ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
উজানের ঢল-বৃষ্টিতে তিন বিভাগে বন্যার শঙ্কা টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চুয়েট, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প সিংড়ায় দৃষ্টিনন্দন ব্রিজে রাতে বাড়ে ছিনতাই, আতঙ্কে এলাকাবাসী হরিণাকুণ্ডুতে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সিলগালা শালিক পাখি নিয়ে ঝগড়া, ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুন ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প জামালপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় পাহাড়ধস: নিহত ৮ নয়, চূড়ান্ত সংখ্যা ৫ বিপৎসীমা ছাড়াল মাতামুহুরী, হাহাকার প্লাবিত জনপদে দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ রায়পুরায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়ালধসে শিশুর মৃত্যু চামড়া খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রোডম্যাপ করছে সরকার ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ সংসদে তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: তথ্যমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, উদ্ধার ১৬, নিখোঁজ ২ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: আজম খান হেয়ার কাট ছাড়াই সুদসহ আমানত ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী মাছের ড্রামে পাচারকালে ৫৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ জাতির পথনির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য: ডেপুটি স্পিকার আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ সম্মাননা পাবেন বিজয়ী ৫৭ জন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে বাড়ছে উদ্বেগ, আরও ৩ জনের মৃত্যু মানি লন্ডারিং মামলায় আ’লীগ নেতা এনু-রুপনের কারাদণ্ড মনোযোগ ও একাগ্রতা ধরে রাখার সুন্নাতি ফর্মুলা কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৪ দিনে ১৯ জনের মৃত্যু

খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তারা রাস্তায় ও ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন।

নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলীর (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে করে বহন করেন।

৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে তার কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এসএন/

খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তারা রাস্তায় ও ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন।

নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলীর (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে করে বহন করেন।

৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে তার কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এসএন/

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ পিএম
ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেবে। 

বুধবার (৮ জুলাই) ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

আঙ্কারা থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে আলোচনা করব, তার একটি হলো আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া। এটি দারুণ ব্যাপার, তাই না? এতে আপনারা আর বলতে পারবেন না যে আমরা যথেষ্ট প্যাট্রিয়ট দিচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানাইনি, তবে সেটি ঠিক হয়ে যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালালেও ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। দেশটি একদিকে সম্মুখসারি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর এলাকায় হামলাও চালাচ্ছে।

ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের এসব হামলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই উত্তেজনা বৃদ্ধি, তবে এমন এক ধরনের উত্তেজনা যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও তার বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উভয়েই যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।

ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (জেলেনস্কি) এটি শেষ করতে চান এবং আমার বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট পুতিনও এটি শেষ করতে চান। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’

এএফ/

ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুর নরম করে তাদের প্রতি আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক পরিবেশে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিরূপ অবস্থান থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবে ফিরে আসা ট্রাম্পের আচরণ তার বহুল আলোচিত অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক শৈলীরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ছিল দারুণ একটি বৈঠক। কক্ষে অনেক আন্তরিকতা ছিল, ছিল ঐক্যের চেতনা।’

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ট্রাম্প মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়। সেখানে ন্যাটো নেতারা জোটের চুক্তির অনুচ্ছেদ-৫-এ বর্ণিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের প্রতি তাদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঘোষণায় বলা হয়, ‘এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা।’ এই ভাষার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে।

দিনের শুরু ছিল উত্তেজনাপূর্ণ
তবে দিনের শুরুটা ছিল ভিন্ন। সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ইরানবিরোধী অভিযানে ন্যাটো মিত্রদের সমর্থন না দেওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার হুমকি দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট... গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তারা যা করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা না করায়।’

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বদলে যায় অবস্থান
তবে বৈঠকে সরাসরি অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর ট্রাম্পের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত ওই সূত্র।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রকাশ্যে যা বলেন এবং বৈঠকের ভেতরে যা বলেন—দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।’

ইরান নিয়েও ট্রাম্পের ভাষা তুলনামূলক সংযত ছিল। বৈঠকের আগে তিনি ইরানকে ‘আবর্জনা’ এবং ‘হিংস্র ও সহিংস মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেও, বৈঠকের ভেতরে তার বক্তব্য ছিল অনেক কম কঠোর।

এছাড়া, বৈঠকের পর তিনি স্পেন বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও আর তোলেননি।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখালও বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি গঠনমূলক।

তিনি বলেন, ‘তিনি মূলত এই বার্তাই দিয়েছেন যে ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং আলোচনাও ছিল গঠনমূলক।’ 

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ন্যাটো জোটের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, এতে ন্যাটো দুর্বল হচ্ছে বা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা উচিত হবে না।’

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।

সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। এটা দারুণ ব্যাপার, তাই না?’

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান স্থিতিশীল করার মাধ্যমে ইউক্রেন পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়েই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ‘৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার)’ সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক
আঙ্কারা ত্যাগের আগে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

‘ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য’
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজের সামরিক ভূমিকা কমিয়ে আনতে চাওয়ায় এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে অনড় থাকায় ৭৭ বছর বয়সী ন্যাটো জোটের জন্য এ সম্মেলন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে, যা প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তুরস্কের এ সম্মেলনের পর জোট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় মনে করি, যে পরিবারে কখনও খোলামেলা আলোচনা হয়, কখনও কিছুটা মতবিরোধও হয়—সেই পরিবারই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।’ সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আগের দিনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বুধবার রাতেই নতুন করে কঠোর হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, হামলায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান যে রাডার ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, আমি এসব করতে চাই না। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।

এ সময় ইরানের উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানের প্রতিরোধ করার মতো কিছু থাকবে না।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ঘিরে পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ওই সময় ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় সাময়িক বিরতি চেয়েছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, তারা বিরতি চেয়েছিল, তারা খামেনির জানাজায় যেতে চেয়েছিল। আমি তাদের সেই সুযোগ দিয়েছিলাম। এরপরও তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে।

তিনি আরও দাবি করেন, জানাজার সময় ইরানের পক্ষ থেকে তাদের নেতাদের হত্যা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে প্রয়োজনে কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করবে না যুক্তরাষ্ট্র। এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি হলেও তা কতটা কার্যকর বা টেকসই হবে, সে বিষয়ে তার সংশয় রয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এসএন/

ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ইউরোপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে আগামী প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে অর্থায়ন বাড়াতে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় দেশের একটি জোটের নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাজ্য।

বুধবার (৮ জুলাই) ব্রিটিশ সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানায়, স্টারমার বুধবার সম্মেলনের ফাঁকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় অংশীদার দেশের নেতাদের নিয়ে নতুন এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের আওতায় আগামী ১০ বছরে ন্যাটো মিত্ররা ইউরোপজুড়ে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে অত্যন্ত নির্ভুল দীর্ঘপাল্লার হামলা পরিচালনায় সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ইউরো) ব্যয় করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হবে।

এতে আরও বলা হয়, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অস্ত্রভাণ্ডারে সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্র যুক্ত হবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র অন্তত ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এবং কিছু ক্ষেত্রে ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

স্টারমার বুধবার এক বিবৃতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো নেতাদের প্রতি জোটের ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুরক্ষিত রাখতে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে আমাদের মিত্র হিসেবে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

৭৭ বছর পুরোনো এই ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোটের জন্য এমন এক সময়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের ভূমিকা কমিয়ে আনছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করছেন।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় উত্তেজনাপূর্ণ এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্প ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী যৌথ আলোকচিত্রে অংশ নেন। পরে তিনি কার্য অধিবেশনে যোগ দেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক করেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/