদ্যালয়ের পেছনের অংশ স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়। বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের এই দুর্গন্ধের মাঝেই ক্লাস করতে হয়। অনেক সময় দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে, শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে পাঠদান করান।

তবে গরম বাড়লে রোদের তাপে আবর্জনা দ্রুত পচে যায়, তখন ক্লাসের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও নিস্তার মেলে না। শিক্ষার্থীদের কেউ হাত দিয়ে নাক চেপে, কেউ রুমাল ব্যবহার করে ক্লাস করে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাকে স্কুল ছেড়ে বাড়ি যেতে হয়। আবর্জনার গন্ধ শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমে কমছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস চলছে। অনেক শিক্ষার্থী জানালার পাশের বেঞ্চ এড়িয়ে অন্যগুলোতে বসে আছে। বিদ্যালয়ের পেছনে ‘প্রসাব করা নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও স্থানীয়রা তা মানেন না। একাধিক ব্যক্তিকে তখন মূত্রত্যাগ করতে দেখা যায়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান বলে, ‘যখন জানালা খোলা থাকে তখন আমাদের ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হয়। আশপাশের ও বাজারের মানুষ আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা ফেলেন। আমরা দুর্গন্ধের নাক চেপে ক্লাস করি। গন্ধের কারণে মাঝেমধ্যে আমাদের অনেক বমি হয়, মাথা ঘোরে।’

তাসফিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘গন্ধের কারণে সবসময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এমন দুর্গন্ধের কারণে আমাদের অনেক বন্ধু এই স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে চলে গেছে। আমরা চাই এখান থেকে ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়া হোক।’  

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষকদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নবনীতা দাস বলেন, ‘ময়লার গন্ধে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া যায় না। রোদ বা বৃষ্টির সময় দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও যেখানে এই পরিবেশ সহ্য করতে পারি না, সেখানে ছোট শিশুদের জন্য এটি কতটা ভয়াবহ, তা সহজেই বোঝা যায়। স্কুল থেকে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।’

প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগে বলেন, ‘এই ভাগাড়ের কারণে শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে এখানে ভর্তি করাতে চান না। যারা অন্য স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য রাখেন না, তারাই বাধ্য হয়ে এখানে সন্তানদের পাঠান। বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।’

এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টির দূষিত পরিবেশ শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বার্থে দ্রুত ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব।’

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। যদি বাস্তব চিত্র এমন হয়, তাহলে এটি দুঃখজনক। আমি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
টানা ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে দ্বীপের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিয়ে টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ায় সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। এতে তাদের জীবিকাও ব্যাহত হচ্ছে।
 
সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়েছে। বড় বড় ঢেউ একের পর এক দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে।

একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানিতে দ্বীপের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরাও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সেন্টমাটিন সাভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। সতক সংকেত কেটে গেলে পুনরায় ট্রলার চলাচল শুরু হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সেন্টমার্টিনে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপে অনেক বাড়িঘর ডুবে গেছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারনে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।  ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

রিফাত/

মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
মেহেরপুরে চুরি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার
ছবিঃখবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা গ্রামে চুরির ভয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ৬ জুলাই মামলা করা হয়। মামলার বাদী মুন্দা মাঝের গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নার্গিস বানু (৪৬)।

জানা যায়, প্রবাসী ছেলে মো. শাহীনের নির্মাণাধীন বাড়িতে টাইলসের কাজ চলছিল। বাড়ির বাইরে শ্রমিক থাকায় নিজের ও দুই মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা , একটি প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে পলিথিনে মোড়িয়ে বাড়ির উঠানের দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন তিনি।

গত ৫ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাইলস মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর মাটি খোঁড়া দেখতে পেয়ে সেখানে রাখা স্বর্ণালংকার আর খুঁজে পাননি। পরে বিষয়টি কুয়েতপ্রবাসী ছেলে শাহীনকে জানালে তিনি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন টাইলসের কাজ করা দুই মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে নিজেদের মধ্যে কথা বলে সেগুলো নিয়ে বাড়ির পেছনের দিকে চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই মিস্ত্রি মোমিন খান (৩৬) ,আলাল (২২) শনাক্ত করেন।

পরে গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মো. আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ২টি নেকলেস, ৩ জোড়া কানের দুল, ১টি বেসলেট, ৩টি চেইন, ১টি লকেট, ৭টি বালা ও ১টি বেঙ্গল বালা উদ্ধার করা হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তারেক/হীরা/

বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বাউফলে উদ্বোধনের আগেই কোটি টাকার সেতুতে ফাটল
ছবি: খবরের কাগজ

পটুয়াখালীর বাউফলে পশ্চিম নুরাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ শুরু হলে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হয়।

বাউফল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সূত্রে জানাগেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৯ টাকা ব্যয়ে পশ্চিম নুরাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রুকাইয়া ট্রেডার্স’। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধিনে নির্মাণাধীন ওই ব্রিজের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কারণে নুরাইপুর বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেতুটির মূল অংশের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সম্প্রতি এ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। পশ্চিম তীরের একাংশ ধস একদিকে হেলে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে উভয় তীরের স্থাপনায়। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ওই ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ছাড়াও সেতুর উপরের অংশে লোহার রড বেড়িয়ে রয়েছে যা মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির ব্যাপারী জানান, ব্রিজের সম্পূর্ণ ঢালাই পাথরের হওয়ার কথা থাকলেও নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। যার ফলে বিভন্ন জায়গায় ফাটল ও ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সানু হাওলাদার নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, ’গত ৩-৪ বছর ধরে কাজটি এভাবে পড়ে আছে। পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।’

মেসার্স রুকাইয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রফিক সিকদার বলেন, বিষয়টি আমি জানি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাত-দিন করে মাটি ফেলার কারণে একটু ঝামেলা হচ্ছে তবে আমি দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। সাব কন্ট্রাক্টর দিয়ে কাজ করিয়েছি সে জন্য একটু এদিক সেদিক হয়েছে।

কাজ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা এখনও কেন শেষ হয়নি জানতে চাইলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ’আমার পারিবারিক ঝামেলার কারণে কাজটা কিছুটা আটকে গিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগের তদারকি কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অবহিত আছি ওখানের রির্টানিং ওয়াল ভেঙে পড়েছে। ওটা ঠিক করে দেওয়াসহ পুরো কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারকে।’

মশিউর মিলন/খাদিজা রুমি/

পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে উত্তরপত্র জমা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার উত্তরপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে না লিখে শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার অনুরোধ জানানো ওই উত্তরপত্রটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরীক্ষার খাতার ছবিসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানা যায়।

পোস্টে তিনি লেখেন, আমার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর উত্তরপত্রের অবস্থা দেখুন। এরপরই সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া উত্তরপত্রে দেখা যায়, নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থী অসংলগ্ন কিছু বাক্য লিখেছে। পাশাপাশি ভুল বানানে শিক্ষককে ‘আব্বু’ সম্বোধন করে নম্বর দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই শিক্ষার্থীর ভাষাগত ও মৌলিক শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ ন ম হাসান খবরের কাগজকে বলেন, একটিমাত্র উত্তরপত্রের ভিত্তিতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়। তবে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের আরও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা শিক্ষক জানান, কাউকে ছোট বা বিব্রত করার উদ্দেশ্যে এটি শেয়ার করা হয়নি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি নিয়ে সচেতনতা তৈরিই ছিল তার উদ্দেশ্য।

হানিফ উদ্দিন/থিওটোনিয়াস/

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ এএম
বৃষ্টিতে দুর্ভোগ, চার দিন বন্ধ হাতিয়ার ফেরি চলাচল
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে নদী উত্তাল থাকায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে গত চার দিন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই পাড়ে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া আসামি তিন-চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে। জেলার নদী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে দ্বীপের সাত লাখ লোক বন্দি হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে সীমিতভাবে সি-ট্রাক ও ট্রলার চলাচল করলেও গত চার দিন পরিবহন পারাপারের ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্যবাহী যানবাহ আটকে চরম দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। 

চেয়ারম্যান ঘাটে আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিক আবদুল লতিফ খবরের কাগজকে বলেন, গত চার দিন ফেরি বন্ধ থাকায় হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট ও ওপারে নলচিরা ঘাটে শত শত পণ্যবাহী যান বাহন আটকা পড়েছে। এতে কাঁচা মালামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মো. আবু নোমান নামে এক ট্রাক শ্রমিক খবরের কাগজকে বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় থাকার কোনো সুব্যবস্থা নাই। এতে ঘুমে এবং পানিনিষ্কাশনে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যানবাহনে চালক ও সহকারীরা।

হাতিয়া উপকূলীয় নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ খবরের কাগজকে জানান, লঘুচাপের প্রভাবে নদী অতিরিক্ত উত্তাল রয়েছ এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেরির পন্টুন ডুবে গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষার স্বার্থেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যবাহী গাড়িগুলো পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে আমান বীজতলা বপনে চরম বিপাকে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

কবিরহাট উপজেলার কৃষক আবদুল মতিন বলেন, এ উপজেলার মরার উপর খাঁড়ার ঘা নোয়াখালী খালে রিকশাওয়ালার দোকান এলাকায় দেওয়া বাঁধ। এ বাঁধ অপসারণ না করলে অল্প বৃষ্টিতে পুরো জেলা আবারও জলমগ্ন হয়ে বন্যা দেখা দিবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল বলেন, জেলাবাসীকে জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ দিতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে বামনী নদীতে ক্লাজার বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই নবনির্মিত বামনী রেগুলেটর খুলে দিয়ে রিকশাওয়ালার দোকানের বাঁধ অপসারণ করা হবে।

মজনু/রিফাত/