কমছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, আবার সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন, সব মিলিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো মূল্যে নিজেকে মুক্ত করতে চান এই অজনপ্রিয় ‘ইরান যুদ্ধ’ থেকে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুই পক্ষের সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা ট্রাম্পের সেই আকাঙ্ক্ষাকে বড় এক বাধার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের হাতে ভালো কোনো বিকল্প নেই এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিও এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।
এক হামলার জবাবে আরও চার হামলা
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক তেলের ট্যাংকারের ওপর হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
বুধবার (৮ জুলাই) ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দুই দেশের সংঘাত নিরসনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি এখন শেষ। একই সঙ্গে তিনি নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেন।
অথচ মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি এবং যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা কঠিন।
ট্রাম্পের সামনে সব পথই ‘খারাপ’
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন যে কয়েকটি পথ আছে, তার সবগুলোই নেতিবাচক। পাল্টা হামলার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা আঞ্চলিক যুদ্ধ ডেকে আনবে।
যদিও ট্রাম্প গণমাধ্যমকে বলেন, এই উত্তেজনা ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তার এই আশ্বাসের পরেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে, ট্রাম্প যদি সামরিক শক্তি প্রদর্শন না করে পিছু হটেন, তবে ইরান যখন-তখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানোর সাহস পাবে।
চরম রাজনৈতিক সংকটে হোয়াইট হাউস
এ যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের জন্য নিজ জনগণও চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্পকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ যুদ্ধের জন্য ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে রয়েছে।
থিওটোনিয়াস/অমিয়/