দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত
বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র-নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম থাকবে, যাতে বজ্রঝড়ের সময় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত ক্রমেই একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বজ্রপাত সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ হাওর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা বেশি বজ্রপাতে প্রাণ হারান। তাই ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
পাশাপাশি বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গবাদিপশু বজ্রপাতে মারা গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এলিস/এএফ