রুদ্ধশ্বাস আর নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল করে অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের জয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা চত্বর।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে খেলা শেষে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা চৌমোহনায় জড়ো হন। হাতে পতাকা, গায়ে জার্সি, আর মুখে প্রিয় দলের জয়ধ্বনি; সব মিলিয়ে শহরের পরিচিত ব্যস্ত চত্বরটি যেন কিছু সময়ের জন্য হয়ে ওঠে উৎসবের মঞ্চ।
এদিকে খেলা শুরুর পর মিশর দুই গোলে এগিয়ে গেলে কিছুটা হতাশায় পড়েছিলেন সমর্থকরা। তবে শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানোয় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
উল্লাসে অংশ নেওয়া সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্জেন্টিনার এই জয় তাদের জন্য ছিল বিশেষ আবেগের।
কলেজপড়ুয়া সালমান হাবিব বলেন, ‘ম্যাচের শুরু থেকেই আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। শেষ বাঁশি বাজার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, সোজা চলে এসেছি এখানে।’
সমর্থক জুয়েল খান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ছিল আমরা ফিরে আসব। জয় পাবো। এমন ম্যাচ বারবার আসে না।’
শিক্ষার্থী মো. হাসানুল বলেন, ‘এ এক অবিশ্বাস্য জয়। আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সেরা দল তারাই।’
ব্যবসায়ী রাশেদ আহমেদ বলেন, ‘মনে হচ্ছিল, আজ আর হবে না। কিন্তু এই দলটা শেষ পর্যন্ত লড়ে টিকে গেল, তা অবিশ্বাস্য।’
প্রবীণ সমর্থক আখলাক হোসেন বলেন, ‘ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটা আবেগের জায়গা। আর্জেন্টিনার জয় মানে আমাদের আনন্দ। এই আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করতেই এখানে আসা।’
সমর্থকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চৌমুহনা চত্বর পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়, যেখানে জয়-উল্লাসে মিলেমিশে যায় প্রজন্ম, পেশা আর পরিচয়ের ভিন্নতা।
পুলক পুরকায়স্থ/রিফাত/