ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ২০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারানো হয়েছে: জোহরান মামদানী আবারও ইরানে একের পর এক মার্কিন হামলা স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখাতে চান কর্তোয়া টানা বৃষ্টিতে চবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটক ঝিনাইদহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, মনে করেন ৩০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে চীনা সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ইউক্রেনের ড্রোন ঠেকাতে স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করছে রাশিয়া ছোট সরালির কথা রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু একই সময়ে দিনের আলোয় বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ বন্ধু তুমি শত্রু তুমি বৈদ্যুতিক যান আমদানি ও উৎপাদনে নীতিমালা হচ্ছে চবিতে বিষধর সাপের দংশনের শিকার শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় ব্যাহত চিকিৎসা চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে? অশ্রুই মেসির জয়ের ভাষা সঞ্চয় লুট, শেষ হলো বাকপ্রতিবন্ধী ববির লড়াই এই আর্জেন্টিনা শুধুই মেসিনির্ভর দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত টানা বর্ষণে যশোরে দুর্ভোগ বৃষ্টিতে বন্ধ ট্রেন, কক্সবাজার রেলপথের  সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্ন অজেয় ফ্রান্সের সামনে মরক্কো ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো চমক নয়: ওয়াহবি প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাজছে ঢামেক হাসপাতাল সীতাকুণ্ডে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ নগরী: এত প্রকল্প, তবু কেন জলমগ্ন

ময়মনসিংহ নগরী: এত প্রকল্প, তবু কেন জলমগ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
ময়মনসিংহ নগরী: এত প্রকল্প, তবু কেন জলমগ্ন
রাতভর বৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় পানি জমে যায় / খবরের কাগজ

এক রাতের টানা বৃষ্টি। ভোর হতেই ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, আবাসিক এলাকা, বাজার–সবখানেই জমে আছে পানি। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও ঘরে ঢুকেছে ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি। অফিসগামী মানুষ পথে আটকে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে–প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কেন জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না?

গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর চরপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী, ভাটিকাশর, কাচিঝুলি, বাসবাড়ি কলোনি, নয়াপাড়া, কপিখেত, সানকিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাতভর বৃষ্টির পানি সড়কে জমে আছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। কোথাও ড্রেন উপচে ময়লাযুক্ত পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক সড়কে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রিকশা ও মোটরসাইকেল চলতে গিয়ে বন্ধ হয়ে পড়ে, পথচারীদের অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরের ভেতরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিছানা থেকে পড়ে আয়াস নামে ৮ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) প্রতিবছর খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে এসব খাতে ব্যয় হয় ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যয় হয় ৬০ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও একই ধরনের প্রকল্পে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও খাল খনন, পরিষ্কার এবং ড্রেন নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারী বৃষ্টি হলেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। ফলে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, জলাবদ্ধতার কারণ কেবল ড্রেন পরিষ্কার না করা নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সংকুচিত বা দখল হওয়া খাল-নালা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। নগরীর অনেক এলাকায় ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পলিমাটি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ পায় না। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘বর্ষা এলে একই দুর্ভোগ দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। প্রতি বছর কাজের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখি না। এবার অন্তত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখতে চাই।’

কপিখেত এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে ড্রেনেজ অবকাঠামো সম্প্রসারণ হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতে বাসাবাড়িতে ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি প্রবেশ করে। তখন দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই চাই।’

ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। খাল পুনরুদ্ধার, সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানভিত্তিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাধার সংরক্ষণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগর পরিকল্পনায় জলপ্রবাহের বিষয়টি অগ্রাধিকার না দিলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই ময়মনসিংহকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।’

মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমনা আল মজীদ বলেন, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পলি অপসারণ এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কাজ চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, খালের পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।

 

সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনে ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট
ভুক্তভোগী আরমান। ছবি খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় চেকপোস্টের সামনেই জাপান প্রবাসীর তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা।   

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আরমান (৪০) ফেনী জেলার আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাপানে ফেরার উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাসে ফেনী থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের মারধর করে সঙ্গে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি আইফোন-১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। লুট হওয়া স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেলআরোহী জানান, তিনি একই পথে যাওয়ার সময় কয়েকজনকে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে সামনে এগোননি। কিছুক্ষণ পরই ওই মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় দায়িত্বরত কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, ঘটনাটি মহাসড়কের মূল সড়কে নয়, বরং মহাসড়কের পাশের একটি নিচু সড়কে ঘটেছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থানা পুলিশের চেকপোস্টের সামনে বলে শুনেছি।

ইমরান হোসেন/আজহার/

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বুধবার (৮ জুন) দুপুরে নগরের চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা ও সরাসরি অনুরোধ করে আসছে। এরপরও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, একটি প্রাণও অমূল্য। সাময়িক কষ্ট হলেও সবাইকে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা উচিত নয়।

মেয়র বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সব সময় তাদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন, গুজবে কান দেবেন না। পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে মূল্যবান প্রাণহানি রোধ করতে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির নাম- সুমাইয়া। সে ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

জানা গেছে, পাহাড়ধসের সময় সুমাইয়া ও তার মা-বাবা ঘরেই ছিলেন। ধসের সময় মা-বাবা ঘর থেকে বের হয়ে গেলেও পাশের ঘরে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রামগতিতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
নিহত দুই শিশু  মাইশা ও মুজাহিদ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পানিতে ডুবে মাইশা আক্তার (সাড়ে ৩) ও মুজাহিদুল ইসলাম (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা আপন চাচাতো ভাই বোন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খন্দকারপাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুজাহিদ ও মাইশা পুকুর পাড়ে একসঙ্গে খেলছিল। এ সময় মুজাহিদ পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে মাইশাও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। 

উপজেলার মেডিকেল অফিসার মাসুদ জাহান জানান, পানিতে পড়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা দুইজনই মারা গেছে। 

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা গেছে। অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর দুই শিশুকে দাফন করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে?

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সুফল মিলবে কবে?
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণে বারবার ডুবছে চট্টগ্রাম। তিন দিন ধরে নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নগরজুড়ে নেমে আসছে স্থবিরতা। দুই দিনে পাহাড় ও দেয়ালধসে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হওয়ার কথা বললেও কার্যত এর সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত চার কারণে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না। তা হলো কর্ণফলীর সঙ্গে বিভিন্ন খালের মুখে নির্মিত সব জলকপাট সচল না করা, জোয়ারে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, আবর্জনা ও পলিথিন ফেলে খাল-নালা ভরাট এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএর মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩৬টি খালের খনন ও সংস্কারকাজ চলছে, যার মধ্যে ৩০টি খালের সম্পূর্ণ এবং ৫টি খালের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হিজড়া খালের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। প্রকল্পে ডিজাইন অনুযায়ী ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। 

সরেজমিনের দেখা যায়, চট্টগ্রামের চকবাজার চক সুপার মার্কেট এলাকায় পাশের খাল থেকে পানি প্রবেশ করছে। এতে আশপাশে দোকান পাট ও মার্কেটে পানি জমেছে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এ অবস্থা বিরাজ করছে গত সোমবার থেকে। কাঁচা বাজারসহ প্রায় এক হাজারে বেশি দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক দিয়ে পায়ে হাঁটা ও গাড়ি চলাচলের অবস্থা নেই।

প্রবীণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে সে পানি আর নামতে পারে না। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সড়কে পানি জমার প্রধান কারণ। 

চকবাজার কাঁচাবাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, তিন দিন ধরে ক্রেতা নেই। দোকানে পানি প্রবেশ করায় অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আশপাশে প্রায় এক হাজারের বেশি দোকানে পানি ঢুকেছে। রাতে পানি ঢোকায় পণ্য নষ্ট হয়েছে। 

দুপুরে চক সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানিপ্রবাহের বাধা অপসারণ করছিলেন চসিকের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির ইসলাম ফারুক। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, পানি চলাচলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাসাবাড়ির ময়লাভর্তি পলিথিন। দোকান বা মার্কেটের সামনের এ ধরনের পতিবদ্ধতা যদি ব্যবসায়ীরা দূর করে দেন, তাহলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। প্রত্যেকের নাগরিকের দায়িত্ব পালন করা উচিত। 
জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ। সারা দিন সড়কে যানবাহন কম থাকায় বেশি ভাড়া আদায় করেছে গণপরিবহনগুলো।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরপরও জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে আমাদের ৩০ বছর আগের সময়ে ফিরে যেতে হবে। সে সময় চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা হতো না। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে পাহাড় কাটা, খাল দখল, অবৈধ ভবন নির্মাণ করে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছিল। প্রকল্পের কাজ করার সময় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভবন ভাঙা হয়। হিজড়া খালের সংস্কারের সময়ও ১০৬টি ভবন ভাঙা হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’ 

তিনি জানান, চট্টগ্রামে বিভিন্ন খালের মুখে ৩৯টি জলকপাট স্থাপন করা হয়েছে। যার অনেকটি এখনো সচল হয়নি। এসব জলকপাট পুরাপুরি সচল থাকলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা সিডিএর কাজ নয়। সিডিএর প্রধান কাজ অবকাঠামো উন্নয়ন করা। সিটি করপোরেশনসহ সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে সিডিএ।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ চার দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা হচ্ছে শুধু পানি চলাচলে বাধার কারণে। তদারক করতে আমাদের ৬ সদস্যবিশিষ্ট ১৬টি টিম কাজ করছে।’ 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। সকালে বঙ্গোপসাগরে জোয়ার ছিল ৪ দশমিক ৫২ মিটার, যা বাতাস ও বৃষ্টিতে বৃদ্ধি পেয়ে আরও দুই মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে মারাত্মক পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, মেঘ বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম ও আশপাশ অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিন দিনের প্রায় ৭৬৮ দশমিক ৩ (বেলা ৩টার হিসেবে) মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে গত সোমবার থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এবার কিছু নতুন এলাকাতেও পানি জমেছে। নগরীর নিউ মার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার এবং আগ্রাবাদ, পাঠানটুলিতে পানি জমেছে। মুরাদপুরের জলাবদ্ধতা ছিল দীর্ঘদিনের সমস্যা। সিডিএর মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানে খাল খনন ও সংস্কার করার ফলে গত বছর মুরাদপুরে জলাবদ্ধতা হয়নি। কিন্তু গতকাল সকালে সেখানে ফের জলাবদ্ধতা হয়েছে। 
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানায়, নালা ও খালগুলো পরিষ্কার রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালছে। গতকাল রাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম গঠন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কন্ট্রোল রুম খুলেছে চসিক। 

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরীতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ, সাধারণ মানুষ খুবই কষ্ট পেয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে বলেকয়ে আসে না। আমি নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা যেন সবাই ধৈর্য ধারণ করি। চট্টগ্রামে একসময় পাহাড়ধস হতো। সবাই সাবধানে থাকার কারণে এখনো পাহাড়ধস হয়নি। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে ভারী বর্ষণে কেউ বাইরে যাবেন না। গতকালসহ আগের তিন দিনে প্রায় সাড়ে ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছি।’ 

সঞ্চয় লুট, শেষ হলো বাকপ্রতিবন্ধী ববির লড়াই

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
সঞ্চয় লুট, শেষ হলো বাকপ্রতিবন্ধী ববির লড়াই
ববি বেগম/ ছবি: খবরের কাগজ

নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনে ২৫ বছর ধরে ববি বেগম নামে এক ৭০ বছরের বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্টেশনের একটি ছোট কক্ষেই ছিল তার বসবাস। ছিল না কোনো আত্মীয়স্বজন। বয়সের ভার ও বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন।

সামান্য বেতন ও যাত্রীদের সহযোগিতায় চলত তার জীবন। কিন্তু গত শনিবার রাতে এক নির্মম ঘটনার মধ্য দিয়ে ববি বেগমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। এ সময় তার দীর্ঘদিনের জমানো সঞ্চয়ের টাকা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। আহত ববিকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার এস এম জসিম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর আগে ববি বেগম এই স্টেশনে আসেন। তখন থেকেই তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। হঠাৎ তার ওপর হামলা ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত  সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।’

এ ঘটনায় গত সোমবার সহকারী স্টেশনমাস্টার শাহীন মিয়া ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন।  এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘এ মানবিক ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই রাতে একটি সিএনজিযোগে দুর্বৃত্তরা আসে। তবে কারও মুখ পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা যায়নি। শুধু একজন ব্যক্তির আংশিক চেহারা দেখা গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধা তিন দিন ধরে

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানবিক দিক বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ ববি বেগমের পাশে দাঁড়ানোর হয়। তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পাশাপাশি জীবনের বাকি সময় তিনি যেন স্টেশনের ওই কক্ষেই নিরাপদে থাকতে পারেন সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’