ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা? এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে ব্যাংক হলিডের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স ও মরক্কোর শুরুর একাদশে আছেন যারা হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড

ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুর নরম করে তাদের প্রতি আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক পরিবেশে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিরূপ অবস্থান থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবে ফিরে আসা ট্রাম্পের আচরণ তার বহুল আলোচিত অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক শৈলীরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ছিল দারুণ একটি বৈঠক। কক্ষে অনেক আন্তরিকতা ছিল, ছিল ঐক্যের চেতনা।’

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ট্রাম্প মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়। সেখানে ন্যাটো নেতারা জোটের চুক্তির অনুচ্ছেদ-৫-এ বর্ণিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের প্রতি তাদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঘোষণায় বলা হয়, ‘এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা।’ এই ভাষার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে।

দিনের শুরু ছিল উত্তেজনাপূর্ণ
তবে দিনের শুরুটা ছিল ভিন্ন। সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ইরানবিরোধী অভিযানে ন্যাটো মিত্রদের সমর্থন না দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার হুমকি দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট... গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তারা যা করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা না করায়।’

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বদলে যায় অবস্থান
তবে বৈঠকে সরাসরি অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর ট্রাম্পের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত ওই সূত্র।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রকাশ্যে যা বলেন এবং বৈঠকের ভেতরে যা বলেন—দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।’

ইরান নিয়েও ট্রাম্পের ভাষা তুলনামূলক সংযত ছিল। বৈঠকের আগে তিনি ইরানকে ‘আবর্জনা’ এবং ‘হিংস্র ও সহিংস মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেও, বৈঠকের ভেতরে তার বক্তব্য ছিল অনেক কম কঠোর।

এছাড়া, বৈঠকের পর তিনি স্পেন বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও আর তোলেননি।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখালও বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি গঠনমূলক।

তিনি বলেন, ‘তিনি মূলত এই বার্তাই দিয়েছেন যে ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং আলোচনাও ছিল গঠনমূলক।’ 

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ন্যাটো জোটের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, এতে ন্যাটো দুর্বল হচ্ছে বা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা উচিত হবে না।’

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।

সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। এটা দারুণ ব্যাপার, তাই না?’

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান স্থিতিশীল করার মাধ্যমে ইউক্রেন পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়েই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ‘৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার)’ সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক
আঙ্কারা ত্যাগের আগে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‘ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য’
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজের সামরিক ভূমিকা কমিয়ে আনতে চাওয়ায় এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে অনড় থাকায় ৭৭ বছর বয়সী ন্যাটো জোটের জন্য এ সম্মেলন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে, যা প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তুরস্কের এ সম্মেলনের পর জোট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় মনে করি, যে পরিবারে কখনও খোলামেলা আলোচনা হয়, কখনও কিছুটা মতবিরোধও হয়—সেই পরিবারই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।’ সূত্র: এএফপি

নাঈম/

মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯  জুলাই) রাতে দেশটির পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফনের আগে লাখো মানুষ খামেনির ছবি এবং বিপ্লবের স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শোকমিছিলে অংশ নেন। এই দাফন অনুষ্ঠানেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি খামেনির ছেলে ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে।

সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠানের শেষ দিনে খামেনির মরদেহ ট্রাকে করে ধীরে ধীরে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক পেরিয়ে মাজারে নেওয়া হয়। সাদা পাগড়ি পরা আলেমদের উপস্থিতিতে কালো পোশাক পরা শোকাহত জনতা ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি।  লিখিত বিবৃতি দিলেও তার কোনো ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। তেহরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, মোজতবা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ঝুঁকি এড়ানো যায়।

মাশহাদে খামেনির শেষযাত্রার অপেক্ষায় থাকা জনতার একটি অংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেয়। তারা স্লোগান দেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্তের শপথ– ট্রাম্প, আমরা তোমাকে হত্যা করব।’ অনেক নারীর হাতে ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি ‘আমেরিকার মৃত্যু’সহ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পুরোনো স্লোগানও উচ্চারিত হয়।

দাফনের আগে খামেনির মরদেহ এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ তেহরান, শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র কোম এবং ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হয়। প্রতিটি স্থানেই বিপুল জনসমাগম হয় এবং শোকগাথার সঙ্গে বিপ্লবী স্লোগান ধ্বনিত হয়।

শিয়া ধর্মতত্ত্বে শাহাদতের বিশেষ গুরুত্ব থাকায় বিদেশি শত্রুর হাতে খামেনির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুলে ধরছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বিশাল জনসমাগমকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জনপ্রিয়তা ও ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এর বিপরীতে দেশটিতে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার বিক্ষোভ হয়েছে। খামেনির ৩৭ বছরের শাসনামল নিয়ে দেশটির ভেতরেও তীব্র মতভেদ রয়েছে।

১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর খামেনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা নিজের কার্যালয়ের অধীনে কেন্দ্রীভূত করেন। এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের প্রভাব কমে যায় এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ক্রমেই দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়।
খামেনির মৃত্যুর পর আইআরজিসির সমর্থনেই মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে বাহিনীটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 রয়টার্স/এসএন

 

মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে চুক্তি ভঙ্গের স্পষ্ট ইঙ্গিত উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান এবং ওয়াশিংটনের যুদ্ধমুখী নীতির সমালোচনা করেন।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে "জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" এবং "ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করেন আরাঘচি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ফোনালাপে আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর "যেকোনো বেপরোয়া পদক্ষেপ" সম্পর্কে সতর্ক করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আরাঘচি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান তার আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এসএন/

রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

বৃহৎ জানাজা ও শোকযাত্রা শেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহবাহী কফিন ইরানের মাশহাদে পৌঁছেছে।

ইরান ও প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পাঁচটি শহরে ছয় দিন ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীকপূর্ণ এসব আয়োজনে শেষ দিনে বিশাল জনসমাগম হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শেষ দিনের শোকযাত্রা মাশহাদের প্রধান সড়ক পেরিয়ে স্বর্ণগম্বুজবিশিষ্ট ইমাম রেজার মাজারের দিকে যায়।

মাশহাদই ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্মস্থান।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের অনেককে ইরানের পতাকা, খামেনির ছবি ও খামেনি হত্যার প্রতিশোধের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে।

এদিকে, খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনও জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

আধুনিক ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনকালে হয়ে ওঠেন প্রজাতন্ত্রের নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু।

জীবন্ত এই কিংবদন্তির চার দশকেরও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছেন সমানে সমানে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই হামলাতেই নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮
ছবি: সংগৃহীত

চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জিনজিয়াং শহরে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার জানায়, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৮ জন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জিনজিয়াং শহরের ওই কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল ও উদ্ধারকর্মীদের কয়েক ডজন সদস্য কাজ করছেন।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরের  হুইতেং শুজ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পরও কারখানার ভেতরে মানুষ আটকে ছিলেন। তাদের উদ্ধারে ১৮৩ জন দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং ৩৫টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনায় ‘ব্যাপক প্রাণহানির’ কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা আগুনে পুড়ে যাওয়া বহুতল ভবনে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ভবনের ভাঙা জানালা দিয়ে ঘন ধূসর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

শোকবার্তায় শি জিনপিং বলেন, ‘অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের প্রচেষ্টার ঘাটতি রাখা যাবে না।’ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোরও নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ যত দ্রুত সম্ভব উদঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসায় ‘সর্বাত্মক’ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিনহুয়া জানিয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি এখনও কারখানার ভেতরে আটকে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

গত নভেম্বরে হংকংয়ে কয়েকটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর চীন দেশজুড়ে উঁচু ভবনগুলোতে অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এর এক মাস পর দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ১২ জন নিহত হন।

এএফ/

ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের একটি স্থাপনায় কথিত বোমা হামলার একটি ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ইরানের গতকালের জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ। যদি আবার এমনটি ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও অনেক ভয়াবহ হবে!’

পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গেও একই ধরনের বক্তব্য দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হেনেছি। আমি বলব, তারা আমাদের একবার আঘাত করলে আমরা তাদের ২০ গুণ জবাব দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতেও আমরা সেটাই করেছি। তারা আজ সামান্য কিছু করেছে, কিন্তু সেটিও মূলত গত রাতের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে।’ সূত্র: এএফপি 

নাঈম/