আওয়ামী লীগের আমলে ভূমিদস্যু সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিনের ভাগ্নে মামুন ও সাবেক কাউন্সিলর জসিম পাহাড়ের সীমাহীন ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টায় চশমা হিল মেয়র গলির এয়াকুব আলী মসজিদের শেষ মাথায় বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড়ধসের স্থান পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় তিনি পাহাড়ধসে মারা যাওয়া শিশু সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন।
পাহাড়ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, ‘এর আগে অনেকে পাহাড় কেটেছে। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাগিনা মামুন পাহাড় কেটে এখানে অনেক বসতি করেছে। অপরদিকে নগরের আকবরশাহ এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর জসিম পাহাড় কেটেছে। এ ধরণের অবৈধ কাজ করেছে। আমরা চাই না এ ধরনের সন্ত্রাসী মামুন বা জসিমের আর কোন জন্ম হোক‘’
তিনি বলেন, গত ১৮ থেকে ২০ মাস আমি মেয়র হয়েছি, আপনারা দেখেছেন কোনো ধরণের পাহাড় আমরা কাটতে দিইনি। এখনও আমরা বদ্ধপরিকর, কাউকে পাহাড় কাটতে দেব না। পাহাড় কাটার কোো প্রমাণ কেউ যদি আমাদের দিতে পারেন, সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএফআরআইয়ের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ছোট ছোট কলোনি গড়ে উঠেছে। একেকটি কলোনিতে কয়েকটি পরিবার বসবাস করে। তারাই ধীরে ধীরে পাহাড় কাটেন। পাহাড়ের নিচের অংশ এমনভাবে কেটে দেওয়া হয়, যাতে বর্ষাকালে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই তা ধসে পড়ে। এভাবে বিএফআরআইয়ের পাহাড়টি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়টি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় এর প্রতি অনেকের লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। নিম্ন আয়ের লোকজন এখানে বসবাস করে সহজেই কাজে যেতে পারেন। বিএফআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাহাড়ের চারপাশে অবৈধ দখলদারের উৎপাত শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে পাহাড়ের চারপাশে বহুতল ভবনের সংখ্যা বাড়ছে।
অতীতে দেখা গেছে, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে সংস্থাটির কতিপয় কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন। এদের অনেকেই অবসরে গেছেন। এ কারণে নির্বিঘ্নে পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণ করতে পেরেছে অবৈধ দখলদাররা। ৫ আগস্টের পর দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়েছেন। কেউ আত্মগোপনে চলে গেছেন। কিন্তু বিএফআরআইয়ের পাহাড়ের অবৈধ দখলদাররা এখনো রয়ে গেছে।
ইফতেখারুল ইসলাম/আজহার/