দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশসম্মত শিল্পে রূপান্তর করে বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করছে সরকার।
একই সঙ্গে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের পরিবেশগত সমস্যা সমাধান এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়াতে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি)-এর কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। পরবর্তী সময়ে এটি ৪০ হাজার এবং পরে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি চালু হয়েছে এবং আরও ২০ থেকে ২৫টি বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ট্যানারি বর্জ্যকে মূল্যসংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে প্রোটিন পাউডার, ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো ও জৈবসার এবং কাঁচা কাটিং বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ পেতে ট্যানারি মালিকদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলিস/এএফ