নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বিলদহর বাজারের পাশেই ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ। নীচে আত্রাই নদী দিয়ে চলাচল করে যাত্রী আর মাল বোঝাই নৌকা। অপরদিকে ওই ব্রিজ দিয়ে চলে পথচারী ছাড়াও নানা যানবাহন। দৃষ্টিনন্দন এমন ব্রিজে বর্ষাকাল ছাড়াও সারা বছরই ভিড় করেন পর্যটকরা। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই সেখানে নামে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর ওই অন্ধকারের সুযোগে সেখানে আড্ডা জমে মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারীসহ নানা অপরাধীদের। এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্রিজ এলাকাটি রাতে এক আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর কাছে।
তথ্যমতে, বিলদহর বাজার সংলগ্ন ওই ব্রিজটির নির্মাণ করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। নাটোর এলজিইডি ওই কাজ বাস্তবায়ন করেন। প্রায় ১৩ কেটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই বীজটি ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্রিজটি নির্মাণের ফলে বিলদহর বাজার ও কৃষ্ণনগর গ্রামের সংযোগ ছাড়াও উপকার পাচ্ছেন উভয় পাশের, আনন্দনগর, কালিনগর, ডাহিয়া, বেড়াবাড়ি, সাবগাড়ি, নাছিরাকান্দি ও মহিষমারী, গ্রামের মানুষসহ আসে পাশের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ। এছাড়া ওই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন বিলদহর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও হাইস্কুল ও প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যায়। বিলদহর বাজারে কেনাকাটা করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ব্যবসায়ীসহ অনেকেই ওই ব্রিজ পাড় হন রাতে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের রোগী ও তাদের স্বজনদের ওই ব্রিজ পাড়ি দিতে হয় নানা সময়ে।
বিলদহর বাজারের ব্যবসায়ী আলম আলী বলেন, "দিনের বেলায় ব্রিজটা আমাদের গর্ব, কিন্তু রাত ৭টার পর এই ব্রিজ দিয়ে যেতে গা ছমছম করে। রাত নামলেই নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তখন যেন ওই ব্রিজ এলাকা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।
বিলদহর বাজারের বাসিন্দা শহিদুল সরকার বলেন, এই ব্রিজে দিনের বেলায় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু রাতের বেলায় আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়। কেননা মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মানুষ ওই ব্রিজে ছিনতাইয়ের শিকার হন। প্রায়ই পথচারীদের পথরোধ করে মাদকাসক্তরা। এছাড়াও ঘটে নানা অপরাধ।
বিলদহর হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান নান্নু জানান, বিলদহর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন।
বিলদহর হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ওই ব্রিজ এলাকায় লাইটের ব্যবস্থা করলে আতঙ্ক কেটে যাবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধের জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আশরাফুল সর্দার জানান, প্রায় এক মাস আগে তিনি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়া ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ওই ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ব্রিজ এলাকায় চারটি সোলার লাইট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই এই কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
কামাল মৃধা/নাঈম