ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) গণতন্ত্র রক্ষা ও জাতির সঠিক পথনির্দেশনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, অধিকার আদায় এবং জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকট এসেছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।’
বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অনুষ্ঠিত ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, ‘অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পরীক্ষার আগে আমার ক্লাসের পারসেন্টেজ কম ছিল। তখন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্যার আমাকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেননি। আমি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্যারসহ অনেক শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ভিসি স্যার অনুরোধ করলেও চেয়ারম্যান স্যার নিয়মের প্রতি অটল ছিলেন।’
স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যার সেদিন আমাকে ডেকে বলেছিলেন- তোমাকে যদি আজ অ্যালাউ করি, জীবনে কখনোই নিয়মানুবর্তিতা শিখবে না। আমি চাই তুমি এক বছর আবার ক্লাস করে রেগুলার পরীক্ষা দিয়ে পাস করো। পরের বছর সারা বছর ক্লাস করে আমি পরীক্ষা দিয়েছি। স্যার তখন বলেছিলেন, ডিসিপ্লিন লাইফ লিড করলে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে। উনাদের সেই শৃঙ্খলার শিক্ষাই আমাকে আজকের অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে।’
এসময় বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ড. শারমিন জাহান চৌধুরী এবং নবীনদের পক্ষে মো. তাওহীদ হামিদ ও তাসমিহা জামান সুস্মিতা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে খেলাধুলায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য জয় কুমার দাসকে এ্যাথলেটিক রোল অব অনার দেয়া হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে কৃতিত্বের জন্য ২৬জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন