নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি ঘিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন, জলাশয় ভরাট রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন- এই ছয় বিষয়ের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন।
প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু গত ৫ জুন পবিত্র ঈদ-উল আযহার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা‘।
দিবসটিকে ঘিরে আয়োজিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, পরিবেশ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বৃহম্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, নগর পুলিশেরঅতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তীব্র দাবদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া, গ্রীন হাউজ প্রতিক্রয়া ইত্যাদি চলমান জলবায়ু সংকটগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা বলেন, নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এই লড়াইয়ের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বর্জন, বৃক্ষরোপণ অভিযান, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পাহাড় কর্তন ও জলাশয় ভরাট রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, আজকের গৃহীত ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর নিশ্চয়তা দেবে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সনদ ও বই বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকল অতিথিকে চারাগাছ বিতরণ করা হয়।
এসএন/