ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা? এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতলে ব্যাংক হলিডের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর ফ্রান্স ও মরক্কোর শুরুর একাদশে আছেন যারা হলুদের ফাঁদে ১৮ তারকা ফ্রান্স-মরক্কো লড়াই অনলাইনে দেখবেন যেভাবে কেন গুগলে নিজের নাম সার্চ দিতে বললেন আর্লিং হালান্ড? দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ইংলিশ ডিফেন্ডার মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড

এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ এএম
এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিলেন বুনু
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ আটের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়া দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হয় এই ম্যাচ।

ম্যাচের শুরুতে বল দখলে রেখে আক্রমণে উঠে ফ্রান্স। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শট নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বলটি লক্ষ্যে না থাকলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন। 

এর পরপরই বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে কোনো বাধা ছাড়াই হেড করার সুযোগ পান দায়ো উপামেকানো। তবে ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বলের গতিপথ বুঝে সেভ করে দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেন। ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুবার আক্রমণ চালায় ফ্রান্স।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে আক্রমণে উঠে মরক্কো। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাহিম দিয়াজকে থামিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে। এরপর হেডের সুযোগ পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বাম দিক থেকে ক্রসে বল বক্সে পাঠান দেজিরে দুয়ে। সেটি দেম্বেলেকে খুঁজে নিলেও তার হেডে বল চলে যায় বাইরে। তাতে সুযোগ নষ্ট হয় ফ্রান্সের।

তবে ম্যাচের ২৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এমবাপ্পেকে ট্যাকল করেন নুসাইর মাজরাউই। তাতে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু তা গোলে রূপান্তর করতে পারেনি তারা। এমবাপ্পের নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। তাতে গোলবঞ্চিত হয় ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কোকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন বুনু। 

এসজি/

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা?

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ এএম
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা?
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে জয় নিশ্চিত করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া পেনাল্টি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।

আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এসজি/

উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান
ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের অভিজ্ঞতার পরিধি খুব কম মানুষেরই আছে। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়, কোচ হিসেবে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া, আর এখন টুর্নামেন্টের কারিগরি বিশ্লেষক–বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের সঙ্গে তার সম্পর্ক কয়েক দশকের।

জার্মানির এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেন। ১৯৯০ সালে ইতালিতে পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি করেন ১১টি গোল। পরে কোচ হিসেবে ২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানিকে সেমিফাইনালে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন।

বর্তমানে ক্লিন্সমান ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের (টিএসজি) সদস্য। এই দলের কাজ হলো বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের গভীর কারিগরি বিশ্লেষণ করা এবং সেই বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সম্পর্কে বোঝাপড়াকে আরও সমৃদ্ধ করা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করা ক্লিন্সমান এবার ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। টুর্নামেন্টের চমক, নতুন দলগুলোর সাফল্য, মিসর ও নরওয়ের উত্থান, অভিজ্ঞ তারকাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ–বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ সম্পর্কে আপনার সামগ্রিক মূল্যায়ন কী?
৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় আমরা এই টুর্নামেন্টে অনেক দারুণ চমক দেখেছি। এর ফলে বিশ্বকাপে সাধারণত যতটা দেখা যায়, তার চেয়ে কয়েকটি বেশি আন্ডারডগ দল সুযোগ পেয়েছে এবং তারা ভালোও করেছে। কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে কঠিন চাপে ফেলেছিল। এমন কিছু দলকে আমরা দেখেছি, যারা বড় দলগুলোকে ভুগিয়েছে। দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি অসাধারণ হয়েছে। সব স্টেডিয়ামই দর্শকে পরিপূর্ণ, পরিবেশ দুর্দান্ত, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও সমর্থকরা উদযাপন করছেন।

এত বড় একটি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দেশগুলো অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারা অনেক সাহায্য করে। তারা সবাই নকআউট পর্বে উঠেছে, এটি বিশাল একটি বিষয়। মাঠে এবং মাঠের বাইরে–দুই দিক থেকেই এটি দারুণ সফল হয়েছে।

চারটি অভিষিক্ত দলের মধ্যে কেপ ভার্দে এত ভালো করল কেন? সামগ্রিকভাবে এটি ফুটবল সম্পর্কে কী বার্তা দেয়?
এটি দেখায় যে বাছাইপর্বগুলো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং তারা একটি কারণেই এখানে এসেছে–তারা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের প্রাপ্য। আপনি যদি আফ্রিকার মতো একটি অঞ্চল থেকে উঠে আসেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো দল হতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা টুর্নামেন্টে অনেক আনন্দ এবং অসংখ্য চমকপ্রদ মুহূর্ত এনে দিয়েছে। তারা দারুণ ফুটবল খেলেছে এবং এটিও বিশ্বকাপের গল্পেরই একটি অংশ। শেষ পর্যন্ত, যখন আপনি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাবেন, তখন সাধারণত প্রত্যাশিত দলগুলোকেই সেখানে দেখতে পাবেন। হয়তো এমন একটি চমকপ্রদ দল থাকবে, যাদের আপনি আগে ভাবেননি। তবে বিশ্বকাপে এমন গল্প তৈরি হওয়া দারুণ ব্যাপার এবং এটি টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করে।

মিসর আগে কখনোই বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জেতেনি, তাদের এত দূর যাওয়া এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে নরওয়ের ভালো পারফরম্যান্সকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
তারা এমন দুটি দেশ, যারা ভবিষ্যতে পরাশক্তিতে পরিণত হবে। তাদের মধ্যে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে তারা বিশ্বের সেরা ১০ দলের একটি হয়ে উঠতে পারে। মিসর সব সময়ই বিশ্বের সবার কাছ থেকে অনেক সম্মান পেয়ে এসেছে। তারা এখনও বিশ্বকাপে সেটি দেখাতে পারেনি, যেমনটি মরক্কো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে দেখিয়েছিল। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে তারা সবসময়ই শেষ চারে থাকে এবং ইউরোপের বিভিন্ন লিগে তাদের শীর্ষমানের খেলোয়াড় রয়েছে, যা অনেক বড় বিষয়।

নরওয়েকে নিয়ে বলতে গেলে, আমরা এখন এমন একটি দেশকে দেখতে পাচ্ছি, যারা ১৯৯০-এর দশকের ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে কিছুটা মিল রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে এত উদ্যম, প্রতিভা এবং গুণগত মান রয়েছে যে, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে তারা আজকের ক্রোয়েশিয়ার মতোই একটি বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হতে সক্ষম। বর্তমান নরওয়ে দলটির সঙ্গে আমি সেই ক্রোয়েশিয়া দলের মিল দেখতে পাই, কারণ এটি শুধু আর্লিং হালান্ড বা মার্টিন ওডেগার্ডকে ঘিরে নয়, এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। তাদের দলে অনেক গভীরতা রয়েছে এবং এটি এমন একটি দেশ, যারা খুবই উদ্যমী। ফলে তাদের মানসিকতা শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। অলিম্পিকভিত্তিক খেলাগুলোতেও আপনি এটি দেখতে পাবেন, যেখানে নরওয়ে সেরাদের অন্যতম।

ত্রিশের শেষ দিকে এবং চল্লিশের শুরুর দিকে থাকা এত খেলোয়াড়কে পঞ্চম ও ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে দেখে আপনার মূল্যায়ন কী?
এই ক্রীড়াবিদদের দেখে দারুণ লাগে এবং বিষয়টি সত্যিই মুগ্ধকর যে তারা বুঝতে পেরেছে, নির্দিষ্ট জীবনধারা এবং নিজের পেশার প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে তারা তাদের ক্যারিয়ার চতুর্থ, পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে পারে। চল্লিশের শুরুর দিকে খেলা–২০ বা ৩০ বছর আগে কেউই এটি কল্পনা করতে পারত না। এখন শুধু ফুটবল নয়, সব ধরনের খেলাতেই আপনি এটি দেখতে পাচ্ছেন। আমার কাছে এটি অনেক তরুণ ক্রীড়াবিদ ও শিশুদের অনুপ্রাণিত করে যে, আপনি যদি নিজের যত্ন নেন, তাহলে ২০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের নিবেদন ও মনোযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

এই টুর্নামেন্টে আপনারা অভিজ্ঞ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের দেখছেন, যেমন–লুকা মদ্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ম্যানুয়েল নয়্যার এবং এ ধরনের আরও অনেকে। এরপর রয়েছে লামিনে ইয়ামাল বা জুড বেলিংহামের মতো উদীয়মান তরুণরা, যারা এখনও বেশ তরুণ এবং এখন তাদের সামনে অনুসরণ করার মতো আদর্শ রয়েছে। আমি যদি ফ্লোরিয়ান উইর্টজে হতাম এবং এই মুহূর্তে মেসি ও রোনালদোকে দেখতাম, তাহলে ভাবতাম–আমি যদি নিজের যত্ন নিই এবং আশা করি বড় কোনো চোট না পাই, তাহলে আমার সামনে এখনও ১৫-১৮ বছরের ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এটি নতুন প্রজন্মের জন্য দারুণ একটি দিকনির্দেশনা।

এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ এএম
এমবাপ্পে-দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হলো মরক্কোর স্বপ্নের বিশ্বকাপ যাত্রা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা।

প্রথমার্ধে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ফ্রান্সের সামনে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক নিতে আসেন ফরাসি অধিনায়ক নিজেই। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। 

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় এগোয় ম্যাচ। বলের দখল ধরে রেখে মরক্কোর রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ফ্রান্স। ৫৬ মিনিটে দেজিরে দুয়ের নেওয়া নিচু শটও সামলে নেন বুনু।

তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে শেষ পর্যন্ত ভাঙে গোলের অপেক্ষা। বাম প্রান্তের আক্রমণ থেকে বল পান দুয়ে। বক্সের বাইরে থাকা এমবাপ্পের দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। খুব কম জায়গার মধ্যেও নিজের অসাধারণ দক্ষতায় শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন এমবাপ্পে। তার বাঁকানো শট দূরের কোণে জড়িয়ে যায় জালে। বুনু ঝাঁপিয়েও রুখতে পারেননি সেই দুর্দান্ত ফিনিশ।

এদিক গোলের পর মরক্কোর খেলোয়াড়রা আক্রমণের শুরুতে হ্যান্ডবলের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন রেফারি।

এর মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপ্পের গতির কারণে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠেন তিনি। বক্সে ঢুকে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। এবারও বুনুর প্রতিরোধ কাজে আসেনি।

২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও লড়াই ছাড়েনি মরক্কো। তবে ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেদ করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। 

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে বসে পড়েন ফ্রান্স অধিনায়ক। এর আগেও কয়েকবার অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে।। তার জায়গায় নামেন জিন-ফিলিপ মাতেতা।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি হয় মরক্কোর। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে আশরাফ হাকিমির বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে জোরালো শট নেন আজ্জেদিন উনাহি। তবে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ সেটি পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করেন। এটিই ছিল মরক্কোর ম্যাচে প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট।

শেষ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্সও। ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাতেতা ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থায় মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিয়োপকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক বুনুর মুখোমুখি হন। কিন্তু আবারও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন বুনু।

তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ফ্রান্স। আর গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর এবারের বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই।

এসজি/

৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
৬ মিনিটে দুই গোল, মরক্কোর বিপক্ষে এগিয়ে ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণেও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা পান কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে। মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ফ্রান্স। তাতে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত কিছু সেভে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। 

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শট নেন দেজিরে দুয়ে। কিন্তু তার সেই শট প্রথম চেষ্টায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দ্রুত বলটি দখলে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে ভাঙে ডেডলক। বাঁ প্রান্তে লড়াইয়ের পর বলটি চলে আসে দেজিরে দুয়ের কাছে। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বক্সের প্রান্তে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। সেখান থেকে অসাধারণ দক্ষতায় বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন ফরাসি অধিনায়ক। ইয়াসিন বুনু ঝাঁপিয়ে পড়েও সেটি ঠেকাতে পারেননি। 

তবে আক্রমণের শুরুতে হ্যান্ডবলের দাবি জানায় মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন রেফারি। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

এর ৬ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। আক্রমণের সময় এমবাপ্পের দৌড়ে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগান দেম্বেলে। সেই জায়গা দিয়ে দ্রুত ঢুকে পড়ে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শট নেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড।

গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু বলের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করলেও দেম্বেলের শট থামাতে পারেননি। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

এসজি/ 

দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ এএম
দুর্দান্ত বুনু, এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে প্রথমার্ধ গোলশূন্য
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ আটের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ফ্রান্সের একাধিক সুযোগ ঠেকিয়ে দেন। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দিয়ে মরক্কোকে ম্যাচে রাখেন। আর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় ফ্রান্সকে। তাতে প্রথমার্ধে গোলহীন থাকে দুই দল।  

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হয় এই ম্যাচ।

ম্যাচের শুরুতে বল দখলে রেখে আক্রমণে উঠে ফ্রান্স। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শট নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বলটি লক্ষ্যে না থাকলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন। 

এর পরপরই বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে কোনো বাধা ছাড়াই হেড করার সুযোগ পান দায়ো উপামেকানো। তবে ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বলের গতিপথ বুঝে সেভ করে দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুবার আক্রমণ চালায় ফ্রান্স।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে আক্রমণে উঠে মরক্কো। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাহিম দিয়াজকে থামিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দে। এরপর হেডের সুযোগ পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বাম দিক থেকে ক্রসে বল বক্সে পাঠান দেজিরে দুয়ে। সেটি দেম্বেলেকে খুঁজে নিলেও তার হেডে বল চলে যায় বাইরে। তাতে সুযোগ নষ্ট হয় ফ্রান্সের।

তবে ম্যাচের ২৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এমবাপ্পেকে ট্যাকল করেন নুসাইর মাজরাউই। তাতে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু তা গোলে রূপান্তর করতে পারেননি এমবাপ্পে। তার নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। তাতে গোলবঞ্চিত হয় ফ্রান্স। 

হাইড্রেশন বিরতি থেকে ফিরে আরও একবার গোলের সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। কিন্তু এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান ইয়াসিন বুনু। মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদে পড়ে মরক্কো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শট নেন দেজিরে দুয়ে। তার নিচু শটটি গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা রুখে দেন বুনু।

ফ্রান্সের আরও এক সুযোগ নষ্ট হয় ক্রসবারে লেগে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২) প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনে। তার সেই শট মরক্কোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে গিয়ে লাগে। তাতে অল্পের জন্য গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় ফ্রান্স, আর স্বস্তি পায় মরক্কো।

তাতে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। তারা ১৩টি শট নেয়, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল চারটি। অন্যদিকে, মরক্কো একটি শট নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

এসজি/