ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রেফারিদের পাশে কলিনা বর্ষায় সঙ্গে রাখতে হবে যেসব জিনিস পর্তুগালের নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন জর্জ জেসুস! আলমডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীল: এডিবি আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কার্যকারিতা নারীর মুড সুইংয়ের বৈজ্ঞানিক কারণ পরিবেশ ও জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতির কোলে এক নির্মল জলভূমি সিরাজগ‌ঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০ নারীরা কেন এত ক্লান্ত? অদৃশ্য শ্রম ও মানসিক চাপের বোঝা সুনামগঞ্জে বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড বান্দরবানে পাহাড়ধসে পৃথক দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট ফেনীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ সিংড়ায় মাছ শিকারে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল যুবকের ষোলশহর-জানালীহাট সেকশন রেললাইনকে ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন মৌলভীবাজারে বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা পার্বতীপুরে বিলের জন্য সন্তানহারা প্রসূতিকে আটকে রাখার অভিযোগ কাশিয়ানীতে ওয়াকিটকিসহ প্রতারক গ্রেপ্তার মাঝ আকাশে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যা, বিমান অবতরণ শিক্ষানবীসের বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা মতলবে ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার রাজৈরে আওয়ামী লীগ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও ১২ মেম্বারের অব্যাহতি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা, নিহত ৩ গাংনীতে লাটাহাম্বা উল্টে নিহত ১

সাহাবিদের গল্প-০৭ ‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’
ছবি: সংগৃহীত

মদিনার মাটিতে পা রেখেছেন এক মুহাজির। মক্কায় তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী, আজ তার হাতে কিছুই নেই। ঘর নেই, পুঁজি নেই, সম্বল বলতে শুধু ঈমান। নাম তার আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ভাই বানিয়ে দিলেন মদিনার ধনাঢ্য আনসারি সাদ ইবনে রাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে। সাদ দরাজ গলায় প্রস্তাব দিলেন, ‘আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আমার সম্পদের অর্ধেক আপনার!’ ইতিহাসে এমন প্রস্তাবের নজির বিরল–বিনা শর্তে, বিনা দ্বিধায় অর্ধেক সাম্রাজ্য।

আবদুর রহমানের জবাবটি ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন। আমার এসবের প্রয়োজন নেই, আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দিন!’ তিনি কাইনুকার বাজারে গেলেন, পনির আর ঘি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের উপার্জনে বিয়ে করলেন, মোহরানা দিলেন খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৪৮-২০৪৯)

লক্ষ করুন দুটি চরিত্রকেই। সাদ ইবনে রাবি শেখালেন দানের সর্বোচ্চ উদারতা, ভাইয়ের জন্য অর্ধেক সম্পদ ছেড়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা নেই। আর আবদুর রহমান শেখালেন আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য, সুযোগ পেয়েও কারও বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ইসলাম দুটোকেই ভালোবাসে; দাতার উদার হাত, আর গ্রহীতার স্বনির্ভর মন।

পরবর্তী জীবনে এই আবদুর রহমানই হয়েছিলেন মদিনার শীর্ষ ধনী, আর তার সম্পদের স্রোত বইত আল্লাহর পথে। কারণ যে ব্যবসার ভিত্তি হালাল পরিশ্রম আর তাওয়াক্কুল, আল্লাহ তাতে এমন বরকত দেন, যা কোনো হিসাবের ছকে ধরে না।

আজ আমরা শর্টকাট খুঁজি; লটারি, ঘুষ, তদবির, অন্যের করুণা। অথচ সুন্নাহ শেখায়, হাত পাতার চেয়ে হাতের কামাই উত্তম। রিজিকের মালিক আল্লাহ; বান্দার দায়িত্ব শুধু সৎ পথে চেষ্টা।

হে আল্লাহ! আমাদের হালাল উপার্জনে বরকত দিন, আত্মমর্যাদা দিন এবং অন্যের জন্য সাদ ইবনে রাবির মতো উদার হৃদয় দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

সাহাবিদের গল্প-০৭ ‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ এএম
‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’
ছবি: সংগৃহীত

মদিনার মাটিতে পা রেখেছেন এক মুহাজির। মক্কায় তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী, আজ তার হাতে কিছুই নেই। ঘর নেই, পুঁজি নেই, সম্বল বলতে শুধু ঈমান। নাম তার আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ভাই বানিয়ে দিলেন মদিনার ধনাঢ্য আনসারি সাদ ইবনে রাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে। সাদ দরাজ গলায় প্রস্তাব দিলেন, ‘আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আমার সম্পদের অর্ধেক আপনার!’ ইতিহাসে এমন প্রস্তাবের নজির বিরল–বিনা শর্তে, বিনা দ্বিধায় অর্ধেক সাম্রাজ্য।

আবদুর রহমানের জবাবটি ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন। আমার এসবের প্রয়োজন নেই, আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দিন!’ তিনি কাইনুকার বাজারে গেলেন, পনির আর ঘি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের উপার্জনে বিয়ে করলেন, মোহরানা দিলেন খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৪৮-২০৪৯)

লক্ষ করুন দুটি চরিত্রকেই। সাদ ইবনে রাবি শেখালেন দানের সর্বোচ্চ উদারতা, ভাইয়ের জন্য অর্ধেক সম্পদ ছেড়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা নেই। আর আবদুর রহমান শেখালেন আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য, সুযোগ পেয়েও কারও বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ইসলাম দুটোকেই ভালোবাসে; দাতার উদার হাত, আর গ্রহীতার স্বনির্ভর মন।

পরবর্তী জীবনে এই আবদুর রহমানই হয়েছিলেন মদিনার শীর্ষ ধনী, আর তার সম্পদের স্রোত বইত আল্লাহর পথে। কারণ যে ব্যবসার ভিত্তি হালাল পরিশ্রম আর তাওয়াক্কুল, আল্লাহ তাতে এমন বরকত দেন, যা কোনো হিসাবের ছকে ধরে না।

আজ আমরা শর্টকাট খুঁজি; লটারি, ঘুষ, তদবির, অন্যের করুণা। অথচ সুন্নাহ শেখায়, হাত পাতার চেয়ে হাতের কামাই উত্তম। রিজিকের মালিক আল্লাহ; বান্দার দায়িত্ব শুধু সৎ পথে চেষ্টা।

হে আল্লাহ! আমাদের হালাল উপার্জনে বরকত দিন, আত্মমর্যাদা দিন এবং অন্যের জন্য সাদ ইবনে রাবির মতো উদার হৃদয় দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

 

ফজর (৯ জুলাই)

.৫২ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা
ছবি: সংগৃহীত

ধরুন, আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক মিটিংয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে কথা বলছেন ঠিক সেই মুহূর্তে যদি বারবার কেউ আপনার সামনের ব্যক্তির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করে, তবে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই বিরক্ত হবেন এবং মনোযোগের সুতোটা ছিঁড়ে যাবে

অথচ মহাবিশ্বের মহান প্রতিপালক আল্লাহর সঙ্গে যখন আমরা নামাজে কথোপকথন করি, তখন আমাদের মনোযোগের দিকে কতটা খেয়াল রাখি? নামাজে দাঁড়ানোর পর সামনে দিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত আমাদের একাগ্রতা নষ্ট করে দেয় আর এই যান্ত্রিক অসচেতনতার যুগে মনোযোগের এই বিঘ্নতা থেকে নামাজকে সুরক্ষিত রাখার এক জাদুকরী সুন্নাহ হলো–সুতরা ব্যবহার করা

নামাজের সামনে কোনো প্রতিবন্ধক রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনন্য সুন্নত হজরত মুসা ইবনে তালহা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিজের সামনে বাহনের জিনের পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু রেখে নিয়ে নামাজ পড়লে সামনের দিকে কেউ অতিক্রম করলে তার কোনো পরোয়া করার দরকার নেই (মুসলিম, ৪৯৯)

সুতরাহলো এমন একটি বস্তু, যা সামনে রেখে একজন মুসল্লি নামাজে দাঁড়ান এটি হতে পারে মসজিদের দেয়াল, কোনো খুঁটি, কাঠের টুকরো কিংবা অন্য যেকোনো জিনিস ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই সুতরার উচ্চতা কমপক্ষে প্রায় ১২ ইঞ্চি বা এক ফিট পরিমাণ হওয়া উচিত

আমরা যখন ঘরে, অফিসে বা কোনো খোলা জায়গায় একা নামাজে দাঁড়াই, তখন সামান্য অবহেলার কারণে অনেকেই সুতরা দিতে ভুলে যাই ফলে সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে আমাদের গুনাহ না হলেও, যিনি পার হন তার কঠিন গুনাহ হয়

সুতরা ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যেমন নিজের নামাজের একাগ্রতা বজায় রাখতে পারি, তেমনি অন্য কোনো মুসলিম ভাইকেও গুনাহের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি আসুন, নামাজের মতো পরম ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে এবং প্রিয় নবির এই হারিয়ে যাওয়া সুন্নতকে বাঁচিয়ে তুলতে আজ থেকেই সুতরা ব্যবহারে সচেতন হই

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মোনাফিকদের চেনার সুনির্দিষ্ট কিছু আলামত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
মোনাফিকদের চেনার সুনির্দিষ্ট কিছু আলামত
ছবি: সংগৃহীত

মুখের মিষ্টি কথায় পটে গিয়ে কারোর ওপর ভরসা করলেন, আর শেষ মুহূর্তে জানলেন মানুষটি আসলে আপনার চরম ক্ষতি করার ছক কষছিল–এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমরা কম-বেশি সবাই হয়েছি বিশ্বাসঘাতকতার এই ক্ষত সহজে শুকায় না আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যেমন এমনকপটমানুষের আনাগোনা থাকে, তেমনি দীনের জগতেও একদল চরম ক্ষতিকর মানুষের অস্তিত্ব রয়েছে, যাদের পবিত্র কোরআনেমোনাফিকবা কপট বলা হয়েছে ইমানের ভেক ধরে থাকা এই মানুষগুলো মুসলিম সমাজের জন্য প্রকাশ্য শত্রুর চেয়েও বিপজ্জনক

ইসলামি শরিয়ত ওহির আলোতে মোনাফিকদের চেনার সুনির্দিষ্ট কিছু আলামত মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:

. কথার ধরন বাহ্যিক অবয়ব

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন, তিনি চাইলে মোনাফিকদের চেহারা দেখিয়ে দিতে পারতেন তবে বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, তুমি অবশ্যই তাদের কথার ভঙ্গি ধরন দেখে তাদের চিনতে পারবে (সুরা মুহাম্মাদ, ৩০) এদের বাহ্যিক অবয়ব কথা হয়তো খুব আকর্ষণীয় মুগ্ধকর হতে পারে, কিন্তু ভেতর থেকে এরা সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য কোরআন এদের দেয়ালে ঠেস দেওয়া কাঠের সঙ্গে তুলনা করেছে (সুরা মুনাফিকুন, )

. ইবাদতে চরম অবহেলা রিয়া

মুনাফিকদের আরেকটি বড় লক্ষণ হলো লোক দেখানো ইবাদত হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, সাহাবিদের যুগে কেবল নিশ্চিত মোনাফিক কিংবা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া কেউ জামাআতে সালাত ত্যাগ করত না (জামাআতে সালাত আদায়) এ ছাড়া যারা দুনিয়াতে মানুষকে দেখানোর জন্য বারিয়া উদ্দেশ্যে ইবাদত করত, কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর সামনে সিজদা করতে পারবে না; তাদের মেরুদণ্ড কাঠের তক্তার মতো শক্ত হয়ে যাবে (মিশকাতুল মাসাবিহ, ৫৫৭৯)

. ষড়যন্ত্র, অপবাদ খেয়ানত

মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং সচ্চরিত্রবান মুমিনদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটানো মোনাফিকদের মজ্জাগত স্বভাব, যেমনটি তারা উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর ক্ষেত্রে করেছিল (সুরা আন-নূর, ২৪:১১) পাশাপাশি, তারা সর্বদা আমানতের খেয়ানত করে এবং সমাজে অন্যায়ভাবে খেয়ানতকারীদের পক্ষ অবলম্বন করে (সুরা আন-নিসা, ১০৫)

মোনাফিকরা সব সময় এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয়ে (Paranoia) ভোগে যে, যেকোনো শোরগোল বুঝি তাদের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে তাই সমাজে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং নিজের ইমান রক্ষা করতে এই কপট চরিত্রগুলো চিনে রাখা এবং তাদের থেকে দূরে থাকা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প-০৬ নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ এএম
নবিজির বিছানায়, মৃত্যুর মুখোমুখি
ছবি: সংগৃহীত

রাত গভীর। মক্কার একটি ঘর ঘিরে রেখেছে উন্মুক্ত তরবারি হাতে কুরাইশের বাছাই করা যুবকরা। প্রতিটি গোত্র থেকে একজন–যেন হত্যার রক্ত ভাগ হয়ে যায় সবার মধ্যে, আর বনু হাশিম কারও কাছে প্রতিশোধ নিতে না পারে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত, ভোর হলেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করা হবে।
ঘরের ভেতরে বিছানায় শুয়ে আছেন একজন, গায়ে নবিজির সবুজ চাদর। ঘাতকরা ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে নিশ্চিন্ত, শিকার বিছানাতেই আছে।

কিন্তু সেই বিছানায় নবিজি নেই। আছেন এক তরুণ, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। নবিজি তাকে দুটি দায়িত্ব দিয়ে হিজরতের পথে বেরিয়ে গেছেন। তার বিছানায় শুয়ে থাকা, আর মানুষের গচ্ছিত আমানতগুলো ফিরিয়ে দেওয়া।

সিরাতে ইবনে হিশামে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ এসেছে; মুসনাদে আহমাদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার দীর্ঘ বর্ণনায়ও হিজরতের রাতে আলীর নবিজির বিছানায় শয়নের উল্লেখ রয়েছে। (পাঠকের জন্য স্বচ্ছতা: এটি মূলত সিরাত ও ইতিহাসগ্রন্থের বর্ণনা; বিস্তারিত খুঁটিনাটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের আলোচনা আছে, তবে মূল ঘটনাটি সিরাত-গবেষকদের কাছে স্বীকৃত)

ভাবুন তো সেই রাতের কথা। তরবারিগুলো যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে, আর সেগুলোর নিচে শুয়ে আছেন মাত্র বিশের কোঠার এক তরুণ। কীসের জোরে? ভালোবাসার জোরে। আনুগত্যের জোরে। এই বিশ্বাসের জোরে যে, আল্লাহর রাসুল যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তাতে কল্যাণ ছাড়া কিছু নেই।

আর লক্ষ করুন দ্বিতীয় দায়িত্বটি, আমানত ফেরত দেওয়া। যারা নবিজিকে হত্যা করতে চাইছে, সেই মক্কাবাসীরাই নিজেদের মূল্যবান সম্পদ গচ্ছিত রাখত তারই কাছে! শত্রুও জানত, ‘আল-আমিন’-এর চেয়ে নিরাপদ হাত আর নেই। মৃত্যুর হুমকির মুখেও ইসলাম শেখায়, আমানতের খেয়ানত নয়।

আজ আমরা সামান্য ঝুঁকিতেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাই, আর সুযোগ পেলেই আমানতে শিথিল হই। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই রাত শেখায়; ভালোবাসার দাবি মুখে নয়, ঝুঁকি নেওয়ায়, আর ঈমানের সৌন্দর্য আমানতদারিতায়। হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে আপনার রাসুলের জন্য সেই ভালোবাসা দিন, যা আমাদের দায়িত্বশীল ও আমানতদার বানায়। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক