ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরই হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র

একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার
ছবি: সংগৃহীত

কোনো নামিদামি শপিং মল, রাজকীয় প্রাসাদ কিংবা অভিজাত করপোরেট অফিসে ঢোকার সময় আমরা বেশ সচেতন থাকি চারপাশের জাঁকজমক দেখে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যায় কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সম্মানিত এবং ভিআইপি জায়গা কোনটি? নিঃসন্দেহে তা হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ প্রতিদিন কত শতবার আমরা চেনা এই আঙিনায় পা রাখি, অথচ একটুখানি অসচেতনতার কারণে হারিয়ে ফেলি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক উপহার মসজিদে প্রবেশ বের হওয়ার সময় মাত্র দুটি ছোট্ট দোয়া পড়ার মাধ্যমে একজন মুমিন তার যান্ত্রিক জীবনের পুরো গতিপথ বদলে দিতে পারেন

মসজিদে যাতায়াতের এই বিশেষ শিষ্টাচার দোয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য অতি প্রিয় সুন্নাহ হজরত আবু হুমাইদ আস-সায়েদী অথবা আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক’ (হে আল্লাহ্! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও) আর যখন বের হয়, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফায-লীকা’ (হে আল্লাহ্! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি) (মুসলিম, ৭১৩)

এই হাদিসের গভীরতা আমাদের জীবনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিশে আছে আমরা যখন দুনিয়ার সব কোলাহল, পেরেশানি আর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মসজিদে ঢুকি, তখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাহররহমতবা মানসিক শান্তি আবার নামাজ শেষ করে যখন আমরা জীবিকার সন্ধানে, ব্যবসা কিংবা চাকরিতে ফিরে যাই, তখন আমাদের প্রয়োজন আল্লাহরফজলবা বৈষয়িক অনুগ্রহ বরকত

ইসলাম কত সুন্দর! এটি কেবল একটি প্রার্থনা নয়, বরং আমাদের মনস্তত্ত্বকে দুনিয়া আখেরাতের সঙ্গে বেঁধে রাখার এক অপূর্ব সেতু ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে মসজিদের চৌকাঠে পা রাখার সময় প্রিয় নবির এই সুন্নতটি মনে রাখা মোটেও কঠিন নয় আসুন, আজ থেকেই সচেতনভাবে এই আমলটি শুরু করি এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর রহমত অনুগ্রহের চাদরে জড়িয়ে নিই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার
ছবি: সংগৃহীত

কোনো নামিদামি শপিং মল, রাজকীয় প্রাসাদ কিংবা অভিজাত করপোরেট অফিসে ঢোকার সময় আমরা বেশ সচেতন থাকি চারপাশের জাঁকজমক দেখে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যায় কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সম্মানিত এবং ভিআইপি জায়গা কোনটি? নিঃসন্দেহে তা হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ প্রতিদিন কত শতবার আমরা চেনা এই আঙিনায় পা রাখি, অথচ একটুখানি অসচেতনতার কারণে হারিয়ে ফেলি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক উপহার মসজিদে প্রবেশ বের হওয়ার সময় মাত্র দুটি ছোট্ট দোয়া পড়ার মাধ্যমে একজন মুমিন তার যান্ত্রিক জীবনের পুরো গতিপথ বদলে দিতে পারেন

মসজিদে যাতায়াতের এই বিশেষ শিষ্টাচার দোয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য অতি প্রিয় সুন্নাহ হজরত আবু হুমাইদ আস-সায়েদী অথবা আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক’ (হে আল্লাহ্! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও) আর যখন বের হয়, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফায-লীকা’ (হে আল্লাহ্! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি) (মুসলিম, ৭১৩)

এই হাদিসের গভীরতা আমাদের জীবনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিশে আছে আমরা যখন দুনিয়ার সব কোলাহল, পেরেশানি আর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মসজিদে ঢুকি, তখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাহররহমতবা মানসিক শান্তি আবার নামাজ শেষ করে যখন আমরা জীবিকার সন্ধানে, ব্যবসা কিংবা চাকরিতে ফিরে যাই, তখন আমাদের প্রয়োজন আল্লাহরফজলবা বৈষয়িক অনুগ্রহ বরকত

ইসলাম কত সুন্দর! এটি কেবল একটি প্রার্থনা নয়, বরং আমাদের মনস্তত্ত্বকে দুনিয়া আখেরাতের সঙ্গে বেঁধে রাখার এক অপূর্ব সেতু ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে মসজিদের চৌকাঠে পা রাখার সময় প্রিয় নবির এই সুন্নতটি মনে রাখা মোটেও কঠিন নয় আসুন, আজ থেকেই সচেতনভাবে এই আমলটি শুরু করি এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর রহমত অনুগ্রহের চাদরে জড়িয়ে নিই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বদনজর লাগলে যে দুটি কাজ করবেন
ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ ভালো চলতে থাকা ব্যবসাটা ধসে গেল, সুস্থ-সবল শিশুটি মাঝরাতে কেঁদে কেঁদে নীল হয়ে যাচ্ছে, কিংবা আপনার কোনো সাফল্যে কারও চোখের চাউনি বুকটা কাঁপিয়ে দিল–বাঙালি সমাজে একে আমরা বলিনজর লাগা অনেকেই একে কুসংস্কার ভাবেন, কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানেনেতিবাচক শক্তিবা নেগেটিভ এনার্জি নিয়ে কথা বলে, ইসলাম সেখানে ১৪শ বছর আগেইবদনজরবাআইন’-এর বাস্তব অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বদনজর সত্য (বুখারি)

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত শেয়ার করার প্রবণতা বদনজরের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তবে আশার কথা হলো, ইসলাম শুধু সমস্যার কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি, এর চমৎকার এবং বিজ্ঞানসম্মত সমাধানও দিয়েছে, যারুকইয়াহবা আত্মিক চিকিৎসা নামে পরিচিত

বদনজরের চিকিৎসায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর শেখানো একটি অনন্য জীবন্ত সুন্নত রয়েছে, যা আজ সমাজে প্রায় মৃত আসুন, নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সের আলোকে সেই নিখাদ সুন্নতি আমল দোয়াগুলো জেনে নিই

. বদনজরকারীর অজুর পানি দিয়ে গোসল 

যদি সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় যে কার নজর লেগেছে, তবে ইসলামে একটি বিস্ময়কর এবং ফলপ্রসূ চিকিৎসা রয়েছে সাহাবি সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-কে যখন আমের ইবনে রবীআ (রা.)-এর বদনজর লাগে, তখন নবিজি (সা.) আমের (রা.)-কে অজু করার নির্দেশ দেন

আমের (রা.) একটি পাত্রে মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত, দুই পা গোছা পর্যন্ত এবং লজ্জাস্থান ধৌত করেন এর পর সেই ব্যবহৃত পানি সাহল (রা.)-এর পেছন দিক থেকে তার মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হয় অলৌকিকভাবে সাহল (রা.) তখনই সুস্থ হয়ে ওঠেন (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৫০৯; মুয়াত্তা মালিক, হাদিস: ১৭৪৫/১৭৪৬)

অনেকেই মনে করেন পানিতে ফুঁ দিয়ে কুলি করার কথা, কিন্তু বিশুদ্ধ হাদিসে সরাসরি বদনজরকারীর অজুর পানি ব্যবহারের কথাই এসেছে

. ঝাড়ফুঁক বা পঠিতব্য দোয়া

যদি বদনজরকারী ব্যক্তি অজ্ঞাত হয়, তবে পবিত্র কোরআন হাদিসের নিচের দোয়াগুলোর মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়মিত রুকইয়াহ করতে হবে:

সুরা ফালাক সুরা নাস: রাসুলুল্লাহ (সা.) জিন মানুষের বদনজর থেকে বাঁচতে এই দুটি সুরা নাজিল হওয়ার পর অন্য সব দোয়া ছেড়ে শুধু এগুলোর মাধ্যমেই আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (সুনান ইবনু মাজাহ, ৩৫১১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত দোয়া: হাসান হুসাইন (রা.)-কে নজর থেকে বাঁচাতে নবিজি (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন:

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ

উচ্চারণ: আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিল লাম্মাতিন

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের উসিলায় প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত জীব অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় চাচ্ছি (সুনান ইবনু মাজাহ, ৩৫২৫)

রোগমুক্তির সার্বজনীন দোয়া: বদনজর শারীরিক অসুস্থতায় এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী:

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِي نَفْسِي، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِينِي، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِينِي

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বী নাফসী, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযীনী, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন, আও আইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীনী

অর্থ: আল্লাহর নামে আমি নিজেকে রুকইয়াহ করছি, প্রতিটি ক্ষতিকারক জিনিস হিংসুক ব্যক্তির বদনজর থেকে আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করুন

আমাদের উচিত লোকজ কুসংস্কার বা কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে না ছুটে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই খাঁটি বিজ্ঞানসম্মত সুন্নতের চর্চা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

সাহাবিদের গল্প-০৭ ‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’
ছবি: সংগৃহীত

মদিনার মাটিতে পা রেখেছেন এক মুহাজির। মক্কায় তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী, আজ তার হাতে কিছুই নেই। ঘর নেই, পুঁজি নেই, সম্বল বলতে শুধু ঈমান। নাম তার আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ভাই বানিয়ে দিলেন মদিনার ধনাঢ্য আনসারি সাদ ইবনে রাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে। সাদ দরাজ গলায় প্রস্তাব দিলেন, ‘আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আমার সম্পদের অর্ধেক আপনার!’ ইতিহাসে এমন প্রস্তাবের নজির বিরল–বিনা শর্তে, বিনা দ্বিধায় অর্ধেক সাম্রাজ্য।

আবদুর রহমানের জবাবটি ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন। আমার এসবের প্রয়োজন নেই, আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দিন!’ তিনি কাইনুকার বাজারে গেলেন, পনির আর ঘি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের উপার্জনে বিয়ে করলেন, মোহরানা দিলেন খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৪৮-২০৪৯)

লক্ষ করুন দুটি চরিত্রকেই। সাদ ইবনে রাবি শেখালেন দানের সর্বোচ্চ উদারতা, ভাইয়ের জন্য অর্ধেক সম্পদ ছেড়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা নেই। আর আবদুর রহমান শেখালেন আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য, সুযোগ পেয়েও কারও বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ইসলাম দুটোকেই ভালোবাসে; দাতার উদার হাত, আর গ্রহীতার স্বনির্ভর মন।

পরবর্তী জীবনে এই আবদুর রহমানই হয়েছিলেন মদিনার শীর্ষ ধনী, আর তার সম্পদের স্রোত বইত আল্লাহর পথে। কারণ যে ব্যবসার ভিত্তি হালাল পরিশ্রম আর তাওয়াক্কুল, আল্লাহ তাতে এমন বরকত দেন, যা কোনো হিসাবের ছকে ধরে না।

আজ আমরা শর্টকাট খুঁজি; লটারি, ঘুষ, তদবির, অন্যের করুণা। অথচ সুন্নাহ শেখায়, হাত পাতার চেয়ে হাতের কামাই উত্তম। রিজিকের মালিক আল্লাহ; বান্দার দায়িত্ব শুধু সৎ পথে চেষ্টা।

হে আল্লাহ! আমাদের হালাল উপার্জনে বরকত দিন, আত্মমর্যাদা দিন এবং অন্যের জন্য সাদ ইবনে রাবির মতো উদার হৃদয় দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

 

ফজর (৯ জুলাই)

.৫২ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা
ছবি: সংগৃহীত

ধরুন, আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক মিটিংয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কথা বলছেন ঠিক সেই মুহূর্তে যদি বারবার কেউ আপনার সামনের ব্যক্তির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করে, তবে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই বিরক্ত হবেন এবং মনোযোগের সুতোটা ছিঁড়ে যাবে

অথচ মহাবিশ্বের মহান প্রতিপালক আল্লাহর সঙ্গে যখন আমরা নামাজে কথোপকথন করি, তখন আমাদের মনোযোগের দিকে কতটা খেয়াল রাখি? নামাজে দাঁড়ানোর পর সামনে দিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত আমাদের একাগ্রতা নষ্ট করে দেয় আর এই যান্ত্রিক অসচেতনতার যুগে মনোযোগের এই বিঘ্নতা থেকে নামাজকে সুরক্ষিত রাখার এক জাদুকরী সুন্নাহ হলো–সুতরা ব্যবহার করা

নামাজের সামনে কোনো প্রতিবন্ধক রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনন্য সুন্নত হজরত মুসা ইবনে তালহা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজের সামনে বাহনের জিনের পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু রেখে নিয়ে নামাজ পড়লে সামনের দিকে কেউ অতিক্রম করলে তার কোনো পরোয়া করার দরকার নেই (মুসলিম, ৪৯৯)

সুতরাহলো এমন একটি বস্তু, যা সামনে রেখে একজন মুসল্লি নামাজে দাঁড়ান এটি হতে পারে মসজিদের দেয়াল, কোনো খুঁটি, কাঠের টুকরো কিংবা অন্য যেকোনো জিনিস ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই সুতরার উচ্চতা কমপক্ষে প্রায় ১২ ইঞ্চি বা এক ফিট পরিমাণ হওয়া উচিত

আমরা যখন ঘরে, অফিসে বা কোনো খোলা জায়গায় একা নামাজে দাঁড়াই, তখন সামান্য অবহেলার কারণে অনেকেই সুতরা দিতে ভুলে যাই ফলে সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে আমাদের গুনাহ না হলেও, যিনি পার হন তার কঠিন গুনাহ হয়

সুতরা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যেমন নিজের নামাজের একাগ্রতা বজায় রাখতে পারি, তেমনি অন্য কোনো মুসলিম ভাইকেও গুনাহের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি আসুন, নামাজের মতো পরম ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে এবং প্রিয় নবির এই হারিয়ে যাওয়া সুন্নতকে বাঁচিয়ে তুলতে আজ থেকেই সুতরা ব্যবহারে সচেতন হই

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক