ইউক্রেনের মাঝারি পাল্লার ড্রোন হামলা ঠেকাতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে রাশিয়া। ছদ্মবেশে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সিগন্যাল ব্যাহত করতে শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেম ব্যবহার করছে মস্কো। ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার ও পাইলটরা বুধবার (৮ জুলাই) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্টারলিংকের মাধ্যমে পরিচালিত ইউক্রেনের মাঝারি পাল্লার ড্রোনগুলো এখন রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকার অনেক ভেতরে আরও নির্ভুল ও কম খরচে হামলা চালাতে সক্ষম। চলতি বছরে এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার সরবরাহপথ, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও কমান্ড সেন্টারে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে মোতায়েন ৪২২তম আনম্যানড (মানববিহীন) সিস্টেমস রেজিমেন্ট পরিদর্শনের সময় চারজন ইউক্রেনীয় ড্রোন কমান্ডার ও পাইলট রয়টার্সকে জানান, এসব হামলা ঠেকাতে রাশিয়া এখন বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তাদের মতে, রাশিয়া শহর ও সামরিক স্থাপনার আশপাশে উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেম বসিয়েছে, যা স্টারলিংকের সিগন্যালও প্রতিহত করতে সক্ষম।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ জানান, রাশিয়া ‘ভলনা কুপোল গ্যারান্ট’ নামে একটি জ্যামিং ব্যবস্থা বসিয়েছে। এটি প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এত শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়ায় যে স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত হয়। এখন পর্যন্ত এ ধরনের অন্তত ১০টি সিস্টেম শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব জ্যামিং সিস্টেম এখন ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলোর অগ্রাধিকার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
৪২২তম রেজিমেন্টের কমান্ডার কোলেসনিক জানান, তাদের ইউনিট দুটি জ্যামিং সিস্টেম ধ্বংসের অভিযানে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সঙ্গে যৌথ অভিযানে শনাক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন হামলায় ট্রেইলারের মতো দেখতে ছয়টি বড় কনটেইনারসহ একটি স্থাপনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
‘ডিরিহেন্ট’ ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এক ড্রোন কমান্ডার বলেন, ‘ওই স্থাপনায় আঘাত হানার পরই আমাদের স্টারলিংক নিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই উড়তে শুরু করে।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে স্পেসএক্স সাড়া দেয়নি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স স্বাধীনভাবে রাশিয়ার এসব কৌশল যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স