রাঙামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে পাহাড়ধসের ঘটনার মধ্যেই এখন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
সড়ক তলিয়ে যাওয়া ও পাহাড় ধসে পড়ার কারণে বাঘাইছড়ি, সাজেক ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। গত ৭ ও ৮ জুলাই অতি ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে শুরু করে।
রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৬০ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আরও ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭টি পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক, পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে এবং উপজেলায় মোট ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলারও বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখানকার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবার, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
জিয়াউর রহমান/এএফ