সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দেওয়ায় মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দামেস্ক। এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি' হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।
পরবর্তীতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কংগ্রেসকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক নোটিশকে স্বাগত জানায়।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এই পদক্ষেপটি সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদী দেশের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে। সেই সঙ্গে এটি দেশ পুনর্গঠনের পরিবেশ তৈরি করবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।' এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সিরিয়া।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪৫ দিনের কংগ্রেসনাল নোটিশ পিরিয়ড শেষে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ইচ্ছা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন।
রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, 'সিরিয়ার জনগণকে একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটি আরেকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে, সিরিয়াকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ দেবে এবং দেশটির জনগণের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।'
আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প এবং আল-শারার মধ্যকার বৈঠকের পর এই ঘোষণাটি আসে।
ওই বৈঠকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ওপর থেকে বেশিরভাগ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও, ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটি ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই তালিকাটিকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হতো।সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
তামান্না রুপা/অমিয়/