কোনো নামিদামি শপিং মল, রাজকীয় প্রাসাদ কিংবা অভিজাত করপোরেট অফিসে ঢোকার সময় আমরা বেশ সচেতন থাকি। চারপাশের জাঁকজমক দেখে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি, এই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সম্মানিত এবং ভিআইপি জায়গা কোনটি? নিঃসন্দেহে তা হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ। প্রতিদিন কত শতবার আমরা চেনা এই আঙিনায় পা রাখি, অথচ একটুখানি অসচেতনতার কারণে হারিয়ে ফেলি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক উপহার। মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাত্র দুটি ছোট্ট দোয়া পড়ার মাধ্যমে একজন মুমিন তার যান্ত্রিক জীবনের পুরো গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
মসজিদে যাতায়াতের এই বিশেষ শিষ্টাচার ও দোয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অনন্য ও অতি প্রিয় সুন্নাহ। হজরত আবু হুমাইদ আস-সায়েদী অথবা আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক’ (হে আল্লাহ্! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও।) আর যখন বের হয়, তখন যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফায-লীকা’ (হে আল্লাহ্! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি)। (মুসলিম, ৭১৩)
এই হাদিসের গভীরতা আমাদের জীবনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিশে আছে। আমরা যখন দুনিয়ার সব কোলাহল, পেরেশানি আর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মসজিদে ঢুকি, তখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাহর ‘রহমত’ বা মানসিক শান্তি। আবার নামাজ শেষ করে যখন আমরা জীবিকার সন্ধানে, ব্যবসা কিংবা চাকরিতে ফিরে যাই, তখন আমাদের প্রয়োজন আল্লাহর ‘ফজল’ বা বৈষয়িক অনুগ্রহ ও বরকত।
ইসলাম কত সুন্দর! এটি কেবল একটি প্রার্থনা নয়, বরং আমাদের মনস্তত্ত্বকে দুনিয়া ও আখেরাতের সঙ্গে বেঁধে রাখার এক অপূর্ব সেতু। ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে মসজিদের চৌকাঠে পা রাখার সময় প্রিয় নবির এই সুন্নতটি মনে রাখা মোটেও কঠিন নয়। আসুন, আজ থেকেই সচেতনভাবে এই আমলটি শুরু করি এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের চাদরে জড়িয়ে নিই।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক