বাকি আর মাত্র এক দিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাবেন দেশের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। তাই অডিটরিয়ামে চলছে শেষ পর্যায়ের সাজসজ্জা। দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে রঙের কাজ, হার্ডবোর্ড স্থাপন, নানা রঙের লাইটিং স্থাপনও শেষ পর্যায়ে। মশা-মাছি তাড়াতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ছিটানো হচ্ছে ওষুধ ও স্প্রে।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) ঢামেক হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের এমনই প্রস্তুতি দেখা গেছে। আগামী শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা ‘ডিএমসি-ডে’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রী, এমপি ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন ডাক্তার, নার্স, কলেজ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা। শনিবার সকালে অনুষ্ঠান শুরু হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহিদ ডাক্তার শামসুল আলম মিলন অডিটরিয়ামে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢামেক ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও বারান্দায় চলছে ধোয়ামোছার কাজ। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে শহিদ মিলন অডিটরিয়ামে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করার পাশাপাশি কলেজের ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের ফুলের টব সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন গাছে ঝোলানো হয়েছে রঙিন বাতি।
হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে গেলে কথা হয় সেখানকার ওয়ার্ড মাস্টার মো. আরিফের সঙ্গে। এ সময় তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ধোয়ামোছার কাজ চলছে। যদিও হাসপাতালে প্রতিদিনই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। তবে ভিআইপির জন্য আরও সুন্দর কাজ করতে হচ্ছে।’
আলাপ হয় হাসপাতালে ভর্তি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. জিল্লুর রহমান ও জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. শিপনের সঙ্গেও। তারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সবার মাঝে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাকে বরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা দিনরাত এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি।’
সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তিনি হাসপাতালও পরিদর্শন করতে পারেন। এজন্য হাসপাতালের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং রোগীদের সার্বিক বিষয়গুলোয় সুন্দর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমাদের সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাও বিভিন্ন ধরনের আলপনা, প্ল্যাকার্ডসহ রংবেরঙের মনোমুগ্ধকর কার্টুন তৈরি করছেন। কলেজ ক্যাম্পাস ও শহিদ ডা. শামসুল আলম মিলন অডিটরিয়ামে বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তাতে কলেজ ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের চেহারাটাই পাল্টে যাবে। এভাবে সরকারের ঊর্ধ্বতনরা ঘন ঘন কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে সবসময়ই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করবে। এতে রোগীদের সেবার মানও উন্নত হবে।’