টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দংশনের শিকার আশরাফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
রাত সোয়া ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন এলাকায় আশরাফুল বিষধর সাপের দংশনের শিকার হন।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, সাপে দংশনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নগরে জলাবদ্ধতা থাকায় তাকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসাইন বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আপাতত চট্টগ্রাম শহরে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠী উদয় খীসা জানান, বর্তমানে আশরাফুলের অবস্থা স্বাভাবিক আছে কিন্তু একবার বমি করেছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর আবারও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে ঝোপঝাড় ও সড়কে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি সড়কে দ্রুত শক্তিশালী সড়কবাতি স্থাপন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ দাবি করেছেন।
আল আরাফ/আজহার/