বর্তমান আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ বা ‘শূন্য রিটার্ন’ বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান বা শব্দ নেই। অথচ আমাদের দেশের করদাতাদের মধ্যে ‘জিরো রিটার্ন’ শব্দটির প্রচলন এবং জনপ্রিয়তা ব্যাপক। আইনে বিধান না থাকলেও বাস্তবে অগণিত ট্যাক্স ফাইলে এর অবাধ প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ প্রতিনিয়ত লক্ষ করা যাচ্ছে।
এই তথাকথিত জিরো রিটার্নের ফাইলগুলোর ভেতরে তাকালে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ ফাইলেই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য বা যৌক্তিক মিল নেই; আয় ও ব্যয়ের খাতগুলো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং ধোঁয়াশাপূর্ণ। বিনিয়োগের খাতগুলো যেমন পূর্ণতা পায়নি, ঠিক তেমনি সম্পদ ও দায়ের ঘরগুলোও অলংকৃত হয়ে আছে শূন্যতায়। নিয়মতান্ত্রিক বিনিয়োগ বা সঠিক হিসাবের অভাব থাকায় কর রেয়াতের সুবিধা তো হাতছাড়া হয়েই গেছে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রদত্ত করের পরিমাণও যথারীতি শূন্য! মূলত, এই হচ্ছে আমাদের দেশের সিংহভাগ জিরো রিটার্নের প্রকৃত হালচাল। প্রশ্ন উঠতেই পারে–এই দায়সারা ও ত্রুটিপূর্ণ ফাইলগুলো কারা তৈরি করছেন, আর কেনই বা তৈরি করছেন? আসল কথা হলো, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অনলাইনের যুগে এই ফাঁকিবাজি আর চলবে কতদিন?
পলাশ কুণ্ডু
আয়কর আইনজীবী ও সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন
[email protected]