চট্টগ্রামের আনোয়ারা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন।
বুধবার (৮ জুলাই) থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়।
পানিবন্দি পরিবারগুলোর পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদেরও শুকনাে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূর্ব গহিরা, রায়পুর, সরেঙ্গা, বৈরাগ, বারখাইন, পরৈকোড়া ও বটতলী ইউনিয়নসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সব এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এক হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ১১টি ইউনিয়নে ১১ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
এ দিকে টানা বৃষ্টিতে শুধু আনোয়ারা নয়, চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের অতি ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলগুলোতে দ্রুত পানি জমে যায়। পরিস্থিতির কারণে নগর ও উপকূলীয় জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আমরা চাই, আনোয়ারার কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষ যেন অনাহারে না থাকে। যে সব এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পানি না নামা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছেন।
আতিকুল ইসলাম/থিওটোনিয়াস/