ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। উপজেলা সদরে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও পুরো উপজেলা অন্ধকারে। বিদ্যুতের অভাবে বাসা বাড়িতে পানি তুলতে না পারার পাশাপাশি ভূতুড়ে পরিবেশ পুরো এলাকায়। এতে জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। জলদীতে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

বাঁশখালীতে টানা ৫ দিনের বৃষ্টি এখন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ভারি বৃষ্টি অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে এখন উপকূলীয় জনপদ পানির নিচে। বর্তমানে উপজেলার খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথরিয়া, পুকুরিয়া, সরল, গন্ডামারা, ছনুয়া, পুইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢুবে গেছে রাস্তাঘাট ও সড়ক। অনেক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিলেও সেখানে অনেক জায়গায় সরকারি বেসরকারি সাহায্য পৌছেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কালীপুরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানি বিতরণ করতে দেখা গেলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।

বানভাসিরা উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারও উপজেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে লোকজনকে সরে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করতে দেখা গেছে।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া কদমরসুল এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে গেছে। এতে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরের লোনাপানি প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি স্পট দিয়ে পানি প্রবেশ করায় লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মুবিনুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে একদিকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনদুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও উপজেলা সদর ছাড়া কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। এতে একদিকে পুরো উপজেলা অন্ধকার অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই পানি তুলতে পারেননি।

পল্লি বিদ্যুতের বাঁশখালী উপজেলার দায়িত্বরত ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। তাছাড়া জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে ২০ হাজারের বেশি নারী পুরুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাদ্য ও পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের বন্যা দুর্গত মানুষদের সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
পেকুয়ার মেহেরনামায় প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে কবরস্থানের একাংশ তলিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: খবরের কাগজ

চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে তাওসিফ (১০) ও রুমি আক্তার (১২) নামে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে মৃত্যুর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে নিহত শিশু রুমির মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও চাল সহায়তা দিয়েছেন। এ ঘটনা ছাড়াও পেকুয়ার শিলখালীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ, ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও ফসলি জমি।

পেকুয়ার মেহেরনামা এলাকায় প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধের সঙ্গে স্থানীয় একটি কবরস্থানের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্রোতের তোড়ে একটি মরদেহও ভেসে গেছে, যা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পেকুয়ায় এক মানবিক ঘটনা ঘটেছে। শিলখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ এনামের মেয়ের প্রসবব্যথা উঠলে পরিবারের সদস্যরা কোমর সমান পানি মাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। 

বিষয়টি জানতে পেরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করেন। অতিরিক্ত পানির কারণে গাড়িটি আটকে গেলেও পরবর্তীতে বিকল্প উপায়ে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিচু এলাকাগুলো সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যে-সব  এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং পানি ঢুকেছে, সেসব স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলোও কার্যক্রম চালাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট টাওয়ারগুলোতে পর্যাপ্ত জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুৎ (সোলার ব্যাকআপ) ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষ চরম যোগাযোগ সংকটে পড়েছেন এবং জরুরি তথ্য আদান-প্রদানেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে যাওয়া এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব টিম মাঠে নিরলসভাবে কাজ করছে।

টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রকিবুল/নাঈম

মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া
সবুজ গাজী। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় বিয়ে করতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজ গাজী।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। 
 
এর আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাচৌকিদার মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 
হাইমচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ২০১৬ সালের একটি মাদক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি শহিদ গাজী ওরফে সবুজ গাজী হাইমচর থানার চরভাঙ্গা (পূর্ব নাম গাজীপুর) এলাকার নুর ইসলাম গাজী ওরফে নুরুল হক গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি ২য় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের কনে দেখার প্রস্তুতির আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
 
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজকে কালাচৌকিদার মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।
 
এসএন/

টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের দস্তিদার হাট ব্রিজ, বুড়ির দোকান ব্রিজ ও অলি আহমদ কলেজ এলাকার অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এ মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা শুরু করলে, বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।

অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভ্যানের সাহায্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া অংশ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

বুড়ির দোকান এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসরকারি চাকুরিজীবী আল আমিন বলেন, আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আর আমার বাড়ি বান্দরবান পৌরসভার আর্মি পাড়ায় অবস্থিত। সেখানেও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই পরিবারের কাছে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য একাধিক গাড়ি পরিবর্তন করে হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার ৩টি অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বান্দরবানের কয়েকটা অংশে মহাসড়কের উপর পাহাড়ধস হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইকোপার্কের চূড়ায় দুর্গম পাহাড়ের জঙ্গলে নিয়ে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় পাঁচ মাসের মাথায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাসের মাথায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

সব মিলিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

নিহত জান্নাতুল নাইমা ইরার বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।

ইরার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

আসামি বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় ইরার পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইরার বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। তারই অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

গত ১ মার্চ সকালে শিশু ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান আসামি বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে যান।

সেইদিন ঘটনার একপর্যায়ে দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ রক্তাক্ত অবস্থায় কান্না করে জঙ্গল থেকে বের হতে দেখেন শিশু কন্যা ইরাকে । জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়।

এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ ইরা মারা যায়।

বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানিয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেবে বলে চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরায় পাহাড়ের নেওয়ার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে।

মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।

নিহত ইরার মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করেছে, তার যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

বাদীপক্ষের (ইরার) আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের এই রায় আমাদের তদন্তের সঠিকতার স্বীকৃতি।।

মুসলেহ উদ্দীন/এসএন

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি
অবৈধ পুশইন আটকাতে কালাইরাগ সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে কড়া অবস্থান ও বিজিবির বাধার কারণে বিএসএফের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৪টার এই পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

৪৮ বিজিবি জানায়, কোম্পানিগঞ্জের কালাইরাগ বিওপি-সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে নারী-পুরুষসহ ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চলায় বিএসএফ। এসময় বিজিবির সদস্যরা বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। এতে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। তবে কালাইরাগ সীমান্তে, ঝোপ এবং গাছপালার আড়ালে এখনো অবস্থান করছে ওউ সাতজন। তাই কালাইরাগ সীমান্তে এখন টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, কোম্পানিগঞ্জের কালাইরাগ বিওপি-সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। এতে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের চেষ্টা প্রতিরোধে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

শাকিলা ববি/এসএন