মৌলভীবাজারে দুই দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার ভোর থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে মনু নদ, ধলাই নদী, জুড়ী নদীসহ কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি ৬১ সেন্টিমিটার, ধলাই নদী রেলওয়ে ব্রিজে পানি ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার ও জুড়ী নদীর পানি ৩০ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভাঙন দেখা দেয়। সেই ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের। অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
এ বছর এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শেষ না হওয়ায় আগাম বন্যার শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সম্ভাব্য দুর্যোগ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, 'বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। নদীর বাঁক বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রস্তুতি রয়েছে।'
পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/