ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস আইস্ক্রিনে ফুটবলের সেরা দুই সিনেমা ‘দামাল’ ও ‘জাগো’ রাজবাড়ীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২ উর্মি খানের নতুন গান ‘ভাবনার মিছিল’ দেশের বাজারে ভিভোর নতুন স্মার্টফোন বাবার মামলায় ছেলের জেল, হাজতেই আত্মহত্যা মাদক ও বিচারহীনতার বিষবৃক্ষ সন্দ্বীপে টর্নেডোয় ব্যাপক ক্ষতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানি সহজীকরণসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার রাজনীতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ চুয়েট সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে গালিব ও ফাইয়াজ খবরের কাগজের সংবাদের পর মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএমটিসিএল

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টেকসই ভবিষ্যতের ছয় দিকনির্দেশনা
ছবি: খবরের কাগজ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি ঘিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন, জলাশয় ভরাট রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন- এই ছয় বিষয়ের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন। 

প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু গত ৫ জুন পবিত্র ঈদ-উল আযহার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা‘।  

দিবসটিকে ঘিরে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, পরিবেশ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। 

বৃহম্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, নগর পুলিশেরঅতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তীব্র দাবদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, গ্রীন হাউজ প্রতিক্রয়া ইত্যাদি চলমান জলবায়ু সংকটগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন ও জলাশয় ভরাট রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, আজকের গৃহীত ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর নিশ্চয়তা দেবে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সনদ ও বই বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকল অতিথিকে চারাগাছ বিতরণ করা হয়। 

এসএন/

মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া
সবুজ গাজী। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় বিয়ে করতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজ গাজী।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। 
 
এর আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাচৌকিদার মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 
হাইমচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ২০১৬ সালের একটি মাদক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি শহিদ গাজী ওরফে সবুজ গাজী হাইমচর থানার চরভাঙ্গা (পূর্ব নাম গাজীপুর) এলাকার নুর ইসলাম গাজী ওরফে নুরুল হক গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি ২য় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের কনে দেখার প্রস্তুতির আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
 
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজকে কালাচৌকিদার মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।
 
এসএন/

টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের দস্তিদার হাট ব্রিজ, বুড়ির দোকান ব্রিজ ও অলি আহমদ কলেজ এলাকার অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এ মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা শুরু করলে, বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।

অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভ্যানের সাহায্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া অংশ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

বুড়ির দোকান এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসরকারি চাকুরিজীবী আল আমিন বলেন, আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আর আমার বাড়ি বান্দরবান পৌরসভার আর্মি পাড়ায় অবস্থিত। সেখানেও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই পরিবারের কাছে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য একাধিক গাড়ি পরিবর্তন করে হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার ৩টি অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বান্দরবানের কয়েকটা অংশে মহাসড়কের উপর পাহাড়ধস হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইকোপার্কের চূড়ায় দুর্গম পাহাড়ের জঙ্গলে নিয়ে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় পাঁচ মাসের মাথায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাসের মাথায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

সব মিলিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

নিহত জান্নাতুল নাইমা ইরার বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।

ইরার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

আসামি বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় ইরার পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইরার বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। তারই অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

গত ১ মার্চ সকালে শিশু ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান আসামি বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে যান।

সেইদিন ঘটনার একপর্যায়ে দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ রক্তাক্ত অবস্থায় কান্না করে জঙ্গল থেকে বের হতে দেখেন শিশু কন্যা ইরাকে । জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়।

এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ ইরা মারা যায়।

বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানিয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেবে বলে চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরায় পাহাড়ের নেওয়ার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে।

মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।

নিহত ইরার মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করেছে, তার যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

বাদীপক্ষের (ইরার) আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের এই রায় আমাদের তদন্তের সঠিকতার স্বীকৃতি।।

মুসলেহ উদ্দীন/এসএন

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি
অবৈধ পুশইন আটকাতে কালাইরাগ সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে কড়া অবস্থান ও বিজিবির বাধার কারণে বিএসএফের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর ৪টার এই পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

৪৮ বিজিবি জানায়, কোম্পানিগঞ্জের কালাইরাগ বিওপি-সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে নারী-পুরুষসহ ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চলায় বিএসএফ। এসময় বিজিবির সদস্যরা বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। এতে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। তবে কালাইরাগ সীমান্তে, ঝোপ এবং গাছপালার আড়ালে এখনো অবস্থান করছে ওউ সাতজন। তাই কালাইরাগ সীমান্তে এখন টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, কোম্পানিগঞ্জের কালাইরাগ বিওপি-সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। এতে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের চেষ্টা প্রতিরোধে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

শাকিলা ববি/এসএন

শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
শেরপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আটক ২
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নকলায় যাত্রীবাহী বাসচাপায় আব্দুল কাদির (৬০) নামে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কাদির উপজেলার চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ‘স্বদেশ ডায়াগনস্টিক’ সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুল কাদির নিজ কর্মস্থল ‘স্বদেশ ডায়াগনস্টিক’ সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় বেপরোয়া গতিতে আসা রংধনু পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন তিনি। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাবনাজ বেগম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

শাকিল/এএফ