রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মায়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি...
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মায়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে ধরে রাখতে জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতন ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পেছনে বাজার কারসাজি, আইপিওতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি, নীতিগত অসঙ্গতি ও আস্থার সংকটসহ একাধিক কারণ কাজ করেছে।
তিনি জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজার কারসাজি ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিষয় দুদকে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার নতুন বিএসইসি কমিশন নিয়োগ, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, শক্তিশালী নজরদারি, পুঁজিবাজার সংস্কার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
এলিস/নাঈম