মদিনার মাটিতে পা রেখেছেন এক মুহাজির। মক্কায় তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী, আজ তার হাতে কিছুই নেই। ঘর নেই, পুঁজি নেই, সম্বল বলতে শুধু ঈমান। নাম তার আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ভাই বানিয়ে দিলেন মদিনার ধনাঢ্য আনসারি সাদ ইবনে রাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে। সাদ দরাজ গলায় প্রস্তাব দিলেন, ‘আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আমার সম্পদের অর্ধেক আপনার!’ ইতিহাসে এমন প্রস্তাবের নজির বিরল–বিনা শর্তে, বিনা দ্বিধায় অর্ধেক সাম্রাজ্য।
আবদুর রহমানের জবাবটি ছিল আরও বিস্ময়কর, ‘আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন। আমার এসবের প্রয়োজন নেই, আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দিন!’ তিনি কাইনুকার বাজারে গেলেন, পনির আর ঘি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিজের উপার্জনে বিয়ে করলেন, মোহরানা দিলেন খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০৪৮-২০৪৯)
লক্ষ করুন দুটি চরিত্রকেই। সাদ ইবনে রাবি শেখালেন দানের সর্বোচ্চ উদারতা, ভাইয়ের জন্য অর্ধেক সম্পদ ছেড়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা নেই। আর আবদুর রহমান শেখালেন আত্মমর্যাদার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য, সুযোগ পেয়েও কারও বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ইসলাম দুটোকেই ভালোবাসে; দাতার উদার হাত, আর গ্রহীতার স্বনির্ভর মন।
পরবর্তী জীবনে এই আবদুর রহমানই হয়েছিলেন মদিনার শীর্ষ ধনী, আর তার সম্পদের স্রোত বইত আল্লাহর পথে। কারণ যে ব্যবসার ভিত্তি হালাল পরিশ্রম আর তাওয়াক্কুল, আল্লাহ তাতে এমন বরকত দেন, যা কোনো হিসাবের ছকে ধরে না।
আজ আমরা শর্টকাট খুঁজি; লটারি, ঘুষ, তদবির, অন্যের করুণা। অথচ সুন্নাহ শেখায়, হাত পাতার চেয়ে হাতের কামাই উত্তম। রিজিকের মালিক আল্লাহ; বান্দার দায়িত্ব শুধু সৎ পথে চেষ্টা।
হে আল্লাহ! আমাদের হালাল উপার্জনে বরকত দিন, আত্মমর্যাদা দিন এবং অন্যের জন্য সাদ ইবনে রাবির মতো উদার হৃদয় দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক