ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ইকোপার্কের চূড়ায় দুর্গম পাহাড়ের জঙ্গলে নিয়ে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় পাঁচ মাসের মাথায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাসের মাথায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

সব মিলিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

নিহত জান্নাতুল নাইমা ইরার বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।

ইরার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

আসামি বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় ইরার পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইরার বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। তারই অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।

গত ১ মার্চ সকালে শিশু ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান আসামি বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক পাহাড়ের চূড়ায় জঙ্গলে নিয়ে যান।

সেইদিন ঘটনার একপর্যায়ে দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ রক্তাক্ত অবস্থায় কান্না করে জঙ্গল থেকে বের হতে দেখেন শিশু কন্যা ইরাকে । জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়।

এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩ মার্চ ইরা মারা যায়।

বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানিয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেবে বলে চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরায় পাহাড়ের নেওয়ার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে।

এ ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগ গঠন করা হয় ১৮ জুন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ জুন থেকে।

মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।

নিহত ইরার মা রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করেছে, তার যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট।

বাদীপক্ষের (ইরার) আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের এই রায় আমাদের তদন্তের সঠিকতার স্বীকৃতি।।

মুসলেহ উদ্দীন/এসএন

সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ
নিখোঁজ যুবদল কর্মী আবদুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় নৌকা থেকে পড়ে আবদুল আলম (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় সংলগ্ন সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ যুবদল কর্মী আবদুল আলম একই ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনি বড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

আবদুল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম বলেন, আবদুল আলমসহ চার বন্ধু ভোরে নৌকা নিয়ে সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার দুই বন্ধু বাড়িতে এসে জানান, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় আবদুল আলম নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর নৌকায় থাকা অন্য তিন বন্ধু খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে আমরাও খোঁজাখুঁজি করার পর এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-২।

এর আগে, গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রেজা হাসান কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে ১ জুলাই সিলেটে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গেলেও পরে রহস্যজনক কারণে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এদিকে কুমিল্লায় রেজা হাসানের স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার। তিনি গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে নতুন ডিসি নিয়োগের ফলে রেজা হাসানের সিলেটে যোগদান করা হচ্ছে না।

এর আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম কয়েকটি আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ সিলগালা করা হলে মাজার কর্তৃপক্ষ ও একাংশ ভক্ত-অনুসারী এর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে অনেকেই সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এএফ/

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে পাহাড়ধসের ঘটনার মধ্যেই এখন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও পাহাড় ধসে পড়ার কারণে বাঘাইছড়ি, সাজেক ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। গত ৭ ও ৮ জুলাই অতি ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে শুরু করে।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৬০ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আরও ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭টি পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক, পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে এবং উপজেলায় মোট ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলারও বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখানকার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

জিয়াউর রহমান/এএফ

উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্প-৫ এর খাদিজাতুল কুবরা ও হেফজখানা মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা দুর্ঘটনাস্থল, ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবহিত হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে সচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা, দ্রুত পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, সিআইসিসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 বুধবার দুপুর ৩ টার দিকে টানা ভারী বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ এর একটি মাদ্রাসার ওপর ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ জন নিহত হয় এবং আরও ৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

নিহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের বাসিন্দা শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের বাসিন্দা উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের বাসিন্দা ওমাইচা বিবি (১৩) এবং ক্যাম্প-৫-এর এ/১১ ব্লকের বাসিন্দা রাশিদা (১৬)।

আহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩-এর এফ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা আসরা (৯), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের বাসিন্দা বেগম জান (১৫), ক্যাম্প-৫-এর এ/৭ ব্লকের বাসিন্দা ফারেসা বিবি (১২), ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের বাসিন্দা জান্নাত আরা বিবি (৮), ক্যাম্প-৩-এর এফ/৬৬ ব্লকের বাসিন্দা নূর ফাতেমা (১০), ক্যাম্প-৫-এর এ/২ ব্লকের বাসিন্দা নুর সেহেরা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/২ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল মোনাফ (১৭) এবং ক্যাম্প-৩-এর এফ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা নূর কায়েস (১০)।

রিদুয়ানুল হক সোহাগ/এস

গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভিমরুলের কামড়ে আমির হামজা নামের চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

নিহত শিশু আমির হামজা কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের লাখির পাড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শিশু আমির হামজাকে তার মা সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে ছাগল আনতে যান। পরে হঠাৎ একদল ভিমরুল শিশু হামজা ও তার মায়ের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাদেরকে আহত অবস্থায় কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ মনে হওয়ায় দুপুরের দিকে স্বজনরা আমির হামজাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেও বিকেলে সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আবারও কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু আমির হামজাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদল সাহা/নাঈম