টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বেড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দ্বীপের সাত ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, 'অবিরাম বর্ষণে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকা এলাকাগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে।'
ইউএনও আরও বলেন, "সাময়িক দূর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ১০ টন চাল ও নগদ ৪ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নোয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামি ২-৩ দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতের বৃষ্টিতে এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, তমরদ্দি, সুখচর, চরকিং, জাহাজমারা ও নলচিরাসহ অন্তত সাত ইউনিয়নের বীজতলা, ফসলের খেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকস্থানে বাসিন্দারা রান্নার চুলা ডুবে খাবারের কষ্টে আছেন।
নিঝুম দ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, 'জাতীয় উদ্যান হওয়ায় এখানে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। তাই অনায়াসে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। তার উপর অতিবৃষ্টিতে পুরো ইউনিয়ন জলমগ্ন। দূর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সহায়তা জরুরি।;
এদিকে পাচঁ দিন ধরে জেলার সঙ্গে হাতিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান ঘাটে মালবাহী ট্রাকসহ শত-শত যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে থাকা-খাওয়াসহ পয়ঃনিস্কাশনে কষ্ট পাচ্ছেন আটকে থাকা যানবাহনের চালকরা।
ইকবাল হোসেন মজনু/তামান্না রুপা/