ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি, আবার আওয়ামী লীগের পতনও একদিনে হয়নি : ডা. জাহেদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের ভয়াবহতা জিরো রিটার্নের গ্যাঁড়াকল ওভারব্রিজ দ্রুত সংস্কার করা হোক ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের আধিপত্য চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু খুলনায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন ট্রাফিকের ৩১ সদস্য বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর কোষ ও এর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ১ম পত্র উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় পাহাড়ধস, নিহত ৮ ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে যারা মাদারীপুরে ‘পদ্মা পাড়ে জীবন যুদ্ধ’ মাঠ মহড়া বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১৩ জেলে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা সিডিএর মূল দায়িত্ব নয়: সিডিএ চেয়ারম্যান ছায়া বৃক্ষের নীরব বিদায় কাঁচপুর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণা, পঞ্চগড়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা পেনাল্টি মিসের কষ্ট নিয়ে মুখ খুললেন ব্রুনো গুইমারায়েস টুয়েলভ ক্লদিংয়ে বিশেষ অফার ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার হবে কবে এইউএসটি ও জার্মানির UNU-FLORES-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার জনজীবন সিলেট সীমান্তে জিরা, চা পাতা ও চিনিসহ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জাককানইবি ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক

বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি, বান্দরবানে বন্যা-আতঙ্ক
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পৌর এলাকার আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, ব্রিগেড এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, সুয়ালক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ সাঙ্গু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি জমে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বন্যার পানিতে বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনেও অনেক মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ১৪০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। জেলার সাত উপজেলায় অন্তত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বান্দরবান সদর উপজেলাতেই রয়েছে ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার জানান, বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনে নদীতে না নামা, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিজভী রাহাত/এসএন

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু
পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ঘর। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে গত চার দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতি এবং পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৩ জন স্থানীয় নাগরিক।

বুধবার (৮ জুলাই) কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত চার দিনের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, রবিবার ২৪০ মিলিমিটার, সোমবার ১২৯ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ৬৯ মিলিমিটার এবং বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আরও ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার দিনে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৬ মিলিমিটার।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের ঘটনায় কক্সবাজারে ৭টি পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪টি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরের সাত্তারঘোনা, দরিয়ানগর বড়ছড়া এবং পেকুয়ায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই হতাহত হয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার বেলা ৩টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ব্লক এ-৭/৩ এলাকায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি জানান, ক্যাম্প-৫ পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই এবং অপর ৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

অবশিষ্ট ৫ জন শিশুকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জন নিহত হন।

রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

একই রাতে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

পরে রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মানবিক সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাত্তার ঘোনা এলাকায় সোমবার গভীর রাতে পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন জানান, রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে পাহাড়ের মাটি তাদের টিনের ঘরের ওপর ধসে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আকবরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের আলম্ম্যার ঝিরি এলাকায় সোমবার বিকেলে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ মিনহাজ (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির নানী জান্নাতুল ফেরদৌস।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা একটি বসতঘরের ওপর মাটি ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই মিনহাজের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত জান্নাতুল ফেরদৌসকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নাছিমা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন ও পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হন।

নিহতের ভাই মনির আলম জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করতেন তারা। টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পাহাড়ধস নেমে ঘরের ওপর মাটি এসে পড়লে পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। পরে তাদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাছিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত শিশুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, চলমান দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতিকূল আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮৭২-৬১৫১৩২-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

নাঈম/

বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৪ ভারতীয় নাগরিক ফিরলেন ভারতে
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের পুশইনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার চার ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান তারা।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ওই চার ভারতীয় নাগরিক হলেন- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি, তার দুই ছেলে কুরবান শেখ ও ইমাম দেওয়ান এবং দানিশ শেখ। 

তবে একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সোনালী বিবি নামে আরেক নারী ও তার সন্তানকে ভারতে পাঠানো হয়েছিলো গত বছরের ৫ ডিসেম্বর। অন্তসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সে সময় সোনালী বিবিকে ভারতে পাঠানো হয়। 

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে রাজশাহীস্থ ভারতের সহকারী হাইকমিশনারসহ বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর থেকে অন্তসত্ত্বা এক নারীসহ ৬ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের কাছে তারা দাবি করে- ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করে বিএসএফ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দুই দেশেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই ছয় নাগরিককে দ্রুত ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। 

ওই নির্দেশনার পর অন্তসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার ৮ বছরের সন্তানকে ৫ ডিসেম্বর ভারতে পাঠানো হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে মামলা চলমান থাকায় বাকী চারজন যেতে পারেন নি। এই চারজনকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার।

মো. আসাদুল্লাহ/এসএন

ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ শহরে বাসার মধ্যে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আজনান আমিন তালুকদার আয়াশ নামে ৮ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে শহরের ব্রহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়াশ একই এলাকার রেজায়ানুল আমিন আবিরের ছেলে। আবির একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঘটনার সময় শিশুরটির মা বন্যা আক্তার শিশুসহ ব্রহ্মপল্লী এলাকায় শিশুটির নানার বাসায় ছিলেন।

পুলিশ ও আয়াশের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতভর বৃষ্টিতে বাসার ভেতরে পানি ঢুকে যায়। সকালে খেলাধুলা করার পর আয়াশকে নিয়ে তার মা ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে শিশুটির নানি এসে দেখতে পান আয়াশ জমে থাকা পানিতে ডুবে আছে। পরে তাকে দ্রুত পানি থেকে উঠিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির বাবা রেজায়ানুল আমিন আবির বলেন, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে বাসার ভেতরে পানি ঢুকে যায়। বাচ্চা হঠাৎ গড়িয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অপরিকল্পিত শহর আর অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণেই বাসার ভেতরেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং আমার কলিজার টুকরো ছেলেটা মারা গেল।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, অসাবধানতাবশত শিশুটি ঘরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে যায়। শিশুটিকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/নাঈম

খুলনায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন ট্রাফিকের ৩১ সদস্য

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
খুলনায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন ট্রাফিকের ৩১ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এর ট্রাফিক বিভাগের ৩১ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে (ফোর্স) সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) কর্মক্ষেত্রে গত এক মাসে প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সম্মাননার পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

কেএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন পক্ষে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।

অনুষ্ঠানে একজন পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন), ৫ জন সার্জেন্ট/টিএসআই, ৫ জন এটিএসআই এবং ২০ জন কনস্টেবল আর্থিক পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সন্দেহজনক মিছিল, মোটরসাইকেল মহড়া, অপরাধমূলক কার্যক্রম বা যেকোনো জরুরি ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত কন্ট্রোল রুমে বা বেতার যোগাযোগের মাধ্যমে জানাতে নির্দেশ দেন।

এছাড়াও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১২ হাজারেরও বেশি গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও উপযুক্ত স্থানে রোপণ করা হবে। এ সময় তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ বাড়ি, অফিস ও কর্মস্থলে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান এবং একে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সদকায়ে জারিয়ার একটি উত্তম মাধ্যম হিসেবে সকলকে স্বরণ করিয়ে দেন।

তিনি জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা সকল পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, পিপিএম-সেবা; ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা।

এএফ/

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বলদিপাড়া গ্রা‌মের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রা‌বেয়া বেগম (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে হাত দিতে গেলে আবু সাইয়েদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান তার স্ত্রী রা‌বেয়া বেগম। স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদের মৃত্যু হয়। পরে তার স্ত্রীও মারা যান। খবর পেয়ে তা‌দের মরদেহ উদ্ধার ক‌রে পু‌লিশ।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইব‌নে সি‌দ্দিক ঘটনার সত‌্যতা নি‌শ্চিত ক‌রে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। প্রাথ‌মিক সুরতহাল শে‌ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/