ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। একই সঙ্গে তিনি আমানত ফেরতের ক্ষেত্রে আলোচিত ‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিলের দাবি জানান। জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো আমানতকারীর অর্থে ‘হেয়ার কাট’ হবে না; সবাই সুদসহ তাদের আমানত ফেরত পাবেন, তবে এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের আলোচনায় এ দাবি ও আশ্বাস আসে।
রেহানা আক্তার রানু বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মালিকপক্ষের অর্থ পাচারের কারণে লাখো আমানতকারী আজ নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ তুলতে পারছেন না। এই অর্থ কোনো বিলাসিতার জন্য নয়; কারও মেয়ের বিয়ের সঞ্চয়, কারও চিকিৎসার শেষ ভরসা, কারও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কিংবা অবসরের সম্বল। ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হলে বিনিয়োগ ও অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ প্রয়োজনের সময় টাকা না পেয়ে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, এমনকি প্রাণও হারাচ্ছেন। অথচ অভিযুক্ত মালিকরা বিদেশে অবস্থান করছেন। এসব ‘ব্যাংক লুটেরার’ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সংকট মোকাবিলায় সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬’-এর আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলেছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে নতুন ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে আমানত সুরক্ষা আইনে সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের সম্পদ জব্দ, নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং প্রয়োজনে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরে বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ৭৫ লাখ গ্রাহকের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ‘হেয়ার কাট’ নিয়ে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ব্যাংক ডাকাতদের অপরাধের দায় কেন আমানতকারীরা বহন করবেন। তার ভাষায়, ‘হেয়ার কাট’ যেন ‘মরণ কাট’; এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে। ‘হেয়ার কাট’ থাকবে না। তবে লোকসানি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।”
এলিস/এসএন