ছবি: খবরের কাগজ
পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালে রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ বলা হলেও অন্য ল্যাবে তা ‘এবি’ পজিটিভ আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন রোগী হালিমা খাতুন।
গত ২ জুলাই হালিমা খাতুন নিয়মিত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালে যান। হালিমা খাতুনের শরীরে রক্ত সল্পতায় ডা. নাইমের পরামর্শ নেন। পরে তিনি জরুরি ভিত্তিতে রক্ত গ্রহনের পরামর্শ দেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা শহরের প্রাইম ক্লিনিকে রক্ত গ্রহনের জন্য যান হালিমা খাতুন।
এ সময় প্রাইম ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রক্তের ক্রস মেসিং করার পরামর্শ দেন। পরে বন্ধন ব্লাড ব্যাংক থেকে জানানো হয়, রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ নয় বরং ‘এবি’ পজিটিভ। এ সময় দুঃশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। পরে আবারও রক্তের গ্রুপ নির্নয়ের জন্য দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে যান তারা। সেখানে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে জানা যায়, হালিমার রক্ত ‘এবি’ পজিটিভ। এভাবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে দিনভর হয়রানির শিকার হন ওই রোগীর স্বজনেরা। পরে সন্ধ্যার দিকে ‘এবি’ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয় রোগীকে।
রোগী হালিমা খাতুনের মেয়ে শিউলি আক্তার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমার মায়ের রক্তের গ্রুপ নিয়ে বিপাকে পড়েছি। কারণ ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে ভুল রক্তের গ্রুপ নির্নয় করছে। তাদের ভুলে যদি আমার মায়ের কোনো কিছু হয়ে যেত তাহলে এর দায়ভার কে নিতো।’
রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কারী আবু বাসার রানা বলেন, ‘আসলে ভুল আমারই হয়েছে। আমি সঠিক সেবা দিতে পারিনি।’ এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি তিনি।
এ বিষয়ে মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ সাদেকুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘আসলে এটি কম্পিউটার মিসটেক। এ ধরনের ভুল আসলে হয় না। তবে ছেলেটি যেহেতু কম বেতনে চাকরি করেন, তাকে নিয়ে নিউজ না করলেও তো হয় ভাই।’
পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে কেউ আমাদের অভিযোগ করেনি এখনও। প্রশাসনিক বিষয় আমি একা মনিটরিং করি না।‘
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ’আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
তবে এ বিষয়ে জানতে পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোছা শুকরিয়া পারভীনকে ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
রনি মিয়াজী/খাদিজা রুমি/