বিএনপি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে নারী শিক্ষার আরও বিস্তার এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে অনার্স (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীরা সরাসরি অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার পাশাপাশি যে-সব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তি চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত হবে।
মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ প্রদান করা হবে।
তিনি জানান, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার এবং এসব বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পর্যায়ক্রমে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এলিস/নাঈম