বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু প্রতিপক্ষকে হারালেই চলবে না, অনেক ফুটবলারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ; হলুদ কার্ড এড়িয়ে খেলা। কারণ এই পর্বে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই ১৮ জন ফুটবলার সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না।
সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে খেলোয়াড় ঝুঁকিতে আছেন। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়িকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন মরক্কোর ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস।
এ ছাড়া ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা, সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইম, আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল, স্পেনের ফেরান তোরেস, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে এবং নরওয়ের আন্তোনিও নুসাও একই ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে একটি ভুল ট্যাকল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল কিংবা রেফারির সঙ্গে তর্কও তাদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ৪৮ দলের আসরে অতিরিক্ত একটি নকআউট পর্ব যুক্ত হওয়ায় আগের নিয়ম বহাল থাকলে অনেক বেশি ফুটবলার নিষেধাজ্ঞায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড গ্রুপ পর্বেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এরপর শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে পাওয়া হলুদ কার্ডের হিসাব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। ফিফার মতে, নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো বড় ম্যাচগুলোতে তারকা ফুটবলারদের অযথা নিষিদ্ধ হওয়া কমিয়ে আনা। কারণ নতুন ফরম্যাটে দলগুলোকে আগের চেয়ে বেশি নকআউট ম্যাচ খেলতে হচ্ছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে যাদের নামের পাশে ইতোমধ্যে একটি হলুদ কার্ড রয়েছে, তাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্তই বাড়তি সতর্কতার। কারণ আরেকটি কার্ড শুধু একজন ফুটবলারের নয়, বদলে দিতে পারে পুরো দলের সেমিফাইনালের পরিকল্পনাও।