চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের চাম্বল ও নাপোড়া ছড়ার পানিতে পুরো এলাকা ৪ দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে গেছে।
ঢলের পানিতে শেখেরখীলের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ঘাট ও কালভার্ট তলিয়ে গেছে এবং অনেক রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারি বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।
উপজেলার নাপোড়া বাজার থেকে শেখেরখীল দারুচ্ছালাম মাদরাসা পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। দুই বছর আগে সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ঠিকাদারের কাজের অনিয়ম ও নিম্নমানের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকবার প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালে নাপোড়া শেখেরখীল হাইস্কুলের দক্ষিণে যে স্থানে রাস্তা ভেঙেছিল, ঠিক একই জায়গায় এ বছর আবারও ভেঙে পুরো হিন্দুপাড়া প্লাবিত হয়েছে। এতে বর্তমানে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়াও পুকুর ও জলাশয় ডুবে গিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে মৌলভীবাজার পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও নাজুক। প্রতি ৩০-৪০ গজ পরপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, দ্রুত পানি নিষ্কাশন, সড়ক সংস্কার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শফকত চাটগামী/অদিতি/