চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় নৌকা থেকে পড়ে আবদুল আলম (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় সংলগ্ন সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ যুবদল কর্মী আবদুল আলম একই ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনি বড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
আবদুল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম বলেন, আবদুল আলমসহ চার বন্ধু ভোরে নৌকা নিয়ে সাঙ্গু নদী থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার দুই বন্ধু বাড়িতে এসে জানান, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার সময় আবদুল আলম নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর নৌকায় থাকা অন্য তিন বন্ধু খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে আমরাও খোঁজাখুঁজি করার পর এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-২।
এর আগে, গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রেজা হাসান কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে ১ জুলাই সিলেটে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গেলেও পরে রহস্যজনক কারণে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
এদিকে কুমিল্লায় রেজা হাসানের স্থলাভিষিক্ত রোজী আকতার। তিনি গত বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে নতুন ডিসি নিয়োগের ফলে রেজা হাসানের সিলেটে যোগদান করা হচ্ছে না।
এর আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম কয়েকটি আলোচিত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ সিলগালা করা হলে মাজার কর্তৃপক্ষ ও একাংশ ভক্ত-অনুসারী এর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে অনেকেই সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এএফ/
রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে পাহাড়ধসের ঘটনার মধ্যেই এখন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও পাহাড় ধসে পড়ার কারণে বাঘাইছড়ি, সাজেক ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। গত ৭ ও ৮ জুলাই অতি ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে শুরু করে।
রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৬০ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আরও ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭টি পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক, পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে এবং উপজেলায় মোট ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলারও বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখানকার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
জিয়াউর রহমান/এএফ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্প-৫ এর খাদিজাতুল কুবরা ও হেফজখানা মহিলা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা দুর্ঘটনাস্থল, ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবহিত হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে সচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা, দ্রুত পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, সিআইসিসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার দুপুর ৩ টার দিকে টানা ভারী বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ এর একটি মাদ্রাসার ওপর ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ জন নিহত হয় এবং আরও ৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের বাসিন্দা শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের বাসিন্দা উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের বাসিন্দা ওমাইচা বিবি (১৩) এবং ক্যাম্প-৫-এর এ/১১ ব্লকের বাসিন্দা রাশিদা (১৬)।
আহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩-এর এফ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা আসরা (৯), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের বাসিন্দা বেগম জান (১৫), ক্যাম্প-৫-এর এ/৭ ব্লকের বাসিন্দা ফারেসা বিবি (১২), ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের বাসিন্দা জান্নাত আরা বিবি (৮), ক্যাম্প-৩-এর এফ/৬৬ ব্লকের বাসিন্দা নূর ফাতেমা (১০), ক্যাম্প-৫-এর এ/২ ব্লকের বাসিন্দা নুর সেহেরা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/২ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল মোনাফ (১৭) এবং ক্যাম্প-৩-এর এফ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা নূর কায়েস (১০)।
রিদুয়ানুল হক সোহাগ/এস
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ভিমরুলের কামড়ে আমির হামজা নামের চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু আমির হামজা কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের লাখির পাড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে শিশু আমির হামজাকে তার মা সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে ছাগল আনতে যান। পরে হঠাৎ একদল ভিমরুল শিশু হামজা ও তার মায়ের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাদেরকে আহত অবস্থায় কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ মনে হওয়ায় দুপুরের দিকে স্বজনরা আমির হামজাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেও বিকেলে সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আবারও কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু আমির হামজাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাদল সাহা/নাঈম