চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে তাওসিফ (১০) ও রুমি আক্তার (১২) নামে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে মৃত্যুর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে নিহত শিশু রুমির মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও চাল সহায়তা দিয়েছেন। এ ঘটনা ছাড়াও পেকুয়ার শিলখালীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ, ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও ফসলি জমি।
পেকুয়ার মেহেরনামা এলাকায় প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধের সঙ্গে স্থানীয় একটি কবরস্থানের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্রোতের তোড়ে একটি মরদেহও ভেসে গেছে, যা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পেকুয়ায় এক মানবিক ঘটনা ঘটেছে। শিলখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ এনামের মেয়ের প্রসবব্যথা উঠলে পরিবারের সদস্যরা কোমর সমান পানি মাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন।
বিষয়টি জানতে পেরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করেন। অতিরিক্ত পানির কারণে গাড়িটি আটকে গেলেও পরবর্তীতে বিকল্প উপায়ে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিচু এলাকাগুলো সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যে-সব এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং পানি ঢুকেছে, সেসব স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলোও কার্যক্রম চালাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট টাওয়ারগুলোতে পর্যাপ্ত জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুৎ (সোলার ব্যাকআপ) ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষ চরম যোগাযোগ সংকটে পড়েছেন এবং জরুরি তথ্য আদান-প্রদানেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে যাওয়া এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব টিম মাঠে নিরলসভাবে কাজ করছে।
টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রকিবুল/নাঈম