আধুনিক ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে হয়ে ওঠেন প্রজাতন্ত্রের নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আগের দিনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বুধবার রাতেই নতুন করে কঠোর হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, হামলায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান যে রাডার ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, আমি এসব করতে চাই না। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।
এ সময় ইরানের উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিরোধ করার মতো কিছু থাকবে না।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ঘিরে পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ওই সময় ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় সাময়িক বিরতি চেয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, তারা বিরতি চেয়েছিল, তারা খামেনির জানাজায় যেতে চেয়েছিল। আমি তাদের সেই সুযোগ দিয়েছিলাম। এরপরও তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে।
তিনি আরও দাবি করেন, জানাজার সময় ইরানের পক্ষ থেকে তাদের নেতাদের হত্যা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে প্রয়োজনে কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করবে না যুক্তরাষ্ট্র। এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি হলেও তা কতটা কার্যকর বা টেকসই হবে, সে বিষয়ে তার সংশয় রয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এসএন/