ধরুন, আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক মিটিংয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কথা বলছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে যদি বারবার কেউ আপনার ও সামনের ব্যক্তির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করে, তবে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই বিরক্ত হবেন এবং মনোযোগের সুতোটা ছিঁড়ে যাবে।
অথচ মহাবিশ্বের মহান প্রতিপালক আল্লাহর সঙ্গে যখন আমরা নামাজে কথোপকথন করি, তখন আমাদের মনোযোগের দিকে কতটা খেয়াল রাখি? নামাজে দাঁড়ানোর পর সামনে দিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত আমাদের একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়। আর এই যান্ত্রিক ও অসচেতনতার যুগে মনোযোগের এই বিঘ্নতা থেকে নামাজকে সুরক্ষিত রাখার এক জাদুকরী সুন্নাহ হলো–সুতরা ব্যবহার করা।
নামাজের সামনে কোনো প্রতিবন্ধক রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য সুন্নত। হজরত মুসা ইবনে তালহা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজের সামনে বাহনের জিনের পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু রেখে নিয়ে নামাজ পড়লে সামনের দিকে কেউ অতিক্রম করলে তার কোনো পরোয়া করার দরকার নেই। (মুসলিম, ৪৯৯)
‘সুতরা’ হলো এমন একটি বস্তু, যা সামনে রেখে একজন মুসল্লি নামাজে দাঁড়ান। এটি হতে পারে মসজিদের দেয়াল, কোনো খুঁটি, কাঠের টুকরো কিংবা অন্য যেকোনো জিনিস। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই সুতরার উচ্চতা কমপক্ষে প্রায় ১২ ইঞ্চি বা এক ফিট পরিমাণ হওয়া উচিত।
আমরা যখন ঘরে, অফিসে বা কোনো খোলা জায়গায় একা নামাজে দাঁড়াই, তখন সামান্য অবহেলার কারণে অনেকেই সুতরা দিতে ভুলে যাই। ফলে সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে আমাদের গুনাহ না হলেও, যিনি পার হন তার কঠিন গুনাহ হয়।
সুতরা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যেমন নিজের নামাজের একাগ্রতা বজায় রাখতে পারি, তেমনি অন্য কোনো মুসলিম ভাইকেও গুনাহের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। আসুন, নামাজের মতো পরম ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে এবং প্রিয় নবির এই হারিয়ে যাওয়া সুন্নতকে বাঁচিয়ে তুলতে আজ থেকেই সুতরা ব্যবহারে সচেতন হই।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক