ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
প্রকৃতির কোলে এক নির্মল জলভূমি নারীরা কেন এত ক্লান্ত? অদৃশ্য শ্রম ও মানসিক চাপের বোঝা সুনামগঞ্জে বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড বান্দরবানে পাহাড়ধসে পৃথক দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট ফেনীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ সিংড়ায় মাছ শিকারে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল যুবকের ষোলশহর-জানালীহাট সেকশন রেললাইনকে ৫ ফুট উঁচু করা হবে: রেল প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন মৌলভীবাজারে বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা পার্বতীপুরে বিলের জন্য সন্তানহারা প্রসূতিকে আটকে রাখার অভিযোগ কাশিয়ানীতে ওয়াকিটকিসহ প্রতারক গ্রেপ্তার মাঝ আকাশে প্রশিক্ষকের আত্মহত্যা, বিমান অবতরণ শিক্ষানবীসের বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা মতলবে ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার রাজৈরে আওয়ামী লীগ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও ১২ মেম্বারের অব্যাহতি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা, নিহত ৩ গাংনীতে লাটাহাম্বা উল্টে নিহত ১ হাতিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি কুমিল্লায় পুবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ময়নামতি’ ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মার্কিন সন্ত্রাসবাদী তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল সিরিয়া প্রাথমিকের শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক বাঁশখালীতে পানিবন্দি দুই শতাধিক পরিবার ঝিনাইদহে সেনাপ্রধানের গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হতে চাইলেও পারছেন না ট্রাম্প ভূমিদস্যু মামুন-জসিম পাহাড়ের সীমাহীন ক্ষতি করেছে: চসিক মেয়র দিল্লিতে ভবনধস, নিহত ৪

বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তার সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তার গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। 

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গাজী আজম/হীরা

বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
বেরোবিতে আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণের ইউজিসির উদ্যোগ
ছবিঃখবরের কাগজ

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের অভাবে তার সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তার গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। 

আবদুল হাই শিকদার আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তার ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো পড়তে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠা এবং 'নজরুল অধ্যাপক' পদ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি 'নজরুল বর্ষ' উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গাজী আজম/হীরা

টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ভারী বর্ষণ/ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া এবং বিরাজমান জলাবদ্ধতা ও পরিবহন সংকট অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'চলমান ২১টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসেন বলেন, 'এখন মূল সমস্যা হচ্ছে পানি। এ কারণেই ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শাটল চলার কোনো সম্ভাবনা নেই। পানি কমলে চলাচল শুরু হতে পারে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পরও রেল কর্তৃপক্ষ রেললাইনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে।"

প্রশাসন ও চাকসু সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইনের ওপর প্রায় ১৬ ইঞ্চি পানি জমে রয়েছে। রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে ফেলা হলেও অতিরিক্ত পানির কারণে শাটল ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবায়দুল সালমান বলেন, 'রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী পানি প্রায় ৪ ইঞ্চিতে নেমে না আসা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। রাতের শাটল চলবে কি না, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যাবে।'

অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটাপাহাড় সড়কের একটি অংশে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা ওই সড়কে চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আল আরাফ/তামান্না রুপা/

চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা
আশরাফুল বিষধর সাপের দংশনের শিকার। ছবি: খবরের কাগজ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দংশনের শিকার আশরাফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

রাত সোয়া ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন এলাকায় আশরাফুল বিষধর সাপের দংশনের শিকার হন।

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, সাপে দংশনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নগরে জলাবদ্ধতা থাকায় তাকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসাইন বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আপাতত চট্টগ্রাম শহরে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠী উদয় খীসা জানান, বর্তমানে আশরাফুলের অবস্থা স্বাভাবিক আছে কিন্তু একবার বমি করেছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর আবারও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে ঝোপঝাড় ও সড়কে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি সড়কে দ্রুত শক্তিশালী সড়কবাতি স্থাপন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ দাবি করেছেন।

আল আরাফ/আজহার/

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চুয়েট, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চুয়েট, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে জলাবদ্ধতা, প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়া, অভ্যন্তরীণ সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৮ ও ৯ জুলাই সকল লেভেল ও টার্মের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের মাঠ প্রায় সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে প্রবল বাতাসে উপাচার্য ভবনের সামনের একটি সড়কে বড় একটি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে ওই পথে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং পুরো এলাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, টানা বর্ষণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন অভ্যন্তরীণ সড়কের একটি অংশ প্রায় দেড় ফুট দেবে গেছে। সড়কের নিচে থাকা কালভার্টের ওপর ধস নামায় ঝুঁকি এড়াতে ধসে পড়া অংশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে এবং রাতে সতর্কতার জন্য সেখানে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শহর থেকে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়, কোথাও কোথাও যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়। এর প্রভাব পড়ে ক্লাস ও পরীক্ষায়। নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন বিভাগে উপস্থিতির হারও ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম।

পুরকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিৎ দাস গুপ্ত বলেন, “শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসতে আজ অনেক কষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় যাতায়াত অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন।”

পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “সড়কটি আমাদের হলসংলগ্ন হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। বিকল্প সড়ক দিয়ে যেতে হলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে।”

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ৮ ও ৯ জুলাই সকল বিভাগের সকল লেভেল ও টার্মের ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী লেভেল-১, টার্ম-২ পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বহাল থাকবে। তবে অন্যান্য লেভেল ও টার্মের পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করবে।

স্থাপত্য বিভাগের দ্বিতীয় শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চিরন্তন কুমার সরকার বলেন, “প্রশাসনের উচিত আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। আগ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হওয়ায় বিশেষ করে শহর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের এ বৃষ্টিতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি আমাদের জানালে সংশ্লিষ্ট ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উপড়ে পড়া গাছটি আবহাওয়া অনুকূলে এলেই দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে।”

সড়ক ধসের বিষয়ে তিনি বলেন, “এখানে বড় ধরনের কাজ করতে হবে। এখন বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি থামলে আগে দেখতে হবে কালভার্টের ভিত্তি ঠিক আছে কিনা। ভিত্তি অক্ষত থাকলে দ্রুত মাটি ভরাট করে সংস্কার করা যাবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে। যেহেতু এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে, তাই দ্রুত সংস্কারের বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”

ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়া পরিস্থিতি একই রকম থাকলে ছুটি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল কিংবা শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু হবে বলে আশা করছি।”

উল্লেখ্য, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চুয়েট ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষতি ও যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে সকল ক্লাস স্থগিত করেছে।

ইবাদ হোসেন/এসএন

জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: খবেরর কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) গণতন্ত্র রক্ষা ও জাতির সঠিক পথনির্দেশনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, অধিকার আদায় এবং জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকট এসেছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।’

বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অনুষ্ঠিত ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, ‘অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পরীক্ষার আগে আমার ক্লাসের পারসেন্টেজ কম ছিল। তখন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্যার আমাকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেননি। আমি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্যারসহ অনেক শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ভিসি স্যার অনুরোধ করলেও চেয়ারম্যান স্যার নিয়মের প্রতি অটল ছিলেন।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যার সেদিন আমাকে ডেকে বলেছিলেন- তোমাকে যদি আজ অ্যালাউ করি, জীবনে কখনোই নিয়মানুবর্তিতা শিখবে না। আমি চাই তুমি এক বছর আবার ক্লাস করে রেগুলার পরীক্ষা দিয়ে পাস করো। পরের বছর সারা বছর ক্লাস করে আমি পরীক্ষা দিয়েছি। স্যার তখন বলেছিলেন, ডিসিপ্লিন লাইফ লিড করলে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে। উনাদের সেই শৃঙ্খলার শিক্ষাই আমাকে আজকের অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে।’

এসময় বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ড. শারমিন জাহান চৌধুরী এবং নবীনদের পক্ষে মো. তাওহীদ হামিদ ও তাসমিহা জামান সুস্মিতা বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানে খেলাধুলায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য জয় কুমার দাসকে এ্যাথলেটিক রোল অব অনার দেয়া হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে কৃতিত্বের জন্য ২৬জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন