ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ফ্রান্সের একাধিক সুযোগ ঠেকিয়ে দেন। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিয়ে মরক্কোকে ম্যাচে রাখেন। আর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় ফ্রান্সকে। তাতে প্রথমার্ধে গোলহীন থাকে দুই দল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হয় এই ম্যাচ।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে রেখে আক্রমণে উঠে ফ্রান্স। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শট নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বলটি লক্ষ্যে না থাকলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন।
এর পরপরই বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে কোনো বাধা ছাড়াই হেড করার সুযোগ পান দায়ো উপামেকানো। তবে ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বলের গতিপথ বুঝে সেভ করে দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুবার আক্রমণ চালায় ফ্রান্স।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে আক্রমণে উঠে মরক্কো। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাহিম দিয়াজকে থামিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে। এরপর হেডের সুযোগ পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বাম দিক থেকে ক্রসে বল বক্সে পাঠান দেজিরে দুয়ে। সেটি দেম্বেলেকে খুঁজে নিলেও তার হেডে বল চলে যায় বাইরে। তাতে সুযোগ নষ্ট হয় ফ্রান্সের।
তবে ম্যাচের ২৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এমবাপ্পেকে ট্যাকল করেন নুসাইর মাজরাউই। তাতে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু তা গোলে রূপান্তর করতে পারেননি এমবাপ্পে। তার নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। তাতে গোলবঞ্চিত হয় ফ্রান্স।
হাইড্রেশন বিরতি থেকে ফিরে আরও একবার গোলের সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। কিন্তু এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান ইয়াসিন বুনু। মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদে পড়ে মরক্কো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শট নেন দেজিরে দুয়ে। তার নিচু শটটি গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা রুখে দেন বুনু।
ফ্রান্সের আরও এক সুযোগ নষ্ট হয় ক্রসবারে লেগে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২) প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনে। তার সেই শট মরক্কোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে গিয়ে লাগে। তাতে অল্পের জন্য গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স, আর স্বস্তি পায় মরক্কো।
তাতে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। তারা ১৩টি শট নেয়, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল চারটি। অন্যদিকে, মরক্কো একটি শট নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এসজি/