ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রেফারি বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন মরক্কোর কোচ ‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’ স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক মা পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভুল ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট, বিপাকে রোগী নড়িয়ায় এলজিইডির অফিস সহকারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ২০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা ফুঁসছে মুহুরি-কহুয়া-সিলোনিয়া, ফেনীতে বন্যার আশঙ্কা আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া ছোট সরালির কথা রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ বন্ধু তুমি শত্রু তুমি বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে? অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা সঞ্চয় লুট, শেষ হলো বাকপ্রতিবন্ধী ববির লড়াই এই আর্জেন্টিনা শুধুই মেসিনির্ভর দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত

স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া
গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো ছিল না বেলজিয়ামের। তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে দলটি। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন। এই ম্যাচে বড় চমক দেখাতে চায় বেলজিয়াম। এমনটাই বিশ্বাস তারকা গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার।

বুধবার (৮ জুলাই) অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কর্তোয়া। তিনি বলেন, স্পেনকে হারানো সম্ভব। বেলজিয়াম দলের সবাই এটা বিশ্বাস করে। তাদের দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। স্পেনকে অবশ্যই তাদের নিয়ে ভাবতে হবে।

কর্তোয়ার মতে, ফুটবল টুর্নামেন্টে সবসময়ই চমক থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ-সবখানেই অঘটন ঘটে। এবার বেলজিয়াম সেই চমক দেখাতে পারে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় করা হবে বিশাল ব্যাপার। দল এখন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।

বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তারা মিশর ও ইরানের সাথে ড্র করে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়।

পরের রাউন্ডে সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পায় বেলজিয়াম। ম্যাচের শেষ ৫ মিনিট বাকি থাকতেও তারা ২ গোলে পিছিয়ে ছিল। সেখান থেকে সমতায় ফেরে দল। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় রেড ডেভিলসরা।

কর্তোয়া বলেন, ‘শুরুতে সমর্থকরা হতাশ হয়েছিলেন। তবে দল এখন ভুল শুধরে নিয়েছে। বেলজিয়াম দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’

স্পেনকে এই ম্যাচের ফেবারিট মানছেন কর্তোয়া। তিনি বলেন, ‘স্পেন বল দখলে দারুণ। বল হারালে তারা দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে। স্পেনের ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গা দ্রুত কাজে লাগানোই হবে মূল লক্ষ্য।’

মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী
ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আর্জেন্টাইনরা চাপে ছিল। এমনকি কিংবদন্তি লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি কিকও ঠেকিয়ে দেয় মিশর। তবে ৭৯ মিনিটের পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আর্জেন্টিনা পরপর তিনটি গোল করে। ফলে অতিরিক্ত সময় ছাড়াই জয় পায় আর্জেন্টিনা।

তবে এই জয় নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচের শুরুতে মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ভিএআর রিভিউতে তাদের একটি গোল বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোদ ম্যাচ ধারাভাষ্যকাররাও প্রশ্ন তোলেন।

ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার ড্যারেন ফ্লেচার বলেন, ‘ভিএআর আমার জীবনের একটি অভিশাপ।’

পরে আরও একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। সেখানে মিশরের পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি রিভিউ পর্যন্ত করা হয়নি। উল্টো সেখান থেকে গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। রেফারির এমন কিছু সিদ্ধান্তে অনেকে অবাক হয়েছেন। ফিফা আসলেই মেসির দলকে জেতাতে চাইছে কিনা-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এবার এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। শহরে নতুন বাস লেন চালু নিয়ে তিনি একটি রসিকতা করেন।

তিনি বলেন, ‘নতুন লেনের কারণে নিউইয়র্কবাসীর সময় বাঁচবে। সেই সময়ে আপনারা বন্ধুদের সাথে একমত হতে পারবেন যে-গতকাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে।’ সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস

স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া
গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো ছিল না বেলজিয়ামের। তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে দলটি। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন। এই ম্যাচে বড় চমক দেখাতে চায় বেলজিয়াম। এমনটাই বিশ্বাস তারকা গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার।

বুধবার (৮ জুলাই) অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কর্তোয়া। তিনি বলেন, স্পেনকে হারানো সম্ভব। বেলজিয়াম দলের সবাই এটা বিশ্বাস করে। তাদের দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন। স্পেনকে অবশ্যই তাদের নিয়ে ভাবতে হবে।

কর্তোয়ার মতে, ফুটবল টুর্নামেন্টে সবসময়ই চমক থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ-সবখানেই অঘটন ঘটে। এবার বেলজিয়াম সেই চমক দেখাতে পারে। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় করা হবে বিশাল ব্যাপার। দল এখন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।

বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তারা মিশর ও ইরানের সাথে ড্র করে। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়।

পরের রাউন্ডে সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পায় বেলজিয়াম। ম্যাচের শেষ ৫ মিনিট বাকি থাকতেও তারা ২ গোলে পিছিয়ে ছিল। সেখান থেকে সমতায় ফেরে দল। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। এরপর শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় রেড ডেভিলসরা।

কর্তোয়া বলেন, ‘শুরুতে সমর্থকরা হতাশ হয়েছিলেন। তবে দল এখন ভুল শুধরে নিয়েছে। বেলজিয়াম দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’

স্পেনকে এই ম্যাচের ফেবারিট মানছেন কর্তোয়া। তিনি বলেন, ‘স্পেন বল দখলে দারুণ। বল হারালে তারা দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে। স্পেনের ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গা দ্রুত কাজে লাগানোই হবে মূল লক্ষ্য।’

বন্ধু তুমি শত্রু তুমি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
বন্ধু তুমি শত্রু তুমি
এমবাপ্পে-হাকিমি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের নাট্যমঞ্চে একের পর এক চমকপ্রদ, দুর্দান্ত, রূদ্ধশ্বাস ভরা ম্যাচ উপহার দিয়েই চলেছে। ৪৮ দল থেকে নেমে এসেছে ৮ দলে। ক্রমান্বয়ে ৪, ২, অতঃপর সেরা। ১০৪টি ম্যাচের ৯৬টিই শেষ হয়ে গেছে। কান পাতলেই শোনা যায় ফাইনালের মঞ্চ ডাকছে। সেই মঞ্চে উঠবে কোন কোন দল! অপেক্ষার প্রহর অবশ্য আর খুব বেশি লম্বা হবে না। মাত্র ৮টি ম্যাচ। তারপরই সেখান থেকে বের হয়ে আসবে দুই প্রতিপক্ষ। 

ফাইনালের সময় যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। কিন্তু ফাইনালের রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে এমন এমন সব ম্যাচ হচ্ছে, যেখানে ফাইনালের আবহ অনেকেই পেয়ে যাচ্ছেন। আবার সেসব ম্যাচে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা অন্য সব কিছুকেই আড়াল করে দিচ্ছে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচ যেন সব রকম নাটকীয়তা-উত্তেজনা আর আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে এসেছিল। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ৭৯ মিনিটে এক গোল পরিশোধ করে পরে অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে না দিয়েই আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ে মুগ্ধতার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হচ্ছে।

সেই সমালোচনা এতই বেশি হচ্ছে যে আজ থেকে শেষ চারে যাওয়ার লড়াই শুরু হবে, সেটি অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে। তবে সেটা সাময়িক। মাঠের ফুটবল ফিরবে তার স্বমহিমায়ই। শেষ চারে যাওয়ার লড়াই শুরু হবে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচ দিয়ে। বোস্টনে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।

ফ্রান্স-মরক্কোর ম্যাচে লড়াইয়ের ভেতরও আছে আরেক লড়াই। ইউরোপ ও আফ্রিকার দুই দেশের লড়াইয়ে সবার নজর থাকবে দুই বন্ধুর দিকে। একদিকে এমবাপ্পে, আরেকদিকে আশরাফ হাকিমি। দুজনে শুধু বন্ধু বললে ভুল হবে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ক্লাব ফুটবলে দুইজনের দহরম-মহরম ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের বাইরে তাদের রসায়ন সবার নজর কেড়েছিল। চলাফেরা, উঠাবসায় তারা ছিলেন মানিকজোড়। ক্লাবের খেলায় যাত্রা পথে দুজনে বসতেন পাশাপাশি। অবসর সময়ও দুজনে একত্রে কাটাতেন। ছুটি কাটাতে যেতেন একত্রে। তাদের এসব কিছু হয়েছিল পিএসজিতে খেলার সময়।

বয়সে দুজনে খুবই কাছাকাছি। ৪৬ দিনের ব্যবধান। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর জন্ম হাকিমির। এমবাপ্পের জন্ম একই বছর ২০ ডিসেম্বর। নিজেদের দেশের ক্লাবে এমবাপ্পে যোগ দেন ২০১৭ সালে। প্রথমে তিনি মোনাকো থেকে ধারে এসেছিলেন। পরের বছর ২০১৮ সালে তিনি ১৮০ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে পাকাপাকিভাবে নাম লেখান। আশরাফি হাকিমি যোগ দেন ২০২১ সালে। তিনি এসেছিলেন ইতালির ইন্টার মিলান থেকে ৫ বছরের জন্য।

হাকিমি আসার পর এমবাপ্পের সঙ্গে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। ড্রেসিং রুমে হাকিমিকে সহজেই মিশে যাওয়া, ফরাসি ভাষা শেখা এসব ব্যাপারে এমবাপ্পে বেশ সহযোগিতা করেন। দুজনের এই বন্ধুত্ব মাঠেও প্রভাব পড়ে। এমবাপ্পে ওপরে, হাকিমি ডানপ্রান্তে নিচে। এমবাপ্পের অনেক গোলের কারিগর হাকিমি। আবার এমবাপ্পের সহায়তায়ও হাকিমির গোল করার নজির আছে। গোল করার পর দুজনের ‘পেঙ্গুইন’ ভঙ্গিমার উদযাপনও সবার নজর কাড়ত আলাদা করে। পিএসজির হয়ে দুজনে ১০৯টি ম্যাচ ৭৯১৯ মিনিট একত্রে মাঠে ছিলেন।

এমবাপ্পে-হাকিমির এই বন্ধুত্ব এখন আর নেই। দুই জনের পথ দুই দিকে চলে গিয়েছে। এটি হয়েছে এমবাপ্পের কারণে। ২০২৪ সালে এমবাপ্পে পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। হাকিমি থেকে যান পিএসজিতেই। তারপর থেকে তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ। যদিও মুখোমুখি দেখা হয়েছে খুবই কম। প্রথম মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০২৫ সালে বিশ্ব ক্লাব কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে। যেখানে হাকিমির পিএসজি এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদকে বিধ্বস্ত করেছিল ৪-০ গোলে। কিন্তু বন্ধু থাকা অবস্থায়ই দুজনের দেখা হয়েছিল তারও আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে নিজ নিজ দেশের হয়ে।

দুই ঘনিষ্ট বন্ধু একে অপরের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখিতে শেষ হাসি হেসেছিলেন এমবাপ্পে। ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে এমবাপ্পে অবশ্য কোনো গোল করতে পারেননি। এমবাপ্পে আক্রমণ ভাগের এবং হাকিমি রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হওয়াতে এমবাপ্পেকে গোল করতে না দেওয়ার কাজে হাকিমি বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিলেন। আজ আবারও তারা মুখোমুখি হতে চলেছেন সেই বিশ্বকাপের মঞ্চেই, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে। যেখানে বন্ধু হয়ে উঠবেন শত্রু।

দুজনের মুখোমুখি দেখাতে ফলাফল কিন্তু সমানই। ক্লাব ফুটবলে হাকিমির দল জয়ী হলেও বিশ্বকাপে জয়ী হয় এমবাপ্পের দেশ। আজ একজনের এগিয়ে যাওয়ার পালা। যে জিতবে সে সেমিতে। যে হারবে তার বিদায়। গতবার হাকিমির মরক্কোর বিদায় হয়েছিল সেমিতে এমবাপ্পের ফ্রান্সের কাছে হেরে। এবার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা এমবাপ্পের সামনে টানা তৃতীয়বার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। লক্ষ্য পূরণে তার জয়ের বিকল্প নেই।

গতবার ফ্রান্স রানার্সআপ হলেও এমবাপ্পে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। আজ জিততে পারলে গোল্ডেন বুট ও ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা দুটিই বেঁচে থাকবে। বিশ্বকাপে হাকিমির মরক্কোর সর্বোচ্চ অর্জন সেমিফাইনালে খেলা। আজ জিততে পারলে গতবারের সমকক্ষতায় চলে যাবে। তারপর দৃষ্টি থাকবে ফাইনালের দিকে। আফ্রিকার একমাত্র টিকে থাকা প্রতিনিধি হাকিমি চান দলকে জিতিয়ে সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে। এমবাপ্পেকে আটকে রেখে গোল বঞ্চিত রাখা। তিনি বলেন, ‘মাঠে আমরা বন্ধু না। তাকে (এমবাপ্পে) আটকানোর জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব’।

এমবাপ্পে সরাসরি হাকিমিকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলের দেখা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মরক্কোকে নিয়ে সমীহ করে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মরক্কো অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমীহ করার মতো দল। তাদের বিরুদ্ধে আবার নামতে পেরে আনন্দিত।’

অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

কাঁদছিলেন লিওনেল মেসি। আনন্দে। স্বস্তিতে। জয়ের তৃপ্তিতে। কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্বপ্ন আবারও বাঁচিয়ে রাখার আবেগে।

আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে ৩-২ গোলের জয় ছিনিয়ে নেয় লা আলবিসেলেস্তেরা। শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির শেষ বাঁশি বাজতেই আটলান্টার ঘাসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখ বেয়ে নেমে আসে আনন্দ অশ্রু। এক এক করে ছুটে আসেন সতীর্থরা। জড়িয়ে ধরেন তাদের নেতা, তাদের বিশ্বাস, তাদের সবচেয়ে বড় প্রতীককে।

মধুর সমাপ্তির আগের গল্পটা ছিল যেন দুঃস্বপ্নের মতো। তখন মিসর এগিয়ে ১-০ গোলে। রেফারির বাঁশি বাজে আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টি দিয়ে। মেসি শট নেন এবং তা ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তাফা। বিশ্বমঞ্চে আরেকটি পেনাল্টি মিসে ক্যারিয়ারের এক নজিরবিহীন নেতিবাচক রেকর্ডও যোগ হয় মেসির নামের পাশে। মুহূর্তটি ছিল অসহ্য। নিজের কাছেই যেন হেরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিংবদন্তিরা সেখানেই আলাদা। তারা পড়ে যান। আবার উঠে দাঁড়ান। মেসিও তাই করলেন। ৭৯ মিনিটে গোল করান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে দিয়ে।

এই গোলে হঠাৎ করেই ফিরে এল আশা। স্টেডিয়ামে আবারও জেগে উঠল বিশ্বাস। তারপর এল সেই মুহূর্ত। বাঁ পায়ের এক নিখুঁত শট। বল জড়িয়ে গেল জালে। সমতা ফেরালেন মেসি। যে পা কয়েক মিনিট আগে পেনাল্টি মিস করেছিল, সেই পায়েই ফিরে এল মুক্তি। ফিরে এল বিশ্বাস। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ২১। কিন্তু নাটক তখনো শেষ হয়নি। শেষ মুহূর্তে আকাশে ভেসে উঠেন এনজো ফার্নান্দেজ। একটি হেড। একটি গোল। একটি জাতির উল্লাস। ৩-২। বিশ্বকাপ আবারও আর্জেন্টিনার শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত। এমন জয়ের পরও মেসির কণ্ঠে ছিল বিনয় এবং স্বস্তি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে কোয়ালিফাই করেছি, তাতে আমি খুবই খুশি। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই একই রকম। সবকিছু খুব কাছাকাছি। আমি খুবই খুশি।’

এরপর আরও গভীরভাবে বলেন, ‘ম্যাচ যেভাবে এগিয়েছে, তাতে এটা সবার জন্যই এক ধরনের স্বস্তি ছিল। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ফেরা সহজ নয়। কিন্তু আমি সব সময় যেমন বলি, এই দল কখনো হাল ছাড়ে না এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যায়। রোমেরোর গোলটা দ্রুত পেয়ে আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম। তখনো সময় ছিল এবং আমরা ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছি। এই দল যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। আমি খুবই খুশি, খুবই আনন্দিত যে মানুষ আমাদের খেলা আরও উপভোগ করতে পারবে। আশা করি আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে পারব।’

তার মনে রয়ে গেছে পেনাল্টি মিসের যন্ত্রণা। সেটি লুকানোর চেষ্টা করেননি। বরং অকপটে স্বীকার করেছেন নিজের কষ্ট। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টিটা মিস করে আমি ভীষণ রাগান্বিত ছিলাম। আবারও মিস করায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত। আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টি ছাড়াও আমাদের পরিষ্কার সুযোগ ছিল। গোলরক্ষক (মোস্তাফা) অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছেন। সৌভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত আমি সুযোগটা পেয়েছি। তার পর এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু।’ এরপর তিনি যে কথাটি বললেন, সেটিই যেন পুরো ম্যাচের সারাংশ, ‘এটি আমাদের গর্ব, চরিত্র এবং জয়ের ইচ্ছাশক্তির আরেকটি উদাহরণ। আমি এই দলকে নিয়ে খুবই গর্বিত।’

আটলান্টার সেই রাত শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মেসির চোখের জল, আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন আর এই ৩-২, বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক দিন ধরে বেঁচে থাকবে। তবে এখন আর্জেন্টিনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে কানসাস সিটিতেও পৌঁছে গেছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই আর্জেন্টিনা শুধুই মেসিনির্ভর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
এই আর্জেন্টিনা শুধুই মেসিনির্ভর
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল উত্তেজনা, নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চে ভরা। আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের সার্বিক চিত্র বিবেচনা করলে বলতে হবে, মিসরও অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। শেষ পর্যন্ত তারা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করেছে।

ফুটবলে অনেক সময় ভাগ্যও বড় ভূমিকা রাখে। এই ম্যাচে ভাগ্য ছিল আর্জেন্টিনার পক্ষে। নইলে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় মিসরের জয় অসম্ভব কিছু ছিল না।

ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করেন। ওই মুহূর্তে কিছুটা মানসিক চাপে পড়ে যান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে তার কিছুটা সময় লেগেছে। অন্যদিকে মিসর নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্দান্তভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।

মোস্তাফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসর। এর আগে জিকোর আরেকটি গোল বাতিল হয়। সেই গোলটি বহাল থাকলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। মিসরের জন্য সেটিই হতে পারত ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

তবে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। এই কামব্যাকে মেসির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমার মনে হয়েছে, পুরো ম্যাচে মেসির ফিটনেস শতভাগ ছিল না। শুরু থেকেই তাকে আক্রমণভাগের মাঝ বরাবর খেলতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে নিচে নেমে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা মেসির কাছ থেকে যে ধারাবাহিক ড্রিবলিং, গতির পরিবর্তন ও একক প্রচেষ্টায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত, তা এ ম্যাচে খুব বেশি দেখা যায়নি।

মিসর যখন মাঝমাঠের সেই জায়গাগুলো কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়, তখন মেসি ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। আর সেখান থেকেই তিনি ধীরে ধীরে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর প্রথম গোলের পেছনে মেসির অবদান ছিল। এরপর বক্সে ঢুকে লাউতারো মার্তিনেজকে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে দেন, যদিও মার্তিনেজ সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

পরবর্তীতে মেসি নিজেই একটি দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন। যদিও বলটি প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে কিংবা গোলরক্ষকের স্পর্শে বাইরে চলে যেতে পারত, কিন্তু ভাগ্যও এ সময় মেসির সঙ্গে ছিল। আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস এবং এনজো ফার্নান্দেজের হেড ছিল প্রশংসনীয়। দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া সেই হেডে গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। তবে ওই সময় সালাহকে ফাউল করা হয়েছে বলে মিসরের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে। রেফারি খেলা চালিয়ে গেলেও আমার মনে হয়, এখানে ভিএআর পর্যালোচনা করা উচিত ছিল। ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত নিলে বিতর্কের সুযোগ কমে যেত।

মিসরের একটি গোলও ভিএআর দেখে বাতিল করা হয়েছিল। সেটিতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের বিষয়টি পরিষ্কার ছিল। তাই তৃতীয় গোলের সময়ও একই ধরনের প্রযুক্তিগত যাচাই হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হতো।

গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজেই জয় পেয়েছে। তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দে তাদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায়।

মিসরের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনাকে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে মনে হচ্ছে, দলটি অনেকটাই মেসিনির্ভর। মেসির উপস্থিতিই আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা এনে দিচ্ছে। মেসি না থাকলে এই দলের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর থাকবে, সেটি বড় প্রশ্ন।

শেষ আটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। কেপ ভার্দে ও মিসরের ম্যাচের তুলনায় এই লড়াই কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে মিসরের বিপক্ষে পাওয়া জয় আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আর্জেন্টিনার জয় পাওয়াই প্রত্যাশিত।

লেখক: সাবেক ফুটবলার