টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, মাছের ঘের ও অসংখ্য বসতবাড়ি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ।
বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এ ছাড়া নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার অনেক এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে রান্না করতে পারেননি।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা বেড়িবাঁধে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হানিফ/এএফ