বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও পুলিশ-স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা এবং একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়। হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক ব্যক্তি মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালান। এ সময় থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম (৪৭) আহত হন। আহত শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আহত আরও কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হামলায় এএসআই আব্দুল হালিম ছাড়াও কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকিরের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করেছেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএন/