ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ রেফারি বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন মরক্কোর কোচ ‘আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও’ স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন আখাউড়ায় বৃষ্টির দিনে ছাতা উপহার প্রবাসী বিএনপি নেতার উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে গলাকেটে হত্যা চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক মা পঞ্চগড় ডায়াবেটিক হাসপাতালে ভুল ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট, বিপাকে রোগী নড়িয়ায় এলজিইডির অফিস সহকারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ২০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা ফুঁসছে মুহুরি-কহুয়া-সিলোনিয়া, ফেনীতে বন্যার আশঙ্কা আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল মিসরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া ছোট সরালির কথা রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ বন্ধু তুমি শত্রু তুমি বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে? অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা

আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল
হাইকোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ একই সঙ্গে আদেশ দিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, গণভোট এবং সংবিধানে হস্তক্ষেপ করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধানও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেন। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার এ সংশোধনী আনে।

সংশোধনীতে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসহ প্রায় ৫৪টি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। পরে আরও চারজন পক্ষভুক্ত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারীরা।

গত রবিবার থেকে টানা তিন দিনের শুনানিতে রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবীরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানান তারা।

অমিয়/

দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগে করা এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।

গত ৩০ জুন মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান। আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। 

গতকাল শুনানির আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় বলা হয়, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাহিত এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন, স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন ও জহিরুল ইসলাম খান, শিক্ষক শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা ও মো. আরিফুল ইসলাম।

২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। 

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী একটি মামলায় তার বিচার চলছে।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ

মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাস হাজতবাস করতে হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক নূরে আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপন ও পাচারের অভিযোগে করা এ মামলায়  অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অপর আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষনার আগে দুইভাইকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মো. সেলিম খান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, আইনের বিধানমতে মামলায় ইতোপূর্বে তাদের হাজতবাসের সময় সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২১ সালের ৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক এনু, তার ভাই রুপন ভূঁইয়াসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অবৈধ উপায়ে অর্জিত প্রায় ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা গোপনে সংরক্ষণ ও উৎস গোপনের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত, একই আদালতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি একই আইনের আরেক মামলায়  দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড ও ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক নতুন মামলায় গ্রেপ্তার
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে এবার রাজধানীর বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ভার্চুয়ালি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২ জুলাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। 

সাবেক প্রধান বিচারপতি কারাগারে থাকায় তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। 

গত ৬ জুলাই ধার্য তারিখে তাকে আদালতে আনা হলেও মামলার নথি না থাকায় ভার্চুয়ালি শুনানির জন্য পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় এ মামলা করেন।

খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করার পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি, দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যাসহ মোট আট মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

হাইকোর্ট থেকে সবকটি মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। 

গত ২ জুলাই সর্বশেষ মামলার শুনানি শেষে তার জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ফলে কারামুক্তিতে কোনো বাধা ছিলোনা। 

তবে একইদিন বিকেলে বনানী থানার এ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় আর মুক্তি পাননি তিনি। 

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে আলোচিত সাবেক এ বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

২০১১ সালের ১০মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। 

টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আদালত এদিন ঠিক করেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয় সংসদের ছেড়ে দেয়ার আবেদন জানিয়ে শুনানি শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে সোমবার সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য পক্ষভুক্তরা শুনানি শেষ করেন।

বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, পঞ্চদশ সংশোধন ছিল প্রতারণা। তাই এটি পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানান তিনি। তবে, শুনানিতে তিনি ৯৬ ও ১০২  অনুচ্ছেদের সুরক্ষা চান।

এদিকে, পঞ্চদশ সংশোধনীর যে সমস্ত বিষয় মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক সেগুলো বাতিল ও বাকিগুলো সংসদের উপর ছেড়ে দেয়ার আবেদন করে আপিল বিভাগে পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক বাতিল চেয়ে শুনানি শেষ করেন জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির।  

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

 প্রসঙ্গত, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন।

১৫ বছর আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। 

হাইকোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরার পথ খুললেও কিছু জটিলতা থেকে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিলটি করেন। নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক আপিল করা হয়। 

আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

রিফাত/

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো-পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। আর খালাস পাওয়া আসামি হলেন ইদ্রিস আলী। তারা সবাই বকশীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ শেরপুর জেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে ইদ্রিস আলীর ইজিবাইক করে বকশীগঞ্জের জানকিপুরের ভাড়া বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি থামিয়ে গৃহবধূকে একটি ভ্যান গাড়িতে তুলে নেয় আসামিরা। পরে বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া উত্তরপাড়ায় ফরিদ নামে এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে আসামিরা ওই গৃহবধূকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ৬ জনের নামে ও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। আট মাস পর মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আজ সব আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মোকাম্মেল হক।

রিফাত/