ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া ছোট সরালির কথা রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ বন্ধু তুমি শত্রু তুমি বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে? অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা সঞ্চয় লুট, শেষ হলো বাকপ্রতিবন্ধী ববির লড়াই এই আর্জেন্টিনা শুধুই মেসিনির্ভর দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত টানা বর্ষণে যশোরে দুর্ভোগ বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের  সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন অজেয় ফ্রান্সের সামনে মরক্কো ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো চমক নয়: ওয়াহবি প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাজছে ঢামেক হাসপাতাল সীতাকুণ্ডে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ নগরী: এত প্রকল্প, তবু কেন জলমগ্ন ‘আর্জেন্টিনা অজেয় নয়’ সুইস কোচের হুংকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এনবিআর কঠোর হলেও ঘাটতির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছর ধরে ৩২৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনের সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার দেশটির চাংঝৌ শহরের একটি আদালত এ মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা দেন।

ইয়াং ইউলিন নামক ওই সাবেক কর্মকর্তা ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটির নানজিং শহরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় তিন দশক ধরে ৬৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি প্রকৌশল প্রকল্প, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন, যা সমালোচকদের মতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। শি জিনপিংয়ের দেশজুড়ে চলা কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েন ইয়াং।

আদালত জানায়, ইয়াং কর্মজীবনের সিংহভাগই নানজিং শহরের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইয়াংয়ের এসব অপরাধকে ‘ভয়াবহ গুরুতর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আদালত আরও জানায়, তার এই দুর্নীতি রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। চূড়ান্ত বিবৃতিতে তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ‘গভীর অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: বিবিসি

আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র এক মাস আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ রাতেই ইরানের ওপর আবার কঠোর আঘাত হানা হবে।’

পাল্টা জবাবে ইরানও স্পষ্ট জানায়, ‘আঘাত করলে, পাল্টা আঘাত পেতে হবে।’

দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানে একের পর এক বিস্ফোরণ, সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে, বিশেষ করে হুরমুজ প্রণালীর বন্দর শহর সিরিক ও বান্দার আব্বাসে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং সেখানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ইরানের জাস্ক বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধপূর্ণ 'আবু মুসা' দ্বীপেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

এ হামলায় চাবাহার শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে এবং বুশেহরে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ব্যারাকে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

ওরা নিকৃষ্ট, চুক্তি শেষ: ট্রাম্প

হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ জানান, ‘ইরানের জাহাজ বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে।’

বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গত ১৭ জুন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন শেষ।’

তিনি ইরানকে ‘নিকৃষ্ট’ ও ‘অসুস্থ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি ওদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।’ তবে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পর ইরান “খুবই মরিয়া হয়ে” চুক্তি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে ফোন করেছিল। কিন্তু তারা চুক্তি সম্মান করার যোগ্য কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেন।

আঘাত করলে, পাল্টা আঘাত পাবে: ইরান

মার্কিন হামলার মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ তেহরান। ইরানের সংসদীয় স্পিকার ও প্রধান পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘তোমরা আঘাত করলে, তোমরাও আঘাত পাবে। হুরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের ব্যবস্থাপনায় খুলবে, মার্কিন হুমকিতে নয়।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা অভদ্রতার জবাব অভদ্রতা দিয়ে দিই না, বরং কাজের মাধ্যমে দিই নির্ভয়ে এবং অসীম সাহসিকতার সঙ্গে।’

থিওটোনিয়াস/

গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত ২ মার্চ ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রায় নিঃশর্ত সমর্থন পেয়ে আসা ইসরায়েলের প্রতি জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের ৩০ শতাংশ মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ ধারণা আরও প্রবল, আর রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রায় তিন বছর পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও প্রজন্মগত বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে।

জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন, গাজার যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ হার প্রায় অর্ধেক। মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি। আর প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা বলেছেন, এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।

মার্কিন ইহুদিদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩০ শতাংশ ইহুদি উত্তরদাতা বলেছেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। তবে ৪৯ শতাংশ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইসরায়েল বরাবরই গাজায় গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিমান হামলার আগে বেসামরিক লোকজনকে সতর্ক করা, মানবিক সহায়তা প্রবেশে সহযোগিতা এবং  লোকজনকে হামাসের মানবঢাল ব্যবহারের বিষয়টিও তারা তুলে ধরে।

ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে বড় পরিবর্তন

জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলবিষয়ক অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ। নতুন জরিপে অংশ নেওয়া ইহুদি ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও ৫১ শতাংশ একই মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে ৬২ শতাংশ ডেমোক্র্যাটের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৪৯ শতাংশ। বিশেষ করে ৪৫ বছরের কম বয়সী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থি মনোভাব বেশি থাকলেও বয়স্ক ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও একই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
রিপাবলিকানদের অবস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল

রিপাবলিকানদের মাত্র ১৩ শতাংশ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে দেখছেন। তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে এ মত তুলনামূলক বেশি। সামগ্রিকভাবে ৬০ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সমর্থন ‘যথাযথ’। মাত্র ২০ শতাংশের মতো রিপাবলিকান মনে করেন, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে।

তবে ২০২৪ সালের তুলনায় ইসরায়েলের প্রতি আরও বেশি সমর্থনের দাবি করা রিপাবলিকানদের হার ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন কমছে

জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক এখনো ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পর্কে নিশ্চিত মত দিতে পারেননি। যারা মতামত দিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের প্রাথমিক সামরিক প্রতিক্রিয়াকে ন্যায্য বলে মনে করেন। চলমান সামরিক অভিযানকে অধিকাংশই সমর্থন করছেন না।

ইহুদি মার্কিনিদের প্রায় ৭৫ শতাংশ ইসরায়েলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াকে সমর্থন করলেও চলমান অভিযানের ক্ষেত্রে সেই সমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৪০ শতাংশে।

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস

জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমেছে। মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন, আর ৪১ শতাংশ বলেছেন, মত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের কাছে নেই। নেতানিয়াহুর প্রতি ইহুদি মার্কিনিদের অসন্তোষ বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ তার বিষয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন।
জোহরান মামদানির প্রতি ইতিবাচক অনেক ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলের কড়া সমালোচক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্পর্কে ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। ২৮ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন এবং ৪৪ শতাংশ কোনো মত দেননি। ডেমোক্র্যাটদের প্রায় অর্ধেক মামদানির প্রতি ইতিবাচক, যেখানে মাত্র ১০ শতাংশের মতো তার বিষয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন।

অগ্রাধিকার অর্থনীতি

জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক আমেরিকান ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নয়। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটারের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি। অনেক উত্তরদাতার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের চেয়ে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের মাঝারি পাল্লার ড্রোন হামলা ঠেকাতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে রাশিয়া। ছদ্মবেশে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সিগন্যাল ব্যাহত করতে শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেম ব্যবহার করছে মস্কো। ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার ও পাইলটরা বুধবার (৮ জুলাই) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্টারলিংকের মাধ্যমে পরিচালিত ইউক্রেনের মাঝারি পাল্লার ড্রোনগুলো এখন রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকার অনেক ভেতরে আরও নির্ভুল ও কম খরচে হামলা চালাতে সক্ষম। চলতি বছরে এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার সরবরাহপথ, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও কমান্ড সেন্টারে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে মোতায়েন ৪২২তম আনম্যানড (মানববিহীন) সিস্টেমস রেজিমেন্ট পরিদর্শনের সময় চারজন ইউক্রেনীয় ড্রোন কমান্ডার ও পাইলট রয়টার্সকে জানান, এসব হামলা ঠেকাতে রাশিয়া এখন বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তাদের মতে, রাশিয়া শহর ও সামরিক স্থাপনার আশপাশে উন্নত ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেম বসিয়েছে, যা স্টারলিংকের সিগন্যালও প্রতিহত করতে সক্ষম।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ জানান, রাশিয়া ‘ভলনা কুপোল গ্যারান্ট’ নামে একটি জ্যামিং ব্যবস্থা বসিয়েছে। এটি প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এত শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়ায় যে স্টারলিংকের সংযোগ ব্যাহত হয়। এখন পর্যন্ত এ ধরনের অন্তত ১০টি সিস্টেম শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব জ্যামিং সিস্টেম এখন ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলোর অগ্রাধিকার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।

৪২২তম রেজিমেন্টের কমান্ডার কোলেসনিক জানান, তাদের ইউনিট দুটি জ্যামিং সিস্টেম ধ্বংসের অভিযানে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সঙ্গে যৌথ অভিযানে শনাক্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস করা হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন হামলায় ট্রেইলারের মতো দেখতে ছয়টি বড় কনটেইনারসহ একটি স্থাপনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।

‘ডিরিহেন্ট’ ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এক ড্রোন কমান্ডার বলেন, ‘ওই স্থাপনায় আঘাত হানার পরই আমাদের স্টারলিংক নিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই উড়তে শুরু করে।’

এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে স্পেসএক্স সাড়া দেয়নি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স স্বাধীনভাবে রাশিয়ার এসব কৌশল যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স

বিরল মুহূর্তের সন্ধিক্ষণে ধরণী একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

এক বিরল মহাজাগতিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে পৃথিবী। বুধবার (৮ জুলাই) মাত্র এক মিনিটের জন্য পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে সূর্যের আলো বা গোধূলির আলো পেয়েছেন। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও পৃথিবীর হেলে থাকার কারণে তৈরি হয় এই বিশেষ পরিস্থিতি।

বুধবার (৮ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী, বেলা ১১টা ১০ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিট) দিকে বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগই দিনের আলো বা গোধূলির আলো দেখতে পান।

এই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় ছিল। উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলজুড়ে ছিল দিনের আলো। বিশ্বের প্রায় সব মানুষই বসবাস করেন এসব এলাকায়।

তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ এবং অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে তখন ছিল রাতের অন্ধকার। এসব এলাকার আশপাশের মহাসাগরেও ছিল রাত।

তবে এটি শুধু এক দিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর প্রায় ৬০ দিন ধরে, অর্থাৎ ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিদিনই এমন একটি সময় আসে, যখন পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ একই সময়ে দিনের আলোর দেখা পান।

২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ৮ জুলাইয়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই দিনেই এমন ঘটনা ঘটে।

পরে ‘টাইম অ্যান্ড ডেটের’ একটি যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই এমন একটি দিন হলেও এটি একমাত্র দিন নয়। উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালের আশপাশে প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আলো-গোধূলি-অন্ধকারে কত মানুষ ছিলেন?

প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ, সরাসরি দিনের আলোয় ছিলেন। আর প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ (৭ শতাংশ) ছিলেন ‘সিভিল টোয়াইলাইট’ বা প্রথম পর্যায়ের গোধূলিতে। এ সময় আকাশ উজ্জ্বল থাকে এবং সাধারণত কৃত্রিম আলো ছাড়াই বাইরে বেশির ভাগ কাজ করা যায়।

আরও প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ (৬ শতাংশ) ছিলেন ‘নটিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। এ সময় দিগন্ত দেখা যায়, তবে আকাশ অনেকটা অন্ধকার থাকে।

প্রায় ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ (৩ শতাংশ) ছিলেন ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইট’-এ। তখন আকাশে সূর্যের ক্ষীণ আলো থাকে, তবে পুরোপুরি অন্ধকার নামার আগের অবস্থা তৈরি হয়।

আর মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের ১ শতাংশ মানুষ, তখন পুরো রাতের অন্ধকারে ছিলেন। এ সময় সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রির বেশি নিচে অবস্থান করায় আকাশ ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকার। সূত্র: আল-জাজিরা

খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
খামেনির মরদেহ ইরানে, বৃহস্পতিবার দাফন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। র‌্যালি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তারা রাস্তায় ও ইমাম আলীর (রা.) মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন।

নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলীর (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে করে বহন করেন।

৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে তার কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এসএন/