চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে। দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের চিত্রটি চেনা। বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপের আধিপত্য এখনও অটুট রয়েছে।
রাউন্ড অব ১৬-এর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষ হয়েছে। শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আটটি দল। এরা হলো- ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই তালিকায় ছয়টি দলই ইউরোপের। একটি আফ্রিকার এবং একটি দক্ষিণ আমেরিকার দল। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে ইউরোপীয় শক্তির আধিপত্য স্পষ্ট।
কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে ফ্রান্স। তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনোদ্ধার করা। অন্যদিকে দারুণ ছন্দে রয়েছে স্পেন। তরুণ তারকাদের নিয়ে তারা নান্দনিক ফুটবল খেলছে। স্পেন এবার অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ আটে উঠে ইউরোপের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
তবে ইউরোপের এই আধিপত্যের মাঝেও আলো ছড়াচ্ছে মরক্কো। তারা আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে মরক্কো ইতিহাস গড়েছিল। এবারও তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। পুরো আফ্রিকা মহাদেশের আশা এখন তাদের কাঁধে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা। ইউরোপীয় শক্তির ভিড়ে একাই লড়ছে আলবিসেলেস্তেরা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য নতুন কিছু নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও শেষ আটে ছিল ছয়টি ইউরোপীয় দল। সেগুলো ছিল ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও সুইডেন। বাকি দুটি দল ছিল ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। সেবার কোনো আফ্রিকান দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি।
একই চিত্র দেখা গিয়েছিল ২০০৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও। দুটি আসরেই শেষ আটে ছিল ছয়টি ইউরোপীয় ও দুটি দক্ষিণ আমেরিকান দল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইউরোপের আধিপত্য ছিল আরও বেশি। সেবার শেষ আটের সাতটি দলই ছিল ইউরোপের। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ব্রাজিল, যারা পরে শিরোপা জিতেছিল।
পাপ্পু/নাঈম